ফকির উয়ায়ছী:
এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান করবেন এই কথাটা একাধিক আয়াতে আল্লা বলেছেন। এই আয়াতটি বার বার আমাদের সতর্ক করার জন্যই আল্লা বলেছেন এটা সকলেই বুঝে এবং মানে। তবে মানার ধরণটা জাতি ধর্মভেদে আলাদা আলাদা। কোন ধর্মে কিভাবে মানে সেটা পুরাপুরি ভাবে না জানলেও মুসলমান ধর্মে কিভাবে মানতে হবে সেটা বুঝার চেষ্টা তো করতেই হবে। যেহেতু ইসলামের মধ্যে দুটি মতের অনুসারী আছে একটি হচ্ছে শরিয়ত পন্থি। অপরটি হচ্ছে মারেফত পন্থি। যদিও সঠিক ইসলাম বুঝতে হলে শরিয়ত এবং মারেফত উভয় জ্ঞানেই জ্ঞানী হওয়া প্রয়োজন। যাই হোউক আমি আমার আলোচ্য বিষয়ের উপর কোরআনে বর্ণিত আয়াতগুলি উল্লেখ করছি নিন্মে:
৬:৩৬# তারাই মানে, যারা শ্রবণ করে। আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করে উত্থিত করবেন। অতঃপর তারা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
৭:২৫# বললেনঃ তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত হবে।
৭:৫৭# তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হ্যাঁকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব-যাতে তোমরা চিন্তা কর।
১০:৪# তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল।
১৬:৩৮# তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না।
১৭:৫১# আমাদের কে পুর্নবার কে সৃষ্টি করবে।
২২:৭# কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।
২৩:১৬# অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে।
২৭:৬৭# কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?
২৯:২০# অতঃপর আল্লাহ পুর্নবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
৩০:১৯# তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বহির্গত করেন জীবিত থেকে মৃতকে বহির্গত করেন, এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এভাবে তোমরা উত্থিত হবে।
৩০:২৫# অতঃপর যখন তিনি মৃত্তিকা থেকে উঠার জন্যে তোমাদের ডাক দেবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে।
৩০:৪০# আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিযিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন।
৩০:৫০# আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
৩১:২৮# তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।
৩২:১১# অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
৩৬:১২# আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি।
৩৬:৫১# শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।
৪২:৯# তিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
৪৩:১১# যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন পরিমিত। আতঃপর তদ্দ্বারা আমি মৃত ভূ-ভাগকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। তোমরা এমনিভাবে উত্থিত হবে।
৪৫:২৬# আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
৪৬:৩৩# তিনি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?
৫০:৪৩# আমি জীবন দান করি, মৃত্যু ঘটাই এবং আমারই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন।
৫৩:৪৭# পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই।
৫৪:৭# তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পংগপাল সদৃশ।
