ফকির উয়ায়ছী:
সালাত সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করার আগেই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তার কারণ হচ্ছে মারেফতের অনুসারীগন এমনকি আমার তরিকতের বুজুর্গগনদের শিক্ষা আলোচনা অনুযায়ী আমিও তেমনই লিখেছি যে সালাত দুই রকম। আমাদের তরিকতের ২/১ বিজ্ঞজন তাদের কিতাবে লিখেছেন সালাত তিন প্রকার। মাথায় আসে না যা তাদের মনে আসে তাই লিখে ছেপে বিভ্রান্ত ইতিহাস বানায়।সালাত অর্থ স্মরণ একাধিক হওয়ার কোন সুযোগ নাই। কেউ দুই কেউ তিন আমি যদি ৫রকম বলি সেটা আমার চিন্তাশীলতা থেকে নয় বরং শুনে শুনে নাবুঝের মতন মেনে নিয়েছিলাম বলা যায়।
আল্লার সালাত অর্থাৎ আল্লার স্মরণ একই রকম তার মধ্যে বিভেদ করার সুযোগ নাই। আমার পিতা সর্ব সময়ের জন্যই আমার পিতা স্থান কাল ভেদে পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নাই। আল্লার স্মরণ আমি কম করতে পারি আপনী হয়তো বেশী করবেন তবে স্মরণ স্মরণই। কেউ মূখে কথা বলে স্মরণ করে, কেউ কাগজে লিখে স্মরণ করে, কেউ কান কথা শুনে স্মরণ করে বা কেউ কেউ চোখে দেখেই স্মরণ করে। তবে চোখে দেখে যেটা স্মরণ করা হয় সেটার বিশ্বাস বড় মজবুত হয়। আর আপন চোখের উপর আস্থার চেয়ে বড় আস্থা নাই। এটাই প্রকৃত ঈমানদারদের বিশ্বাস বলেই মনে করি। যারা চোখে দেখে না তাদেরকে সালাত হয়েছে প্রশ্ন করলে বলে আল্লা সুবহানুতায়াল্লাই ভাল জানেন। অথচ তিনিও জানেন তার দেখা হয় নাই সেটা না বলে দিলেন আল্লার উপর দিয়ে চালিয়ে। এসমস্ত লোক সকলই বলে ঈমান কচু পাতার পানি।
আল্লার প্রতিটি সৃষ্টি তাদের মালিকের সন্তুষ্টি আদায়ে স্মরণ করে চোখ দিয়ে, মুখ দিয়ে ডাকে, অন্তর দিয়ে। এমনকি আল্লা সূরা আরাফের আয়াত ২০৫# “ স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন অনুচ্চস্বরে(কথা বলার মতন আওয়াজ করে নয়)।
সূরা বাকারা আয়াত ২০০# “অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে।”
উপরোক্ত আয়াতের দিকে খেয়াল করলে বুঝা যায় স্মরণ করতে হবে কিভাবে। আমি আমার দাদাকে দেখেছি দাদাকে খুব স্মরণ করতে পারি তার নাম বা দাদার কথা বললেই চোখের সামনে দাদার ছবিটা ভেসে উঠে আপনাদের তাই হয় আশা রাখি আপনার কোন প্রিয় জনের কথা মনে হলে। কিন্তু বাবাকে দেখি নাই ২১দিন বয়সে মারা গেছেন। আমি চাইলেও বাবাকে স্মরণ করতে পারি না। স্মরণ করতে কিছু সৃতি থাকা লাগে। উক্ত আয়াতে আল্লা, বাবা-দাদার চেয়েও বেশী বেশী স্মরণ করার কথা বলা হয়েছে। আমার আল্লার হুকুম তো পালন করতেই হবে। যে লোক আল্লাকে দেখে নাই। নাই কোন সৃতি, সে কিভাবে স্মরণ করবে? কেউ কাউকে ভয় করলে তার চেহারাটা সামনে ভেষে উঠে তা গা শিউরে উঠে। আবার কেউ কাউকে ভালবাসলে তার ছবিটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। তখন আবেগি হয়ে যায় মনটা। আর যারা কিছুই বুঝে না তাদের কপালে কালো দাগ করে ফেলে তারা কিছুই বলতে পারে না ভয় ভালবাসা সম্পর্কে। অথচ আল্লা ব্যতীত সবার ক্ষেত্রে ভাল বলতে পারবেন। আয়াতে বলা আছে “নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে।” কাজেই আল্লাকে জানা জরুরী যদি চিনতে না পারেন তবে হজ্বকারীদের হজ্বের রসম কতটুকু পালন হয়েছে সে ব্যপারে চিন্তা করার অনুরোধ রাখি।
