আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / ফিৎরার ফরয পালন, প্রদান অনুযায়ী প্রাপ্তি

ফিৎরার ফরয পালন, প্রদান অনুযায়ী প্রাপ্তি

ফকির উয়ায়ছী:
ইসলামের পঞ্চ-স্তম্ভের সাথে আর কিছু কিছু বাধ্যতা মূলক (ফরয) বিধান আছে। তার একটি হচ্ছে ফিৎরা। মুসলমান ধর্ম অনুসারীদের জন্য বাধ্যতামুলক। একটি শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকে মৃত্যু আগ পর্যন্ত ফিৎরা আদায় করতে হবে। এটা ধনী গরীব উভকেই আদায় করতেই হবে। আর যেহেতু নেকি/সোয়াবের সাথে সম্পর্ক সেখানে কার্পন্য করা মোটেও সমীচিন নয়। যেহেতু সকলেই নেকী প্রত্যাশি জান্নাতের আশায়।
রোযার মাস চলছে মোটামুটি সব মসজিদেই ফিৎরা প্রদানের উপর আলোচনা হচ্ছে। মসজিদের খতিবগন জানিয়ে দিবেন ইসলামী ফাউন্ডেশন এই বছর ফিৎরা নির্ধারন করেছে ৬০ টাকা থেকে ১৬৫০ টাকা। বা এর কিছু কম বেশী। ফিৎরা বস্তু সমূহ কি কি জিনিষ দিয়ে ফিৎরা আদায় করা যায়।
 
খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম গত বৎসর ঢাকায় অবস্থিত বৃহৎ একটি মসজিদের ইমাম সাহেব নামাজের আগে বলেছিলেন যাকাত যার উপর ফরজ হয়েছে তাদের উপরই ফিৎরা প্রযোজ্য। দু:খ লাগে এমন ইমাম সাহেবদের্ একতেদা করে নামায আদায় করি আমরা বেশী সোয়াবের আশায়। আর তিনি মানুষের মাঝে একটি ভুল তথ্য জোড় গলায় প্রচার করেন শুনেও মুখ বুঝে থাকতে হয়।

 

যাক আমি যা পেয়েছি ফিৎরা সম্পর্কে সেটাই আলোচনা করছি। ফিৎরা এমন এক বিধান শরিয়তের এক দিনের ভুমিষ্ট হওয়া শিশু এবং হায়াতে থাকা বৃদ্ধ মানুষের জন্যও ফিৎরা আদায় করতে হবে। যারা ফিৎরা গ্রহন করবেন তাদেরও ফিৎরা প্রদান করতে হবে। ধরুন কেউ যদি ফিৎরা গ্রহন করেন তাদের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে স্বামী তার ফিৎরা স্ত্রীকে দিবেন। সেমতে স্ত্রী তার ফিতরা তারই স্বামীকে প্রদান করবেন। তবুও ফিৎরা দেওয়া থেকে রক্ষা পাবে না।
 
ফিৎরা প্রদানের বস্তু কি কি?
—————————
হাদিস শরীফে বর্ণীত আছে রাছুল সা. কতৃক ফিৎরার বস্তু জব, কিসমিস, খেজুর এবং পনির। এই চারটি বস্তুই এক ‘সা’ পরিমান দিতে হবে। অথবা এই মালগুলির সমমূল্যের টাকা প্রদান করতে হবে। রাছুল সা. ওফাতের পর প্রথম চার খলিফার সময় রাছুল সা. এর বিধানই চালু ছিল।
 
কার সুন্নত পালন করবেন ফিৎরা আদায়ে রাছুল সা. এর সুন্নত নাকি সাহাবীর সুন্নত?
——————————————————————————
 
কার সুন্নত পালন করবেন এই প্রশ্নটা করাতে চিন্তিত হচ্ছেন? রাছুল সা. এর সুন্নত পালন করলে সোয়াব বেশী গরীব পাবে তার সঠিক হক। আর সাহাবার সুন্নত পালন করলে লাভ হবে আপনার মরবে রাছুল সা. এর দু:খি উম্মত।
 
কি পরিমানে প্রদান করবেন ফিৎরা
———————————-
রাছুল সা. কতৃক ফিৎরার বস্তু জব, কিসমিস, খেজুর এবং পনির। এই চারটি বস্তুই এক “সা” পরিমান দিতে হবে। মক্কা এবং মদিনার এক “সা”- এর পরিমান প্রায় সাড়ে তিন কেজি। রাছুল সা. এবং প্রথম চার খলিফার সময় এই নিয়মই পালন করা হয়েছিলো বলে জানি। কিন্তু প্রথম শাসক আমীরে মুয়াবিয়ার শাসন আমলে তার দেশে গমের উৎপাদন ছিল বেশী। তাই তার আমলে জবের বদলী গম চালু করা হলো এবং সে সাথে সিরিয়ার এক “সা” পরিমান ফিৎরার প্রচলন শুরু করলেন। আর সিরিয়ার এক “সা” পরিমান হচ্ছে প্রায় ১ কেজি ৭৫০ গ্রাম অর্থাৎ পোনে ২কেজি।
 
রাছুল সা. এর সুন্নত হিসাবে পালনে সাড়ে তিন কেজি পরিমান আদায় করাই সঠিক বলে মনে করি।আর যারা আর্থিক অবস্থা সচ্ছল থাকা সত্ত্বেও অর্থহীনদের মতন শুধু পোনে দুই কেজি গম বা সমমূল্য দিয়েই পার পেতে চান তারা আল্লার দরবারে জিজ্ঞাসীত হবেন। রাছুল সা. এর সুন্নত পালন না করার দ্বায়ে। চিন্তাশীলদের কাছে হাস্যকর বিষয় হবে চিন্তা করলে। কেউ যদি জবের পরিবর্তে গম দেন তবে দিতে পারবেন পোনে ২ কেজি ফিৎরা আদায় করতে পারবেন। যদিও গমের মূল্য যবের চেয়ে কম। আর যদি কেউ খেজুর, কিসমিস বা পনির দেন তবে দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৩কেজি পরিমানে। যদি কম দিয়েই ইসলামের বিধান পালন করা যায় তবে বোকার মত বেশী দিতে যাবে কেন মানুষ?
 
এখন একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়।জলিলুল কদর সাহাবা কাতেবে ওহি আমীরে মুয়াবিয়া পরিবর্তন ঘটিয়েছে প্রথম ৫ নাম্বার আইটেম গম বানিয়ে। বর্ৎমান ইমাম সাহেবগন আলাদা অভিমত চালাচ্ছেন রাছুল সা. এর নির্ধারিত জিনিষ এবং পরিমানের তোয়াক্কা না করে। আমার ব্যক্তি অভিমত যার যার আর্থিক সচ্ছলতা অনুযায়ী ফিৎরা নির্ধারন করাটা উচিৎ ছিল। হাজার প্রতি, লক্ষ পতি এবং কোটি পতি মানুষদের ফিৎরা হবে শ্রেনীভেদে। এক রকম হবার কোন কারণ নাই।
 
বর্তমানে খেজুর ৭০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ৭০ টাকা মূলের খেজুর যারা খাবেন তারা ৭০ টাকা মুল্য মানের খেজুর বা সমমান টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায় করলে হবে। কিন্তু যারা ১০০০ টাকার খেজুর খাচ্ছেন তারা ৭০ টাকা দামের খেজুর বা সমমান টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায় করলে সেটা কবুল হওয়ার কোন কারণ নাই।
 
এই ব্যপারে ইসলামী ফাউন্ডেশন ফতোয়া দেওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করি। যেহেতু ফিৎরা ধনী গরীব সকলের জন্যই প্রযোজ্য সেহেতু যারা বড়লোক মানুষের ফিৎরা নিবে তারা সহজেই সর্বনিম্ন ফিৎরা আদায়ে কষ্ট হবে না। ধরুন ১০০০ টাকার সাড়ে তিন কেজি x ১০০০=৩৫০০ টাকা একজন পেল সে অবলীলায় ৭০ টাকা সর্বনিম্ন ফিৎরা প্রদান করতে পারবে। তাদের কষ্ট হবে ফিৎরা বিধান পালন করতে। এই ব্যপারে আমাদের দেশের ইসলামী ফতোয়াবাদী সংগঠনের বিবেচনার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর সে সাথে পাঠকগনদের প্রতি অনুরোধ করছি আপনারা আপনাদের বিবেক অনুযায়ী চিন্তা করে ফিৎরা প্রদান করলে গরীবেরা বেশী উপকৃত হবে এবং সেমতে আপনাদের সোয়াবও বৃদ্ধি হবে। আপনাদের মন্তব্যের আশা রাখছি।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

2 comments

  1. পোষ্ট পড়ে উপকৃত হলাম। কিন্তু একটা জাগল কোরআন হাদিসের উদৃতি নাই কেন?? ভূল হলে অমার্জনীয়। ধন্যবাদ।

    • সবই কি কোরানে থাকবে? কোরান তো অনেক কিছুই নাই। নাই কোন সাহাবাদের নাই। যাদের ইশারা আছে তাদেরই বা কয়জন মানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *