ফকির উয়ায়ছী:
মুসলমান শব্দটির অর্থ ‘আত্মসমর্পনকারী’। শুরুতেই বলতে হয় ঈমান যার কঠিন মজবুত একমাত্র তারাই মুসলমান হওয়ার যোগ্য হতে পারে। মুসলমান অর্থাৎ-‘আত্মসমর্পনকারী’ শব্দটি পূর্ণতা পাওয়ার জন্য কারো কমপক্ষে দুটি সত্ত্বার উপস্থিতি প্রয়োজন। একা একা আত্মসমর্পন করার কোন উপায় নাই। নুন্যতম একজন মানুষের সম্মুখ্যে ব্যতীত আত্মসমর্পন কাজটি সম্মন্ন হয় না। পরিষ্কার হওয়ার জন্য ছোট একটু ব্যাখ্যা। ধরুন আপনার দরজার বাইরে থেকে বন্দুকের গুলির আওয়াজ শুনতে পেলেন মাইকে বলা হলো ঘরে যারা আছেন সকলেই আত্মসমর্পন করে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসুন। জীবন বাচানোর তাগিদে মোটামুটি সবাই বের হবে। বের হয়ে যদি দেখেন একটা আনসার হাতে বন্দুক নিয়ে দাড়িয়ে আছে তবে কি হাত নামানোর সাহস পাবেন? আমার সাহস অনেক কম হাত ব্যাথা হয়ে গেলেও হাত নিচে নামাবো না। কিন্তু এমন করেই গুলির আওয়াজ শুনে মাইকে যদি বলে আমি আর্মির মেজর জেনারেল বলছি ঘরে যারা আছেন সকলেই আত্মসমর্পন করে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসুন না হয় গুলি করতে বাধ্য হবো। ঘর থেকে হাত উঠিয়ে বের হয়ে দেখলে সামনে কেউই নাই। তখন কি করবেন? নিশ্চয়ই লজ্জা পেয়ে ডানে বায়ে তাকিয়ে বলবেন কেউ কেমন বোকাটাই না হলাম। আশা করি বুঝতে পারছে আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। সামনে কেউ না থাকলে আত্মসমর্পন তেমন হয়। মুখে মুখে আত্মসমর্পন করেছি কথাটা বোকার বচন। একে অপরের কাছে আনুগত্য (নতিস্বীকার) করা ছাড়া আত্মসমর্পন করা যায় না। স্ব-ইচ্ছায় আনুগত্যের মাধম্যে আত্মসমর্পন করা ব্যতীত মুসলমান (আত্মসমর্পনকারী) হওয়ার কোন উপায় নাই।
আল্লা তো বলেছেন আমি প্রতিটি মানব সন্তানকে ইসলামের ফিৎরাতের উপর সৃষ্টি করেছি। তবে কেন এত বিভাজন হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ মুসলমান নানান জাতের প্রথায় বিভাজন। বিভাজন আমাদের দ্বারা সৃষ্ট। এখানে গভীর চিন্তার বিষয় আছে।
হিন্দুর ঘরে জন্ম হলেই হিন্দু, বৌদ্ধের ঘরে বৌদ্ধ, খৃষ্ঠানের ঘরে খৃষ্ঠান, কিন্তু মুসুলমানের ঘরে জন্ম নিলে মুসলমান হয়। অধিকাংশই চিন্তা করে না সবই আল্লার সৃষ্টি এবং আল্লাই বলেছেন আমি প্রতিটি মানব সন্তানকে ইসলামের ফিতরাতে উপর সৃষ্টি করেছি। আল্লা মানব সৃষ্টির মাঝে কোন ভেদাভেদ করেন নাই। আল্লা পবিত্র কোরআনে ইমানদারদেরকে ডাক দিয়ে বলেছেন তোমরা মুসলাম না হয়ে মরো না। আয়াতে কারীমে নারী-পুরুষের মধ্যেও আলাদা ভাবে কিছু বলা নাই। খেয়াল করে দেখবেন বিধর্মীদের বলেন নাই মুসলাম হতে। ইমানদারগন স্ব-ইচ্ছায় মুসলমান হতে বলেছেন। ছেলেদের জোর করে ধরে খতনা করালেই মুসলমান হওয়ার সুযোগ নাই। যাকেই যে বয়সেই খতনা করা হোউক না কেন, যাকে খতনা করানো হয় সেটা জোর পূর্বকই করানো হয়। খতনার রসম নিতান্তই শারীরিক সুস্থতার জন্য করা হয়। বর্তমানে শতকরা প্রায় ৯৮ খৃষ্ঠানের খতনা করা হয়। তার মধ্যে ৯০ জনের জন্মের সাথে সাথে খতনা করানো হয় বিদেশীদের আর বাকী ৮ জনকে নানান সময়ে করা হয়। মুসলমান শব্দটি নর-নারীর জন্যেও আলাদা নয়। খতনা করলেই মুসলমান বিশ্বের এমনও দেশ আছে যেখানে নারীদেরকেও খতনা করানো হয়। ইসলামের ইতিহাস পড়লে দেখা যায় স্ব-ইচ্ছায় খতনা করেছেন এবং নিজের খতনা নিজে করেছেন তিঁনি হলেন ইব্রাহিম আ.। আনুমানিক ৮২ বৎসর বয়সে নিজে একা একাই নিজের খতনা করেছিলেন।
কোরআনের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় ২২:৭৮ আয়াতে আল্লা বলছেন ইব্রাহিম আ. হচ্ছে মুসলমানদের জাতির পিতা। তিঁনি আমাদের মুসলমান নাম করণ করেছেন।
৩:১০২# “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”
২:১৩২# “এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।”
উপরোক্ত আয়াতগুলি ভাল করে পড়লেই বুঝা যাবে মুসলমান শব্দটি একটি উপাধি না হয় ইব্রাহিম আ. তার পুত্রদের এই কথা বলার পিছনে কি যুক্তি থাকতে পারে? যেখোনে ইব্রাহিম আ. মুসলমানের জাতির পিতা। এটা অর্জন করতে আর ইমানদারগনই পারে অর্জন করতে। ভাল করে চিন্তা করার অনুরোধ। নারী-পুরুষ উভয় ইমানদারদের প্রতি আল্লার আহবান মুসলমান হও মৃত্যুর আগে। বিধায় মুসলমান হওয়া ব্যতিত মৃত্যু বরণ করলে আল্লার হুকুম অবমাননার দায়ে জাহান্নাম অবধারিতই আমি মনে করি। যেহেতু আল্লা কোরআনে একাধিক বার বলেছেন যার যার বোঝা তাকেই বহন করতে হবে। এমনকি অন্য আয়াতে সতর্ক করেছেন:
৪:১৩৫# “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।”
কাজেই সময় থাকতে চিন্তা করুণ মুসলমান হতে চেষ্টা করুণ যারা নিজেদের ইমানদার ভাবেন। আমল দিয়ে মুসলমান হওয়ার কোন সুযোগ নাই। ইমানদারগন সঠিক প্রথা মেনেই মুসলমান হওয়ার পথ খুজে নিন।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
