আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / নবীর আহাল (ঘরের অধিবাসী) বা আহলে বায়াত কে কে জানা জরুরী

নবীর আহাল (ঘরের অধিবাসী) বা আহলে বায়াত কে কে জানা জরুরী

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে তা আলোচনা করা জরুরী কারণ হাদিস দিয়ে হুজুর সাহেবরা দ্বাবী করেন তারা আহলে বায়াত এবং সেই সাথে ভ্রান্ত কিছু সূফী সাহেবরাও নিজেরা নিজেদের আহলে বায়াতের অন্তর্ভূক্ত করার সুযোগ ছাড়েন না। কিন্তু আল্লা পবিত্র কোরআনে আহলে বায়াতদের পুত-পবিত্র করে নিয়েছেন। এই পুত-পবিত্র মানে হচ্ছে, আল্লা যাদের পবিত্র করে নিয়েছেন তারা কোন ক্রমেই অপবিত্র হবেন না। সূরা আহযাব ৩৩:৩৩ আয়াত “হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” এই আয়াতে বুঝা যায় আল্লা যাদের পবিত্র করে নিয়েছেন তাদের অপবিত্র করার সাধ্য কারোরই নাই। সে সাথে নবী করিম সা. বলেছেন, মুসলিম শরীফের-৬০৪৫নং হাদিসে এর মাঝে তা বিদ্যমান “আয়েশা (রা.) হইতে বর্নিত হুজুর সা. প্রত্যুষে বাহির হইলেন। তাঁহার গায়ে কালো চুল খচিত একটি পশমী চাদর। হাসান ইবনে আলী রা. আসিয়া পরিলে তাহাকে চাদরের মধ্যে নিয়া নিলেন। হোসাইন রা. আসিলে পরিলে তাহাকেও চাদরের মধ্যে নিয়া নিলেন।

ফাতিমা রা. আসিলে তাহাকেও চাদরের ভিতর নিয়া নিলেন। তারপর আলী রা. আসিলে তাহাকেও চাদরের মধ্যে নিয়া নিলেন। তারপর বলিলেন, হে আহলে বাইত! আল্লাহ পাক তোমাদিগ হইতে অপবিত্রতাকে দূর করিয়া সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করিতে চাহেন।” রাছুল সা. এই হাদিসেও বুঝাযায় প্রকৃত আহলে বায়াতের অপবিত্র হওয়ার কোন সুযোগ নাই।

আল্লাহ সূরা মায়িদার ৫:৬ নং আয়াতে বলেছেন “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও।” আল্লা পবিত্র কালামেও বুঝা যায় পবিত্র হওয়া কখন কার জন্য জরুরী। সহজেই বুঝতে পারি আল্লা নবী সা. এর মনোনীত আহাল ছাড়া বাকি সব মানুষের জন্য অপবিত্রতা দুর করা প্রয়োজনীয়তা। বেহুদা আহাল যারা সাজতে চায় তারা যে নিজেরাই বিপথগামী সেটা মানুষ চিন্তা করলেই পেয়ে যায়। তা চিন্তা করবে না! আল্লা যাদের চোখ, কান, অন্তর সমূহ মহর মেরে দিয়েছেন তারা চিন্তা করবে কি করে? তারা যে চরম বিভ্রান্ত। তাই আপনারা যারা শিক্ষিত কোরআন হাদিস পড়ার ক্ষমতা রাখেন তাদের নতুন করে  চিন্তা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। যে ভ্রান্ত হুজুর এবং সূফী, পীর সাহেবগন নিজেদের আহলে বায়াতের দলভূক্ত করতে চাইবেন তাদের কোরআনের আয়াত এবং হাদিসের বলেই প্রত্যাক্ষিত হয়ে যায়। আপনারা নিজে সতর্ক হোউন এবং যারা কোরআন হাদিস পড়তে জানে না তাদের সতর্ক করুন আল্লা এবং রাছুল সা. এর দোহাই। আহাল হওয়া এত সোজা নয়। মনে রাখা দরকার নুহু নবীর পুত্র কেনানকে আল্লা আহাল হিসাবে গ্রহন করেন নাই নুহু নবী বলার পরও। ইব্রাহিম আ. এর বংশেও অনেক মুনাফিক ছিল সেসব কোরআন পঠনেই স্পষ্ট। নবীর আহলকে প্রতি নামাযের শেষে সালাম না দিলে নামাযই পরিপূর্ণ হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ পিরের ঘরে জন্ম নিলেই আহাল হয় এবং যতগুলি পিরের ঘরে পয়দা হয় সব ছেলেই পির হয়ে যায়। তাদের যোগ্যতা শুধু একটাই পিরের সন্তান। পিরের ঘরে জন্ম নিলেই পিরজাদা। যদিও যোগ্যতা ব্যতীত পিরজাদা এবং চোরজাদায় কোন তফাৎ নাই। কিন্তু অন্ধভক্তগন তাদের চিন্তা চেতনা পিরের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ফলে কিছুই বুঝতে পারে না। এই সুযোগের সদ ব্যবহার করে পির সাহেবগন তাদের রাজত্ত্ব বিস্তার করে এক এক ছেলে এক এক জেলা দখলে ব্যস্ত হয়ে পরেন। আমার তো মনে হয় পির সাহেবরা আফসোসই করেন যদি ৬৪ ছেলে জন্ম দেওয়া যেত গোটা বাংলাদেশই দখল করা যেত। “ইন্নাল উলামউ ওয়া রাসাতুল আম্বিয়া” – হাদিস) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আলেমগণ হলো নবীর ওয়ারিশ।” এই হাদিসের পুরা ফায়দা মারেফতের পিরগন ভোগ করলেও শরিয়তের মহাজনরা তা পারতেছে না। কারণ সঠিক ভাবে আরবীর উপর দখল না থাকলে তো শরিয়তে ওয়ারিশগন ক্ষমতার পিরদের মতন ভোগ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে পিরের সন্তানরা বড় সুবিধায় তারা তো জন্মসূত্রেই ওয়ারিশ। চিন্তা করার অনুরোধ করছি।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *