ফকির উয়ায়ছী:
খেলাফত বিষয়ে আমি আমার জ্ঞান থেকে লিখে যাবো বিচারের ভার পাঠকের উপর থাকবে। পাঠক তাদের ভাষা জ্ঞান শিক্ষা অনুযায়ী মন্তব্য করবেন। কেউ যদি আমায় এজিদ বলে তাতে কি যায় আসবে। আমি যদি যুক্তিহীনদের আবু জাহেল বলি তাতেই তাদের কি যায় আসবে? কারো কথায় সত্যের অবস্থান পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নাই।
শুরুই করছি বহুল পরিচিত হাদিস দিয়ে:
“মান কুনতুম মওলাহু ফাহাজা আলীয়্যুন মওলাহু” অর্থাৎ আমি যার মওলা(প্রভু) এই আলীও তার মওলা (প্রভু)।
রাছুল সা. এর বাণী মারেফতের লোক সকল এক কথায় বিশ্বাস রাখে। আর যারা এই হাদিসটি জানে কিন্তু বাস্তবায়ন করে না। তাদের শিক্ষায় আর যাই থাকুক মওলা আলী আ. এর জ্ঞান থাকতে পারে না। রাছুল সা. তাঁর মনোণীত খলিফার জন্য তিঁনি বলে গিয়েছিলেন কয়টি বাণী নিন্মে:
১. আনা মাদীনাতুল ইল্মি ওয়া আলীইউন বাবুহা। (আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা।)
২. আনা মাদীনাতুল আ‘কলি ওয়া আলীইউন বাবুহা। (আমি বিজ্ঞানের নগরী আর আলী তার দরজা।)
৩. আনা দারাল হিকমাতি ওয়া আলীইউন বাবুহা। (আমি হেকমত বিদ্যারঘর আর আলী তার দরজা।)
উপরোক্ত এমন বাণী আর কোন সাহাবার জন্য বলেন নাই। রাছুল রা. এর মনোণীত খলিফা প্রতিনিধি একজনই। আর রাছুল সা. এর প্রকৃত শিক্ষা পেতে হলে মারেফতের বাদশা মওলা আলী মাধ্যমেই হতে হবে। এ ছাড়া মারেফত হতে পারে না। যতই বড় দল গঠিত হোউক তা দুনিয়ার বিচারে টিকে গেলেও আল্লার দরবারে টিকবে না।
প্রশ্ন আসবে: মওলা আলী আ. তো আমাদের মধ্যে নাই। কাজেই আমরা জ্ঞান পাব কিভাবে? মওলা আলীর জ্ঞানত হযরত খাজা উয়ায়ছ কারণী (রাদী.) এবং হযরত হাসান বাসরীর মাধ্যমে জারী হয়েছে। মওলাজীর আরও দুই খলীফা ছিলেন হযরত কুমায়েল রাহ. এবং হযরত আবুল মিকদাম রাহ. কোন তরিকত জারী করেন নাই।
হযরত সৈয়দ শাহ বজলুর রহমান জুলকারনাইন উয়ায়ছী বাবাজান কিবলা তিঁনার দেওয়ান কিতাবে লিখেছেন।
“{হযরত হাসান বাসরী অল্প বয়সেই খিলাফত লাভ করেন। পীরের সোহবত যে পরিমানে লাভ করার কথা তা হয় নাই। আল্লাহ্ আউয়াল, আখের, জাহের ও বাতেন। এই চারি ভেদের মধ্যে আউয়াল ও আখের এই দুই ভেদের জ্ঞান মাত্র অর্জন করেছিলেন হযরত হাসান বাসরী রাহ.। আউয়াল, আখের, জাহের ও বাতেন এই চারি ভেদের জ্ঞান খাজা উয়ায়ছ কারণী রা. এর জানা ছিল।
আউয়াল আখেরে ভেদ হাসান বাসরী।
চারিভেদে পীর হন উয়ায়ছ কারণী॥}”
মারেফতে এমন দল আছে যাদের দলে মারেফতের বদশা মওলা আলীর নামটাও দেখা যায় না। আবার কিছু বহুল প্রচারে প্রসারিত হয়ে এমন রূপ ধারন করেছে খেলাফতই বর্জন করে। কিন্তু পির সাহেব নিজে খেলাফতি (প্রতিনিধিত্ত্ব) করে চলেছেন বা করে গিয়েছেন। নিজে যেটা পালন করে যাচ্ছেন সেটার বিরুধীতা করা কি সঠিক এই প্রশ্নের উত্তর পাঠকের কাছে মন্তব্যের মাধম্যে আশা করছি।
জানতে চাচ্ছি যে লোক পিরগিরি করে গেলেন কিন্তু তিনি নিজে কাউকে খেলাফতি দিয়ে গেলেন না সে লোকটি কতটুকু সঠিক হতে পারে। যোগ্য প্রতিনিধি রেখে না যাওয়া সেটা ব্যর্থতার সামিল নয় কি? ===========চলবে
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
