ফকির উয়ায়ছী:
হালাল হারাম এই শব্দ দুটি মুসলমানদের খুবই পরিচিত শব্দ সকলেরই জানা। কিন্তু এই শব্দ ব্যবহার হয় শুধু মুখে মুখেই শুনা যায়। অবশ্য আমার দেশের বাইরে বিভিন্ন দ্রব্যের গায়ে লেখা থাকে ১০০% হালাল। তা দেখে মুসলমান মানুষ বুঝতে পারে এটা হালাল মুসলমানদের জন্য। যদি আমার সংস্কারের সুযোগ থাকতো আমি লেখতে চেষ্টা করতাম “হালাল টাকায় কিনুন”।
ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে কলেমাটাকে করছে বিতর্কিত বাকী চারটি ভেজাল দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে আছে অধিকাংশ মানুষের। আমার কথা হয়তো ভাল লাগছে না পুরো লেখাটি পড়লে দ্বিমত করার কতটুকু সুযোগ পান সেটাই দেখার বিষয়।
১ নং কলেমা: কলেমা সম্পর্কে মানুষ বুঝে না বুঝে পড়ে যাচ্ছে কোন ভেজাল করতে পারছেন না বলে মনে হলেও। সেটাতেও বাকী রাখছে না। যারাও বুঝে পড়ছেন ইয়াকীনের সাথে রাসূল সা. যেভাবে বলেছেন সেভাবে বুঝে নিলে তো তার জন্য জান্নাতের সু-সংবাদ রয়েছেই আল্লার পক্ষ থেকে।
রাসূল সা. বলেছেন “মান কানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ ইয়াকীনান ফাদাকাল্লাল জান্নাতা” অর্থাৎ যে ব্যক্তি একবার ইয়াকীন (বিশ্বাস) এর সহিত কলেমা পাঠ করবে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিতে। এই কালেমাটাকেও এখন কয়েকটা গোষ্ঠীর লোক সকল বলছেন কলেমা শুধুই “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং ‘মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ’ কলেমার অংশ নয়। এটা কি ভেজাল নয় বলে মনে করেন? অথচ আরশে মুয়াল্লায় সব নবীগনই নাকি এই কলেমা দেখেছেন। আর বর্তমান বড় বড় নামধারী আলেম নবীদের ভুল সংসোধন করছেন বলেই মনে হয়। উম্মতে মুহাম্মদির কলেমায় আল্লার সাথে রাছুল সা. এর নাম বিধায় অধিকাংশ মসজিদ গুলির মিম্বরের ডান দিকে “আল্লা” এবং বাম দিকে “মুহাম্মদ” লেখা থাকে। বিজ্ঞ এক আলেম ওয়াজ করেছেন এটাও নাকি শেরেক। হ্যায় আল্লা কোনটা যে বেদাৎ শেরেক তোমার প্রিয় হাবিবকে নিয়ে গেছো প্রায় ১৫০০ বৎসর আগে। আজ এমন আলেম পাঠাইছো তোমার প্রিয় হাবিবের নাম তোমার পাশে থাকলে বেদাৎ শেরেক বলার জন্য। তবে তুমি (আল্লা) কাকে দিয়ে আরশে মুয়াল্লায় এই বেদাৎ শেরেক প্রকাশ করেছিলে? বিজ্ঞ আলেমকে এই কথার জানান দাও না হয় যে এর অনুসারীরা জাহান্নামের অধিকারী হবে। মুহাম্মদ সা. এর উম্মতদের জন্য কলেমা হচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ”। অর্থাৎ- নাই কোন ইলাহ এক আল্লা ছাড়া, মুহাম্মাদ সা. তাঁর প্রেরিত। আমার মনে একটা প্রশ্ন আসে আমার নবি নিজের নাম ধরে কেন এই কলেমা পড়বেন? আমরা পড়তে পারি আল্লা ছাড়া মাবুদ নাই; মুহাম্মদ সা. প্রেরিত। রাছুল সা.ও যদি একই বাক্য পঠন করেন তবে তো বেমানান লাগে আমার কাছে। নিশ্চয়ই রাছুল সা. এর জন্য কিছু ব্যতিক্রম ছিলো। এটা আপনাদের কারো মনে আসে কি?
————-পাচ পর্বের প্রথম পর্ব
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
