আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / ‘আশরাফুল মাকলুকাত’ (সৃষ্টির সেরা)

‘আশরাফুল মাকলুকাত’ (সৃষ্টির সেরা)

ফকির উয়ায়ছী:
 
‘আশরাফুল মাকলুকাত’ (সৃষ্টির সেরা)। সৃষ্টির সেরা একটি টাইটেলটি। এটি একমাত্র মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। জন্ম সূত্রে মাখলুক হয়। আশরাফ (শ্রেষ্ঠ) হয় স্বভাব, চরিত্রে উত্তম হতে পারলেই সৃষ্টির সেরা হওয়া যায়। সমাজে নানা পশু স্বভাবের লোক বিদ্যমান। উদাহরণ সরূপ বলা যেতে মালিকের চিৎকার চেচামেচির জন্য কোন ভিক্ষুক ভিক্ষা নিতেও যেতে চায় না। বলে বাড়িওয়ার ব্যবহার পশুর মতন। পশু স্বভাবের লোকটি তো সৃষ্টির সেরা হবে কি করে? তার পশুত্ত্ব যার মধ্যে বিদ্যমান। কাজেই আমি মনে করি “আশরাফুল মাকলুকাত” এই টাইটেলটি অবশ্যই প্রত্যেকটি মানুষের অর্জন করা বাঞ্ছনীয়। প্রতিটি মানুষের অবশ্যই মনে রাখা অতি আবশ্যক যে, আল্লা প্রদত্ত বুদ্ধি (জ্ঞান) আমাদেরকে ইহ জগতেই ব্যবহার করে সঠিক বিচার করেই চলতে হবে। কারণ, পরজগতে আমাদের জ্ঞান কোন কাজেই আসবে না। আল্লা এবং রাছুলের বীধি-বিধানের জন্য কোরআনের সাহায্য নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। কিছু অন্যায় বিধান রাছুল সা. এর ওফাতের পর থেকে চলে আসছে সেগুলি যত শত বৎসরই হোক না কেন, ভুল সেতো ভুলই। আমার জ্ঞানে যদি ভুল হয় এবং সেই মিথ্যাকে সত্য হিসাবে মেনে নেই তবে, আল্লা আমাকে সঠিক জ্ঞান ব্যবহার না করার জন্য শাস্তিও দিতে পারেন।
 
সেইসব ভুল বর্জনের জন্য যদি আলেম সাহেবগন আমার উপর সন্তুষ্ট না হয়; এতে আমার কিছু আসবে যাবে না। আল্লা সন্তুষ্টি আমার একমাত্র কাম্য। আমাদের তরিকতে প্রথম বানী:
{“একেলা থাকিতে যদি হয় দুনিয়াতে, তবুও ছাড়িবনা ফেল কোরআনের সাথে।”}
 
কারণ আল্লা কোরআনে একাধিক বার বলেছেন কাহারও বুঝা কেউ গ্রহন করবে না। এছাড়া সত্যের সাথ দেওয়ার প্রতি জোড় তাগিদ দিয়েছেন। ৪:১৩৫# “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।” বিশ্ব মানবের সাফায়্যাতকারী আমাদের রাছুল সা. এবং আমরা সকলেই তাঁরই উম্মত দ্বাবীদার সেহেতু আমাদের সবারই উচিৎ নবীজীর পথটাই অনুসরণ করা। যদিও এইসব নির্জলা সত্য বললে কেউ গ্রহন করবে না। এবং আমারও কোন লাভ হবে না। তবুও আমি বলছি। কারণ, অন্তত আমার মত দু-একজন মানুষ সত্য গ্রহন করতে ইচ্ছে করলে তাদের যেন জানতে সুবিধা হয়। আল্লা কোরআনে কোথাও বলেন নাই অমুক দেশের মানুষ, অথবা জাতিকে অথবা অমুক ব্যক্তিকে অনুসরণ করলেই বেহেস্ত পাওয়া যাবে। অনুরোধ রইল পাঠকগনের কাছে আমাকে ভুল না বুঝার জন্য। যেহেতু আল্লা কোরআনে সুরা মায়ীদাতে ওসিলা তালাশ করতে বলেছেন অবশ্যই ওসিলা তালাশ করতে হবে। এবং সূরা বনি ইসরাইলের ৭১ নং আয়াতে আল্লা বলেছেন আমি প্রত্যেকে তার নেতা সহ আহবান করবো। সেহেতু নেতা নির্ধারন অবশ্যই করতে হবে। এতে কারও দ্বিমত হওয়ার কোন কারণ নাই। তবে অবশ্যই তার কাছে যেতে হবে যে কিনা আমাদের আল্লা এবং রাছুল এর পথ অনুসরণ করতে শিক্ষা দিবে এবং আল্লা সাক্ষাত্য লাভের উপায় জানাতে সাহায্য করবেন। এমন অনুসারীদের কাছে যেতে হবে, যেমন আল্লা কোরআনে উল্লেখ করেছেন সূরা ইয়াসিন এর ২১ নং আয়াতে “অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চায় না এবং তারা নিজেরাও রয়েছে সৎপথে।” আলেম সাহেবেরা তো শুধু বেহেস্তের হুরের এবং ভাল ভাল খাওয়ার আশায়ই এবাদত বন্দেগি করার লোভ দেখান।
যদিও এই সব পুরানো কথা আমার পূর্বে অনেক জ্ঞানীগুনীগন উল্লেখ করে গেছেন তাদের লিখিত পুস্তকে কিন্তু এই সব এখন দুষ্প্রাপ্য আমাদের তরুন সমাজের নিকট। সত্য মিথ্যা নিজ জ্ঞানে বিবেচনা করলেই এবং কোরআন হাদিসের সাহায্য নিলেই সত্য সঠিক পথ পেথে নিজেদের সাহায্য হবে এবং অন্যকে বিপথগামীতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। সর্বশেষে আবারও বলছি নিজের পরিশুদ্ধ করে ‘আশরাফুল মাকলুকাত’ (সৃষ্টির সেরা) এর হকদার হোউন।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *