ফকির উয়ায়ছী:
জাহেলে যাকাত বুঝে অর্থ, বস্তুতে
মুমিন আদায় করে সর্ব সময়েতে।
মওলা আলীর বয়স যখন মাত্র আট বৎসর তখন তিঁনি রাছুল সা. এর হাত ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। পুরুষদের মাঝে সবচেয়ে প্রথম ইসলাম গ্রহনকারী। সে সময় রাছুল সা. এর পরিবারে এবং আরো অনেক বয়স্ক লোক সকল রাছুল সা. এর আশেপাশে ছিলেন। কিন্তু জ্ঞানে পরিপক্ক ছিলো না বলে মওলা আলীর আগে কেউ ধর্ম গ্রহন করতে সাহস পায় নাই। মওলা আলীর ওফাৎ কালীন বয়স ছিলো ৬৩ বৎসর এটা অধিকাংশ আহলে বায়াত অনুসারীদেরই জানা। ইসলামের জাহেরী এবং বাতেনী জ্ঞানের অধিকারী মওলা আলী ছিলেন বলেই রাছুল সা. বলে ছিলেন যা আমরা হাদিসে পাই। আমি হেকমত বিদ্যার ঘর আলী তার দরজা। আমি প্রজ্ঞা নগরীর শহর আলী তার দরজা। মওলা আলীর জ্ঞানগর্ভবাণী যা দেখতে পাই সেগুলি কোন ভাবেই খন্ডন করা যায় না। অনেক অনেক হাদিস দেখি যেটা একটা অন্যটার সাথে সাংঘর্ষিক। অবশ্য আমি হাদিস বলে সেগুলি মানি কোন কিতাবে আছে সেটা নয় কোরানের সাথে যেটা সাংঘর্ষিক নয় সেটাই হাদিস। যাক এ বিষয়গুলি আমার চেয়ে আপনারাই ভাল জানেন। আমি আজ আলোচনা করতে মনস্থ করেছি। অতি ভক্তিতা দেখিয়ে মওলা আলীকে খাটো করছে আহলে বায়াত প্রেমিক কিছু লোক সম্পর্কে। আমার কাছে মনে হয় এরা কোন অবস্থাতেই মওলা আলীর প্রকৃত প্রেমিক হতে পারে না। এরা বিধর্মীদের বৈদিশিক মুদ্রার কর্ম সাধনে ভালবাসা প্রদর্শনে চিৎকার চেচামেচী।
নামাযের সময় একাগ্রতার ইতিহাস দেখি মওলা আলী জীবনীতে। মওলা আলী যুদ্ধের ময়দানে তীর বিদ্ধ হয়েছিলো। কোন মতেই বের করা যাচ্ছিল না। রাছুল সা. বলেছিলেন আলী যখন নামাযে দাড়াবে তখন তীরটা খুলে নিও। মওলা আলীর সঙ্গীরা তাই করেছিলো। মওলা আলী কোন ব্যাথা অনুভব করেন নাই। তাতে বুঝা নামাযে একাগ্রতার গভিরতা। এটা আমরা উয়ায়ছীরা কায়মনোবাক্য বিশ্বাস করি মওলা আলী একাগ্রতার ব্যপারে।
অথচ কিছু অতিভক্তি প্রদর্শনকারী লোকজন বলে মওলা আলী নামাযের আদায়ের সময় ভিক্ষুক এসে দাড়ালে নামাযের মধ্যে মওলা আলী হাত থেকে আংটি খুলে দিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন আসতে পারে কোন নামায? ফরজ, সুন্নত, নাকি নফল? হাদিসে পাওয়া যায় নামাযরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়া নিষেধ। মোটামুটি সকলেই পালন করে এটা যথাযথ ভাবে। এমনকি সেসব নামধারী মওলা আলী প্রেমিকগনও।এমন অনুসারীদের মওলা আলীর শিয়া বলা যায় কিকরে? বরং এরা এজিদ রক্ত বংশের টাকা খাওয়া নামধারী অনুসারী। এরা মওলা আলীকে বেখেওয়ালী নামায পালন কারী বানিয়ে ছাড়ছে।
যাকাত প্রদানে গাফেল বানিয়ে নিজেরা বড় ঈমানদার সাজচ্ছেন তারা টাকা দিয়ে যাকাত দেয় প্রতি বৎসর। আজতক একটা আংটি দেওয়া অন্তত্য উচিৎ ছিলো। মওলা আলী জীবনে একবার যাকাত দিয়েছেন দেখা যায় তথাকথিত শিয়াদের আলোচনায়। নাহয় বাকী রেখেছেন। প্রকৃত উয়ায়ছীরা মানতে পারে না। কারণ মওলা আলী আকিমুস সালাত এবং ওয়াতুজ যাকাত পালনকারী সে মতে উয়ায়ছীরাও বাকী রাখে না একই সাথেই পালন করে।
আল্লা কোরআনের আয়াতগুলি কারো ব্যক্তিগত ভাবে নাজিল করেছেন বলে কেউ যদি মনে করেন সেটা মোটেই উচিৎ হবে না। বিশেষ করে যদি কারো ব্যক্তিগত ভাবে বলতেন তবে আল্লা অবশ্যই নাম উল্লেখ করেই দিতেন। যেহেতু এই কোরআনের প্রতিটি বাণী কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে সেহেতু, কোরআনের প্রতিটি আয়াতই প্রত্যেক মুসলমানদের মেনেই চলতে হবে। কোরানে এমন কোন আয়াত নাই যেটা আমার পালন না করলেও চলবে। আমার অপারগতায় আমি হয়তো কোনটা মানতে পারিনা। কিন্তু আমার আপনার বা কোন গোত্রের জন্য বাতিল বলে গন্য এমন কোন আয়াত নাই। নিম্নে একটা আয়াত উল্লেখ করবো আপনাদের চিন্তা করার জন্য। একটি কওমের কিছু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি আছে তারা বলে একটি আয়াতের কথা যে এই আয়াতটি শুধু একজনই পালন করেছেন আর তিঁনি হচ্ছেন মওলা আলী।
৫:৫৫# “তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র।”
উক্ত আয়াতটির ব্যপারে শিয়া মাজহাবের কিছু অচিন্তাশীল লোক আছে তারা বলে নামাজ অবস্থায় যাকাত দিয়েছেন একমাত্র মওলা আলী। এখানে প্রশ্ন দারায় নবীজি কি এই আয়াত পালন করেন নাই! কারণ ইসলামের ইতিহাস পড়ে পাওয়া যায় না যে, রাছুল সা. কোনদিন যাকাত দিয়েছেন। তিঁনার সে পরিমান সম্পদ ছিলো বলে কোথাও দেখা যায় না। তবে কি এই আয়াত নবীর ছাড়া অন্য কারো উপর নাজিল হয়েছিল? আগেও লিখেছি মওলা আলী তীরবিদ্ধ হয়েছিল রাছুল সা. এর পরামর্শে নামায আদায়ের সময় তীর বের করা হলে মওলা আলী সেটা অনুভব করতে পারেন নাই। কিন্তু শিয়া মাযহাবের অতিপন্ডিতরা প্রচার করেন মওলা আলী নামায আদায়ের সময় হাতের আংটি খুলে যাকাত প্রদান করেছেন। এই তথ্য প্রচারে যে মওলা আলীকে অমনযোগী/ বেখেয়ালী নামায আদায়কারী হিসাবে প্রমানীত হয়। এই ব্যপারে নির্বোদের দল চিন্তাই করেন না।
আর সবচেয়ে বিবেচনার কথা হচ্ছে আয়াতটিতে আল্লা রাছুল এবং মু’মিনদের কথা বলেছেন এমনকি যারা নামায কায়েমকারী তাদের প্রত্যেকের জন্যই এই আয়াতটি পালন করার হুকুম। যারা মওলা আলী আ. গোলামদের দারস্থ হয় তারাই এই যাকাতে মর্ম বুঝতে পারবে। নামের তথাকথিত অনুসারীরা এই যাকাতের কথা বুঝবে কি করে? আর তার চেয়েও বড় কথা মুমিন হতে হলে তো সালাতের সাথে সাথে যাকাতও প্রদান করতে হবে। আপনারা মুমিন শুধু মওলা আলীকে বানাতে চাইলে নিজেদের অবস্থা তো মুমিনের বিপরিতেই যায়। উপরোক্ত আয়াত যাকাতের সাথে অর্থের কোন সম্পর্ক নাই। যাকাতের সঠিক অর্থ হচ্ছে পবিত্রতা। সেটা নিম্ননোক্ত আয়াতটি প্রমান করে।
৫৮:১৩# “তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।”
চিন্তা করে দেখার অনুরোধ সদকা (সামান্য) দিতে পারলো না তবে যাকাত প্রদান করতে বলেছেন আল্লা। যাকাত যদি অর্থই হতো তবে আল্লা কেন বলবেন সামান্য পয়সা সদকা প্রদানে অসমর্থ ব্যক্তিদের যাকাত দিতে?
আকিমুস সালাত ওয়াতুজ যাকাত শুধু মওলা আলী জন্য হুকুম হতো তবে কোরানে এই আয়াত ৮২বার দেওয়া থাকবে কেন? শিয়াদের জন্য কি শুধুই আকিমুস সালাত, বৎসরে একবার ওয়াতুজ যাকাত? শুধু শিয়া নয় অধিকাংশ লোকই আকিমুস সালাত ভেবে দিনে ৩/৫ সময় দৈহিক কসরত করেন আর ওয়াতুজ যাকাত বৎসরে একবার। আবার অর্থ হিনদের জন্য যাকাত প্রদান তো বড় বড় আলেম সাহেবগন বাদ দিয়ে দিয়েছেন। যেটা আল্লা এতবার করে হুকুম করেছেন। যারা শিক্ষিত হওয়ার পরও সঠিক পথ খুজে না তারা আল্লার বান্দা নয় বরং আলেমদের আইনের দাশ হয়ে রয়েছে।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