আল্লার কোন কথা অযথা বলেন নাই। সূরা হজ্ব আয়াত ৭৮# “তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে।”
উপরোক্ত আয়াতে স্পষ্টই বুঝা যায় নামধারী মুসলমানগন ইব্রাহিম আ. এর মিল্লাতের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারলেই মুহাম্মদ সা. আমাদের সাক্ষদাতা হবেন।
সূরা মারইয়াম আয়াত ৩১# “আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।”
এই আয়াতেও ইসা আ. একদিনের শিশুর প্রতি সালাতের কথা বলেছেন এবং যাকাতের কথাও বলেছেন। যে সালাতের সাথে সাথে যাকাত প্রদান করা হয় সেটাই আল্লার প্রকৃত সালাত।
আমি যেহেতু মারেফতের অনুসারী সেহেতু মারেফতের কথাই আগে বলছি। প্রকৃত উয়ায়ছী ব্যতীত অধিকাংশ লোকই আপন পীরের চেহারা ধ্যান করে আল্লার মতন ভাবে। এটাকেই তারা দায়েমী, কায়েমী সালাত মনে করে।
আর শরিয়তের অনুসারী জামাতের সহিত ৫ওয়াক্ত নামায আদায় করে ভাবে সালাত কায়েম করছে। সত্য্ কথা চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন ওয়াক্তের অঙ্গভঙ্গী/ দৈহিক কসরত সালাত নয়। বরং সালাত পালন করার একটি বিধান মাত্র। মানে দাড়িয়ে, রুকু করে বসে সালাত / স্মরণ করতে হবে। অথচ তারা সালাত/ স্মরণ যে কিভাবে সম্ভব হবে সেটার চিন্তা মাথাতেই আনে না। বিভ্রান্ত মিথ্যা এক হাদিসের এর কথা বলে সেটা আদো হাদিসই নয় আমার দৃষ্টিতে। কারণ যে বাণী কোরানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক সেটা বহুল প্রচারিত হলেও রাছুল সা. এর হাদিস নয় আমার মতে। হাদিসটা নিন্মে:
“তুমি যদি আল্লাকে না দেখতে পাও বুঝবে আল্লা দেখছেন। তুমি যখন নামাযে দাড়াবে কল্পনা করবে পুলসিরাতের উপর দাড়িয়েছ। ডান দিকে বেহেস্ত, বাম দিকে দোজখ পিছনে আজ্রাইল সামনে আল্লা।”
আমার কাছে এ বাক্যটি বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ কোরানে বলা আছে। চিন্তা করতে বলবো আপনী দাওয়াতে গেলেন প্রধান মন্ত্রির সাক্ষাতে। সেখানে একজন এসে বললেন বসুন আরাম করুণ। আপনী যদি প্রধান মন্ত্রিকে দেখতে না পান ভাববেন প্রধানমন্ত্রি আপনাকে দেখছেন। তাতে যদি আপনার মনে তৃপ্তি আসে আমার কিছুই বলার নাই। আর হাদিসটা নিন্ম আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক:
১০:৩৬# “বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।”
৫৩:২৮# “অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।”
আল্লার সত্ত্বা সম্পর্কে যাদের কোন ধারণাই নাই তারা কল্পনা করলেও সেটাও যে সঠিক নয়। কল্পনা সত্য নয় আমার আল্লা তা স্পষ্ট বলেছেন কোরানে।
আল্লার প্রতিষ্ঠিত সালাত/ স্মরণ হচ্ছে সার্বক্ষণিক ১৯:৩১ কোরানে স্পষ্ট। রাছুল সা. জানতেন তাঁর উম্মত আমরা দুনিয়ার মোহে আল্লার স্মরণে (সালাতে) গাফেল হবো। বিধায় ৫টি ওয়াক্ত/ সময় নির্ধারন করে দিয়েছেন। যাতে সে সময়গুলিতে পাক পবিত্র হয়ে বসে, রুকু করে, দাড়িয়ে যেনো আল্লাকে স্মরণ করি। এজন্য রাছুল সা. বলেছেন মুমিনের মেরাজ/ সাক্ষাত হবে দিনে ৫বার। এখন কথা হচ্ছে যার সাক্ষাত হবে না সে মুমিন নয়। আর সাক্ষাত বিহীন সে শারীরিক কসরতও ব্যয়াম ব্যতীত কিছু নয়।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
