ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
নিজকে জানা চেনার জন্য সহজ সরল পথ উয়ায়ছী তরিকত। কোরআন বিরোধী কোন শিক্ষা এই তরিকতে নাই। উয়ায়ছী তরিকতের বিপথগামী চেনার জন্য কয়েকটা জিনিষ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। কোরআনের সুরা কাফেরুন, ফালাক, নাস, এখলাস এই সূরাগুলির শুরু যে “কুল” শব্দটি আছে সেটা তারা পরিহার করে এই সূরা চারটি পাঠ করে। যেহেতু ‘কুল’ শব্দটির বাংলা অর্থ “বল”। আপনাদের অধিকাংশ মানুষেরই জানা নাই, পবিত্র কোরআনে মোট ৪৫৩বার “কুল” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এবং এমনই একটি শব্দ আছে “নাব্বে” অর্থাৎ “খবর দাও” বল এবং “খবর দাও” কুল এবং নাব্বে শব্দ দুটি ভিন্ন হলেও অর্থ একই। তবে খবর দাও বলে হুকুম করা গেলে ‘বল’ কেন বলা যাবে না। এই বিজ্ঞ লোক গুলির মাথায় তা কেন আসে না সেটাই চিন্তার বিষয়। এই চিন্তাশীল মানুষগুলির তরিকতের গোড়া শক্ত হলে কি হবে গাছের আগার ফল গুলি মাক্কাল ফলের মতনই অকার্যকর।
এই বিপথগামী লোকগুলি মুদিরদের অধিকাংশই তরিকতের ওযু ছাড়া বায়াত করেন। এবং কেউ কেউ আছে গান বাজনা নিয়েও ব্যস্ত থাকেন। আবার ভিন্ন তরিকতের ন্যায় পিরের চেহারা স্মরণ শিক্ষাও দেন।
যা কিনা প্রকৃত উয়ায়ছী তরিকতের মানুষের জন্য একদমই বেমানান। আর গান বাজনা আব্দুর রহিম শাহ, আব্দুল কাদের শাহ, কছিমদ্দিন শাহ, ইলাহী বক্স শাহ, মওলানা আব্দুস ছাত্তার শাহ, আতাউল হক শাহ উয়ায়ছী রাহ. বুজুর্গগন কেউই গান বাজনা করতেন না। উল্লেখ আব্দুর ছাত্তার উয়ায়ছী রাহ. ছিলেন আব্দুর রহিম শাহ উয়ায়ছী সাহেবের ভাগিনা। হযরত মোওলানা আব্দুর সাত্তার শাহ রাহ. সাহেবের এর অধিক পরিমান শিক্ষিত মুরিদ ছিলেন সে পরিমান শিক্ষিত এবং উচ্চ পদস্থ মুরিদ আর কারো কাছেই ছিল না ততকালীন সময়ে। কিন্তু তিঁনার কিছু খলিফা নিজস্ব মতামত তরিকতে সংযোজন করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে উয়ায়ছী তরিকতে। তরিকত কোন ব্যক্তি ইচ্ছা প্রচলিত করার কিছু নাই। এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে গুটি কয় মুরিদ নিয়ে তরিকতের সকলের উপর হুকুমত চালানোর প্রয়াস করছেন। ড্রেস বানিয়েছেন কালো পাঞ্জাবী সবুজ টুপি। আশ্চর্যের বিষয় খাজা গানে খাজা দুই খানা চাদর ব্যবহার করতে। আজ সে তরিকতের দেখানোর জন্য ড্রেস তৈরী করেছেন যাতে দেখেই মানুষ চিনতে পারে উয়ায়ছী বলে এই কর্ম রিয়া (দেখানো) মধ্যে পরে না? এটা আমার প্রশ্ন?
এই বিপথগামী পিররা নাম কামানোর জন্য অন্যের মুরিদকে নতুন করে বায়াত করা ছাড়াই খেলাফত দিয়ে দেন। এটা তরিকতের জন্য একদমই অবৈধ।
এই লোকগুলি পির নামটা জাহের করার জন্য কিতাবের উপর তাদের নাম স্থাপনটাই মুখ্য অখাদ্য/ কুখাদ্য মানুষ পড়ুক আর নাই পড়ুক মুরিদগন নিয়ে রাখে ঘরে। ৫০/১০০ কপি করে নিজেদের মনোনীত প্রেসে ছাপেন আর মুরিদদের মাঝেই বিক্রি করেন। সে সব দেখায় তরিকতে অধিকাংশ মূর্খ নাদানদেরকে। উয়ায়ছী তরিকতের কিতাবের সংখ্যা অনেক। এই সব কিতাবের মধ্যে পড়ে কিছু জানার মত কিতাবের নাম দিচ্ছি যারা খুজেন কিনে পড়লে টাকা নষ্ট হবে না।
১/ আদম অযুদ তত্ত্ব ও মোহাম্মদি বেদ তত্ত্ব–হযরত আব্দুর রহিম শাহ
২/ মছনবী–হযরত আব্দুর রহিম শাহ
৩/ মস্তানী বচন-হযরত আব্দুর কাদের শাহ
৪/ মছনবী-হযরত কছিমদ্দিন শাহ
৫/ দেওয়ান-র কছিমদ্দিন শাহ
৬/ আদাবে মোরশেদ-হযরত কছিমদ্দিন শাহ
৭/ ইলাহি সংকলন-হযরত ইলাহী বক্স
৮/ সূহায়লে ইয়ামন-হযরত মোওলানা শাহ আব্দুস ছাত্তার
৯/ লেখক-হযরত মুফাখখারুল ইসলাম সাহেবের কিছু কিতাব
১০/ লেখক-হযরত জলীল উয়ায়ছী
১১/ লেখক-হযরত শাহ বজলুর রহমান সাহেবের দুটি কিতাব ব্যতীত কারণ শাহ সাহেবের একটি কিতাব উয়ায়ছী তরিকতে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সতর্ক করার জন্য। এই শাহ সাহেবের কিতাব গুলির মধ্যে মওলা আলী আ. নাহাজুল বালাগ এর বাংলা অনুবাদ। ইমানের ইশারা খন্ড-১-২-৩। উসমানী সহিফা, রাছুল সা. এর ওফাৎ এবং প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনা। নামায কায়েম কর। এবং ইংরেজি কিতাব A- Unique Culture of the world.
এছাড়া হযরত বজলুর রহমান শাহ সাহেবের তত্ত্বাবধানে খলিফা Shah Nurul Syed ভাইয়ের ইংরেজিতে কানাডা থেকে প্রকাশিত কিতাব। এই লেখক সাহেবদের কিতাবদের লেখা ব্যতীত বাকী যা আছে তাদের নিজস্ব মতামত দেওয়া যা কোরআন হাদিসের সাথে অনেক কিছুই মোয়াফেক নয়।
উয়ায়ছী তরিকত বললেই যদি কেউ আমাকে মনে করেন সেটা মোটেই উচিৎ হবে না। এই তরিকতেও প্রতারকের সংখ্যা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেসবতে উয়ায়ছী, সহবতে উয়ায়ছী, এমনকি এও বলে সব তরিকতেই নাকি উয়ায়ছী আছে। জিকির হালে মাস্ত হলেই নাকি উয়ায়ছী হয়ে যায়। হতে পারে সেটা ক্ষনস্থায়ী বলতে হবে শুধু মাস্ত সময়টুকুর জন্য। বাকী সময় তো উয়ায়ছী থাকার কথা নয়। আমি এটা বুঝি শতবার কাউকে বাবা বলে ডাকলেও সম্পদের অধিকারী হওয়া যায় না। সম্পদের হকদার হওয়ার জন্য আইনত ওরসজাত সন্তান হওয়া জরুরী। ঠিক তেমনি উয়ায়ছী হওয়ার জন্য উয়ায়ছী তরিকতে গোলামী করা জরুরী। অন্যথায় অজাত কচুর কথাই মানুষ মনে করবেন। যারা প্রকৃত উয়ায়ছীদের গোলামী করে উয়ায়ছী হয় তারা সর্বক্ষন সর্বহালেই উয়ায়ছীই থাকেন। এমনও লোক আছে অন্য তরিকতে কিছু সময় অতিবাহিত করে এমনকি খেলাফতি হাসিল করে উয়ায়ছী তরিকতের পিরদের সঙ্গ নেয় যাতায়াত করে। নিজের নামের সাথে উয়ায়ছী লেখা শুরু করে। তারা উয়ায়ছী বলে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবে লোকে হয়তো বিশ্বাসও করবে কিন্তু প্রকৃত উয়ায়ছী তরিকতের জ্ঞান পাবেন না। কাজেই সতর্কতা অবলম্বন অতিব জরুরী।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
