আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / তারাবী বেদাত ২য় খলিফা ওমর বলেছেন

তারাবী বেদাত ২য় খলিফা ওমর বলেছেন

তারাবী বেদাত ২য় খলিফা ওমর বলেছেন আমি বলছি না। আমি ওমরের অনুসারী না হয়েও মানতে দিধা করছি না। যেহেতু রহমাতুল্লিল আলামীন আমার রাছুল পরেন নাই। সর্বোচ্চ আমলের অধিকারী আবু বকর পরেন নাই। কিন্তু ওমরের অনুসারীরা এটা মানবে না। তারাই আবার বলে নবীর পরে কেউ যদি নবী হতো? সেটা ওমর হতো। যদিও ভীত্তিহীন হাদিস এই প্রসঙ্গে পরে লিখবো। আমার মনে হয় আমলের পাল্লা আবু বকরের চেয়ে ভারী করতে চায় তারাবী পরে। আর ওমরের কথা না মানলে যে ওমরের অনুসারী থাকে না এটাও বুঝে না। অবশ্য রাছুল সা. যখন আবু হুরায়রাকে দিয়ে কলেমা জান্নাতের চাব্বি দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছিলেন। যে ব্যক্তি একবার একীনের সাথে কলেমা তা্ইয়্যিব পাঠ করবে তার জন্য জান্নাত। ওমর আবু হুরায়রাকে ঘুষি মেরে ফেলে তারপর টেনে রাছুল সা. এর সামনে নিয়ে বলেছিলো আপনার কথা শুনলে মানুষ অলস হয়ে যাবে। এই হাদিস তো এখনো আছে কিতাবে। ওমর রাছুলের ফয়সালা মানে নাই। তাই ওমরের কথার বর্জন চলছে। তারাবী প্রসঙ্গে বুখারীর হাদিস একদমই ফেলনা করে দিয়েছে বেদাত আমলকারীরা। আমি আবার বুখারি শরীফের হাদিসকে মোটামুটি মূল্য দেই। আমি আগে তারাবী বেশ ভালই পরেছি। বুখারীর হাদিসে প্রধান্য দেওয়ার পর যখন দেখছি তারাবীর মালিক নিজেই পরে নাই। বলছে বেদাতে হাসান তখন আর কি করে পরি? তবে হাদিসটি থেকে কিছু প্রশ্নের সহিহ প্রমান যদি কেউ বুখারী শরীফ থেকে দিতে পারেন ভাবছি আবার পরবো। সোয়াব কে না চায়! তবে বেতাদের মধ্যে সোয়াব আমি মোটেই খুজি না। আল্লা বলেন নফল ইবাদতের মধ্যে আল্লার সার্নিদ্ধ পাওয়া যায়। খতম তারাবীর সময় নফল নিয়তে ২০ রাকাতের সময়ে ৪০ রাকাত নফল পরা যায় অনায়াসে। শুধু নিয়তটা সুন্নতের না করে নফলের করলেই হলো। বান্দার সাথ দিলে আল্লা প্রাপ্তির সুযোগ নাই। বরং আল্লার কথা মানলেই আল্লা প্রাপ্তির সম্ভাবনা। নিন্মে বুখারীর হাদিসটি উল্লেখ করে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরছি সেটার সঠিক ফয়সালা পেলে অধিকাংশের সাথ দিতে মনস্থির করবো। লাভের বৈঠা সকলেই বায় আমি কেন বাদ দিবো।
 
হাদিস নং-১৮৬৯ # ‘আবু হোরায়রা রা. হইতে বর্ণিত। হুজুর সা. বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রাত্রে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় নামাযে দাঁড়াবে তাহার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হয়। ইবনে শেহাব বলেন, অত:পর হুজুর সা. ওফাত করিলেন এবং হুকুম এই অবস্থায়ই রহিয়া গেল। তারপর ১ম খলিফার খেলাফত আমল এবং ২য় খলিফার আমলের প্রথম ভাগ এই অবস্থায়ই কাটিয়া গেল। সকলেই ইচ্ছামতই তারাবী পড়িত।
 
ইবনে শেহাব ওরওয়াহ ইবনে জোবায়ের হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী বলিয়াছেন, আমি রমজানের একরাত্রে ওমর ইবনে খাত্তাবের সাথে মসজিদের দিকে বাহির হইলাম। দেখিলাম, বিভিন্ন অবস্থায় বহু লোক, কেহ একা একা নামায পড়িতেছে, কোথাও বা এক ব্যক্তি পড়িতেছে আর কিছু লোকও তাহার সাথে জামাত পড়িতেছে। তখন ওমর রা. বলিলেন, আমার মনে হয় ইহাদের সকলকে একজন কারীর সঙ্গে জামাতভূক্ত করিয়া দিলে সর্বাপেক্ষা ভালো হইবে। অত:পর তিনি তাহাই করার মনস্থ করিলেন এবং তাহাদিগকে উবাই ইবনে কা’ব রা. এর পিছনে জামাতভূক্ত করিয়া দিলেন। ইহার পর আমি দ্বিতীয় রাত্রে আবার তাহার (ওমর) সহিত নামাযে বাহির হইলাম। দেখিলাম, লোকগন তাহাদের ইমামের সহিত নামায পড়িতেছে। ওমর রা. বলিলেন, ইহা উত্তম বেদয়াত।’
 
ওপরোক্ত হাদিসটি পঠনে আমি কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার এবং বিস্মিত
 
১/ ওমর বলেছেন তারাবী বেদাতে হাসানা। হাদিসে দেখা যায় “কুল্লু বিদাতিন দলালা ওয়া কুল্লা দলালাতিন ফিন্নাহর।” অর্থাৎ সকল বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং ভ্রষ্টতার পরিনাম জাহান্নাম।
 
২/ রমজান মাসে সোয়াবের আশায়। অতিরিক্ত সোয়াবের আশায় পড়া হয় নফল নামায এটা অধিকাংশরাই মেনে নিবেন। আর একা একা নফল নামাযে মানুষের অন্তর নরম হইয়া চোখে পানি নির্গত হয়। হাদিসটিতে সুন্নত তারাবী জামাতের সহিত বলা হয় নাই। রাছুল সা. তিন দিন আদায় করেছিলো। সেটা তাহাজ্জুদ নামাজই বুঝা যায়। এরপর আর পরেন নাই। আবু বকরও পরেন নাই।
 
৩/ ওমর তারাবী নিজে পরে নাই এমনকি সাথে থাকা আব্দুর রহমান ২জনই তারাবী পরে নাই দেখেছেন।
 
খলিফা ওমর, আব্দুর রহমান তারাবী পরে থাকলে সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম দলিল দিয়ে সাহায্য করুণ। আমি দুটি কিতাবের নাম বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে সিহহা সিতত্তাহ এই দুটি কিতাবের উপরই সহিহ কথাটা উল্লেখ আছে। বিধায় অন্য দলিল আমার কাছে গ্রহন যোগ্য কম। আমি ছোট ছোট বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছি তার সদ উত্তর পাইনি কারো কাছে।
 
——–ফকির উয়ায়ছী

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *