ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
রাছুলে খোদা বলিয়া সম্মান দিলে আল্লার সম্মানের খেলাফ হয়। রাছুল যে আল্লার দাস বলিয়াই নিজেকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ২য় কলেমা শাহাদতের বাংলা অর্থ পড়ে দেখার অনুরোধ করছি। সে কলেমায় স্পষ্টই বলা আছে রাছুল সা. আল্লার দাস এবং রাছুল। আল্লা তো সামাদ আমার রাছুল সা. তো সামাদ ছিলেন না। আমার নবীর জীবদ্দশায় অনেক কিছুরই মুখাপেক্ষী ছিলেন। ঘর, সংসার, খাওয়া, হেরাগুহা, স্ত্রী, সন্তান এবং অনেক সাহাবারাও ছিলেন নবীর সাথে। ইসলাম প্রচারের জন্য সাথ লেগেছে অনেক কিছুর। কিন্তু সৃষ্টি কর্তার তো কোন কিছুর প্রয়োজন নাই। কাজেই চিন্তা করার অনুরোধ করছি। সৃষ্টিকর্তা আর সৃষ্টির মাঝে তফাৎটা নির্বাচন করেই সঠিকভাবে সন্মান প্রদর্শন করুন।
ইয়া রাছুল আল্লা এবং ইয়া হাবীব আল্লা বললে আল্লা এবং রাছুল সা. এর মধ্যে কোন তফাৎ থাকে না। আমাদের রাছুল সা. আল্লার চরিত্রে চরিত্রবান ছিলেন কিন্তু তাতে রাছুল সা.কে আল্লা ভাবার কোন কারণ নাই।
যারা আমাদের রাছুল সা. আল্লা মনে করেন তাদের জেনে রাখা উচিৎ রাছুল সা.কে আল্লা নিদৃষ্ট সময় কালের জন্য স্ব-শরীরে পাঠিয়েছিলেন দুনিয়াবীর জন্য। নিদৃ্ষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরই স্ব-শরীরে প্রস্থান করেছেন।
আমার কথায় যদি নবীকে মৃত মনে করেন সেটা শতভাগ ভুল হবে। কারণ আল্লার কথা অনুযায়ী রাছুল সা. হায়াতুন নবী। হায়াতুন নবীর মৃত্যু নাই। তিঁনি সৃষ্টির সর্বপ্রথম এবং সর্বসময়ের জন্য জীবিত।
কয়েকদিন আগে মারেফতের এক মিলাদ অনুষ্ঠানে তরিকতপন্থি কিছু মানুষ মিলাদে দাড়িয়ে নবী সা.কে উদ্দেশ্য করে বলছেন “ইয়া রাছুলআল্লা” “ইয়া হাবীবআল্লা” যখন তারা এটা বলছিল তখন চুপ করেই রইলাম। মিলাদ শেষে মিলাদ পরিচালনাকারী ভাইকে বললাম আপনি রাছুল সা.কে আল্লা বললেন কেন? সে এবং তার পির সাহেব সহ আমাকে উত্তর দিলেন। “ইয়া রাছুলআল্লা” অর্থাৎ আল্লার রাছুল “ইয়া হাবীবআল্লা” অর্থাৎ আল্লার হাবীব। আমি বললাম এটা কি ব্যাখ্যা দিলেন। সে কোন ভাবেই মানতে নারাজ সে যা বলেছে তার বাইরে কোন মানে নাই। তখন বাধ্য হয়েই বললাম। এই কালাম বান্দর এই কালাম ছাগল। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো এইটা কি বললেন ভাই। উত্তরে আমি বললাম তাকে আপনার মত করেই তো বললাম কালামের বান্দর আর কালামের ছাগল। তখন বলছে আমাকে আপনি তো তা বলেন নাই। আপনি আমাকেই বান্দর ছাগল বললেন। আমি তখন বললাম আপনি লিখেন আপনি যা বলেছেন রাছুল সা. সম্পর্কে আর আমি যা বলেছি আপনার সম্পর্কে তা যদি এক রকম না হয়ে থাকে দশের মাঝে আমাকে বিচার করবেন। আমি মেনে নিবো। তখন মনে হয় তিনি কিছু বুঝতে পেরে চুপ রইল। যাই হোউক অবুঝ অজ্ঞান লোকের সম্মানে আমার রাছুল সা. এর কোন মান বাড়বেও না। আর তারা অতিরিক্ত সম্মান না দিলে আমার রাছুল সা. এর কিছু যাবে আসবে না। এই আলোচনাটা আমার বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকেই। আপনারাও খেয়াল রাখবেন। তা হলেই মানুষকে ধরে বুঝিয়ে সতর্ক করতে পারবেন।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
