ফকির উয়ায়ছী:
রাছুল সা. মওলা আলী হলেও ক্ষমাতা অর্পনে মারেফতের বাদশা বানিয়ে দিয়ে গেল উম্মতে মুহাম্মদির জন্য। কিন্তু মারেফত এখন ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয়েগেছে। লালন সাঁইজি গত হয়েছেন আনুমানিক ১২৮ বৎসর। তিনি হয়তো শিক্ষা দিয়ে গেছেন খুব বেশী হলেও ৭০বৎসর এর অধিক হওয়ার কোন সুযোগ। ধরুন সাঁইজির এই বচনের বয়স ২০০ বৎসর। না হয় ২০০ বৎসর যাবৎ চলছে “যে মুরশিদ, সেই তো রাছুল, খোদাও সে হয়”। সাঁইজির কথার ভুল ব্যাখ্যা করেছে কিছু স্বার্থানেষী মানুষ। এই কথার উদাহরণ দিয়েই ভ্রান্ত আকিদার মানুষ মারেফত নামের ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের এই ভ্রান্ত আকিদার কাছে যে যত সত্য বা কোরআন সম্মত কথাই বলুক দলে ভারী হওয়ার কারণে ধোপে ঠিকে না। মূর্খ, মুচি, জন্ডাল পঞ্চরস সেবনকারীদের কথা বাদ দিলেও শিক্ষিত লোকগুলির মাথাতে এটা কেন আসে না? লালন সাঁইজির আগে যারা ছিলেন তারা এই কথা বলেন নাই। বরং মনসুর হাল্লাজ বলেছেন “আনআল হক”। বলেননি মুরশিদ হক। ভ্রান্ত পিরের দল “যে মুরশিদ, সেই তো রাছুল, খোদাও সে হয়” এই বাক্যটিকে পির ব্যবসার পুজি বানিয়েছে। (“যে মুরশিদ, সেই তো রাছুল, খোদাও সে হয়”) এই কথাটি পুরাপুরি কোরআন বিরোধী। সূরা মায়িদার ৫:১৭ এবং ৫:৭৩ আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। লালন সাঁইজি কোরআন বিরোধী কোন কথা বলতে পারেন না। আমার দাদা মুরশিদ বলতেন লালনের গান কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা। সিরাজ সাই ওফাতের পরে লালন সাঁইজি যে গুরুর কাছে শিক্ষা/দীক্ষার জন্য বায়াত হয়েছিলেন। তিঁনি ছিলেন উয়ায়ছী তরিকতের গুরু। সেখান থেকেই খেড়কা পেয়েছিলেন সাঁইজি। সেখান থেকেই খেড়কা প্রথা লালন সাঁইজি চালু করেছেন। উয়ায়ছী তরিকত ব্যতীত খিড়কা প্রথা আর কোন তরিকতে নাই। লালন সাইজির গানের কিতাব লেখক আব্দেল মান্নান সাহেবের সাথে আলোচনা করেছি। উনি বললেন লালন সাঁইজির তরিকত হচ্ছে ওয়াহেদানিয়াত তরিকত। কতক্ষন হাসলাম। তার কথা শুনে বললাম ভাই ওয়াহেদানিয়াত যদি তরিকত হয় তবে যে লোকটা আজ বায়াত হবে সেই তো ওয়াহেদানিয়াতের জ্ঞান পাবে তাই নয় কি? উত্তরে তিনি বললেন। আবারও হেসে বললাম ভাই চিন্তা করে দেখবেন। ওয়াহেদানিয়া হচ্ছে আল্লা প্রদত্ত জ্ঞান। যে জ্ঞান অর্জন করতে মানুষের বছরের পর বছর লেগে যায়। আর আপনাদের তরিকতের অন্তর্গত হলেই সাথে সাথে এই শিক্ষা শুরু!
একজন সালেক শিক্ষার্ত্রী যখন শিক্ষা নেওয়ার জন্য ভর্তি হয়। তখন সে থাকে একটা ময়দার বস্তার রূপ। এই ময়দার দিয়ে নানান খাদ্য দ্রব্য বানানো হয়। এই ময়দা দিয়ে সবচেয়ে দামী খাদ্য বস্তুটি বানানো যায় সেটি হচ্ছে কেক। কেকটাই হচ্ছে ওয়াহেদানিয়াতের জ্ঞান পাওয়ার যোগ্য অবস্থান। আর আপনার কথায় বুঝা যাচ্ছে শিক্ষার্ত্রী হলেই ওয়াহেদানিয়াতে দাখিল হলো। আবদেল মান্নান সাহেব বললেন আমি ইন্ডিয়া যাবো একটু ব্যস্ততার মধ্যে আছি এই বিষয়ে পরে আলাপ করবো। সে আলাপ আর করার ইচ্ছা জাগে নাই আমার মনে। বিষয়টা চিন্তা করার জন্য পাঠকদের উপরই ন্যাস্ত রইল।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