৫৮:৬# সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন।
৬৪:৭# কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে।
৬৭:১৫# তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।
৭০:৪৩# সে দিন তারা কবর থেকে দ্রুতবেগে বের হবে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
৭১:১৮# অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন।
৮০:২২# এরপর যখন ইচ্ছা করবেন তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।
৮৩:৪# তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।
উপরোক্ত আয়াতগুলি দ্বারা শরিয়তের অনুসারীগন সোজাই পরকাল বুঝেন। সাথে সেখানেই আল্লার সাক্ষাত পাবার আশা করেন। যদিও তারা বলেই চলছে আল্লা অদৃশ্য এবং নিরাকার। শরিয়তের অনুসারীদের নিয়ে আমার কোন আলোচনা নাই। এখন ভীন্ন ধর্মের অনুসারীরা বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের কথা একটু আলোচনা আনতে হয়। হিন্দু ধর্মে পুনরুত্থান বলতে তারা বুঝে একই রুহুকে তাদের ভগবান একে একে ৭বার দুনিয়ায় প্রেরন করেন। এমনকি হিন্দু ধর্মের কিতাব ভগবত গীতায় ছবি সহ তারা প্রচার করেছেন বুঝাতে চেষ্টা করেছেন গরু আর কসাইয়ের ছবি দিয়ে গরুর ঘারে কসাইয়ের মাথা আর কসাইয়ের ঘারে গরুর মাথা। কারণ গরুটা মৃত্যুর সময় কসাইয়ের চেহারা দেখে মরে তাই গরুর পুনরুত্থান হবে কসাই হয়ে আর কসাইয়ের পুনরুত্থান হবে গরু হয়ে। এই চক্র যদি চলতে থাকে তবে গরু এবং কসাই এর বাইরে যেতে পারার কোন সুযোগ নাই। মনে করি তাদের ভগবান প্রথমে ফ্রেস একটি রুহু গরুতে স্থাপন করে পাঠালেন আর একটি ফ্রেস মানুষ (কশাই) রূপে পাঠালেন। প্রথম গরু মারা গেলো কসাইয়ের ছুড়িতে পরবর্তী জন্মে গরু কসাই হয়ে আসলো এই ভাবে সাত জনমের হিসাব করলে দেখা যায় সপ্তমবার গরু আবারও গরু হয়েই আসবে আর কসাই মানুষ রূপেই আসবে। যদিও খুবই সাধারন বিষয় তবুও প্রথম আর সপ্তম জন্ম লক্ষ করে দেখুন মানুষ এবং গরু একই অবস্থানে আছে। একের অধিক বেজর সংখ্যা যতবার জন্মের কথাই বলা হোউক ফলাফল প্রথম জন্মের মতনই হবে। কাজেই জন্ম একাধিক বার টানা আর গাধার খাটুনি সমান।
প্রথম= মানুষ (কসাই) – গরু
দ্বিতীয়= গরু – মানুষ (কসাই)
তৃতীয়= মানুষ (কসাই) – গরু
চতুর্থ= গরু – মানুষ (কসাই)
পঞ্চম= মানুষ (কসাই) – গরু
ষষ্ঠ= গরু – মানুষ (কসাই)
সপ্তম= মানুষ (কসাই) – গরু
হিন্দুদের ধর্মে যা বলে বলুক সেটাতে আমার কোন আপত্তি নাই। হিন্দুরা যদি তাদের ভগবানকে অভাবশূন্য মনে করতে না পারেন তবে মুসলমানদের কি বলার থাকতে পারে। আমাদের জন্য কোরআন যা বলে সেটাই সর্বত্তম এবং পালনীয়।
মারেফতের অনুসারীগনের মধ্যে যখন দেখা যায় হিন্দুদের মত পুনরুত্থানের চক্রে বিশ্বাসী হয়ে যায় এবং পালন করে তখন বড় লজ্জা লাগে হিন্দুদের মতন তারাও আল্লাকে অভাবশুন্য (অমুখাপেক্ষী) মনে করতে পারে না। আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লা সামাদ অর্থাৎ নিষ্প্রয়োজন মনে করে না। আর যারা আল্লাকে সামাদ মনে করে না তাদের মুসলমান দ্বাবী করা কতখানী যুক্তিযুক্ত আমার মনে বিশাল প্রশ্ন? একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি পাঠকগনদের সাথে। আমরা কয়জন গত ১৫ই নভেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম নক্সাবন্দীয়া মোজাদ্দেদীয়া তরিকতের এক খানকা শরীফ শম্ভুগঞ্জে। বাংলাদেশের বিশাল নাম ডাক ওয়ালা খানকা। বাংলাদেশের ৫ জেলায় তাদের অগাদ সম্পদের উপর বিশাল বড় বড় খানকা অবস্থিত। বেড়াতে বেড়াতে গিয়ে হাজির হলাম ছোট আওলাদ সাহেবের সামনে। তিনি বললেন আমার কিছু রোগী আছে আমি তাদের সাথে কাজ সেরে আপনাদের সাথে কথা বলবো। আমরা বললাম আমাদের দেখা শেষ আমরা চলে যাচ্ছি। তিনি আসতে দিলেন না। তিনার জোর আতিথেয়াত্ত্বের অপেক্ষা করতেই হলো। কিন্তু প্রথমেই যেয়ে যা দেখালাম ছোট আওলাদ সাহেব একটি চেয়ারে বসা দুই দিক থেকে দুইজন মাটিতে বসে পা টিপে দিচ্ছেন আর একজন পিছনে দাড়িয়ে ঘার টিপে দিচ্ছেন। রোগী কোনটা বুঝতে আমাদের কষ্টই হলো। তারপর তিনি এসে আমাদের একটি ঘরে নিয়ে এলেন। আমাদের সাথে এক বিজ্ঞ হিন্দু লোকও ঢুকলেন। পেশায় একজন সাংবাদিক। পীর সাহেবের সাথে কথা বলছি হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাহেব বলে উঠলেন। পর জনম সাত জনমের কথা। আমি তখন আর কিছু বললি নাই তাকে। সেখানে তাদের ৩/৪জন মুরিদ ছিলো। অবশ্য আমি তিনাকে আগেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই ছেলেদের সামনে আমরা জানার জন্য যে কোন প্রশ্ন করতে পারি কিনা? তিনি বলেছিলেন কোন অসুবিধা নাই। কথার চলার এক পর্যায়ে পীরের ধ্যান নিয়ে আলোচনা শুরু হলো তখন ছোট আওলাদ সাহেব সময় নেই বলে উঠে চলে গেলেন বিদায় জানানোর সৌজন্য বোধটুকুও রক্ষা করতে ভুলে গিয়ে নিজে বিদায় নিলেন। পরে হিন্দু লোকটির সাথে কথা বলে জানতে পারলাম হিন্দুদেরও হিন্দু অবস্থায় বায়াত করেন মুসলমান হতে হয় না। হিন্দুদেরও খেলাফতের মতন ব্যবস্থা আছে। বের হয়ে আসার সময় হিন্দু লোকটিকে বলতে বাধ্য হলাম আপনাদের ভগবান কাঙ্গাল হলে হতেও পারে। সঠিক মুলমানদের আল্লা অভাব শুন্য সামাদ অমুখাপেক্ষি এক রুহকে বার বার দুনিয়ায় প্রেরন করার দরকার পরে না। এই লেখাটি শেষ করার আগে মারেফতের সে সব অনুসারীরা যারা হিন্দুদের মতন করে পূণর জন্মে বিশ্বাসী তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। আপনাদের বর্তমান অবস্থা মানুষ হলেও আপনাদের বিশ্বাস অনুযায়ী পূর্ব জনমে পশু ছিল। তবে সে পশুটা কোন ধরনের জীব ছিলো খোজ নেওয়া উচিৎ। যেহেতু আপনি এই দুনিয়াতে আধ্যাতিক শিক্ষা দিচ্ছেন। মানুষ আপনাদের কাছে যাচ্ছে “নিজকে চেনার জন্য”। আপনি যদি নিজের খবরই বলতে না পারেন তবে মানুষ কি পাবে আপনাদের কাছে? আর যেহেতু মুক্তি না পাওয়ার পর আল্লা আর পাঠাবেন না। সে মতে আপনার পীর সাহেবও পাপীষ্ঠ। একজন পাপীষ্ঠের হাতে বায়াতে জাহান্নামী হওয়া ছাড়া উপায় নাই। আল্লার সামাদ নামটা অর্থ সহ স্মরণ করার আহবান জানাচ্ছি অবুঝ নির্বোধদের চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে। মারেফতের বিভ্রান্ত লোকগুলি বার বার আসার ইচ্ছা পৌশন করেন বলেই আকাম বেশী করেন। যদি আল্লা সে সুযোগ দিবেন না নিন্মের আয়াতগুলি পঠনে ষ্পষ্টই বুঝা যায়।
৬৩:৯# মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
৬৩:১০# আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
৬৩:১১# প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।
মুসলমান অনুসারীদের প্রতি অনুরোধ আল্লার শান মানের দিকে দৃষ্টি দিতে। এবং আল্লার রৌশানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আহবান জানাচ্ছি।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
