আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-২

আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-২

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

এই পোষ্টটির শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম এই পোষ্টটির মারেফতের অনুসারীদের কাছে গ্রহন যোগ্যতা পাবেনা। আল্লার রহমতে তার ব্যতীক্রম হয়েছে। যাই হোউক আমার বলার প্রয়োজন বলে যাচ্ছি শুধরিয়ে নেওয়ার মালিক তো আল্লা সোবহান। উল্লেখ প্রথম পর্বে যে ছবিটা প্রদর্শন করা হয়েছে ছবিটা দেখেই সকলেই হয়তো চিনতে পেরেছেন। এই ছবিটি অমুক প্রানীর এটা বুঝানোর জন্যই দেওয়া যে পিরেদেরও সাদৃশ্য হয়। দ্বিতীয় পর্বের ছবিটা দিচ্ছি সেটা দেখেও চেনা যায় প্রানীটি কি চিনতে পারবেন। এখানেও সাদৃশ্য বুঝানোর জন্যই দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রানী গুলি দেশের সকল স্থানেই মিলে। প্রথম পর্বের শেষ বলেছিলাম বাংলাদেশের মশহুর এক পির সাহেব তার বইতে লিখেছেন পির ধরাও জীবনের শেষ শেরেক। তার কথা সত্য বলে মেনে নেওয়া লোকদের তো অর্বাচীন মনে করা যায় না। তবে পির সাহেবকে তো জিজ্ঞাসা করাই যায়। যেহেতু মানুষের মৃত্যুর দিনক্ষন নির্ধারিত সেটা জানেন শুধু আল্লা। সে পিরের মুরিদদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনাদের পির যাকে আল্লারূপে দেখেন, জিজ্ঞাসা করবেন আপনার এবং আপনার পির সাহেবের মৃত্যুর দিন তারিখ। কারণ আপনার পির সাহেবই যখন বলছেন পির ধরাও জীবনের শেষ শেরেক। এই শেরেক কতদিন মাস বছর করতে হবে। যেহেতু শেরেকী গুনাহ আল্লা ক্ষমা করবেন না। শেরেককৃত অবস্থায় যদি আপনাদের মৃত্যু হয়। তবে আপনি যে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে পতিত হবেন। এটাও তো কোরআনেই বলা আছে আল্লা শেরেককারীদের ক্ষমা করবেন না। সূরা নিসা প্রথম পর্বে ৪:৪৮ আয়াত।

বায়াত হওয়ার হুকুম আল্লা কোরআনে দিলেও আয়াতের শুরুতেই আল্লা শর্ত জুরে দিয়েছেন সূরা আয়াত মুমতাহীনা ৬০:১২#“হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু আয়াতটার শুরুতে নিষেধ করেছেন শরীক করবেন না। আর বায়াত করার সাথে সাথে পির সাহেবগন বলে দেন পিরের চেহারা ধ্যান করতে। শিক্ষার শুরুেই হয় পিরের ধ্যান করার শিক্ষা দিয়ে। চোথ বন্ধ করে মূর্তির সামনে দাড়ানো আর চোখ বন্ধ করে পিরের চেহারা সামনে আনার মধ্যে ভিন্নতা নাই উভয়ই শেরেকি। যে কোন কিছু সরণই যে আল্লার সাথে শরীক সেটা শিক্ষিত মানুষদের শিখানোর দরকার পরে না। এই জন্যই সেই পির সাহেব তার বইয়ে লিখেছেন পির ধরাই জীবনের শেষ শেরেক। এই শেরেকি অবস্থায় মৃত্যু হলে কি হবে সেটা কোরআনেই আল্লা বলেছেন। আর আল্লার হুকুম না মানলে এই আয়াতের অন্তর্ভূক্ত হতে হবে :১৪#“যে কেউ আল্লাহ রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন সে সেখানে চিরকাল থাকবে তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।”

সূরা কাহফ এর ২৬ থেকে ৩০ আয়াত পড়লে শিক্ষিতগন বুঝতে পারবেন আয়াতগুলি মেওয়ার কারণ এই আয়াত গুলির মাঝের একটি আয়াত দ্বারা মানুষকে গোমড়া করা হচ্ছে নিন্মে আয়াত উল্লেখ করছি আয়াত গুলি আগে পড়ুন পরে আলোচনা করছি:

১৮:২৬#“বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন নভোমন্ডল ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে তিনি কত চমৎকার দেখেন শোনেন তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না

১৮:২৭#“আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।

১৮:২৮#“ আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।”

১৮:২৯#“বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।

১৮:৩০#“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না।”

পাঠকদের ১৮:২৮ আয়াতটা ভাল করে পড়ে দেখার আহবান করছি এই আয়াতে কোথায় পিরের স্মরণ/ধ্যান করতে আল্লা বলেছেন সেটার বিবেচনা আপনারাই করুন। এই আয়াত দ্বারা সহজ সরল ধর্মভীরু মানুষকে বোকা বানীয়ে শেরেকি করানো হচ্ছে। মানুষও সহজেই মেনে নেয় পির সাহেবদের কথা। অবশ্য তার একটা কারণ আছে মানুষ পিরের দরবারে হাজিরই হয় বিপদগ্রস্থ হলে দুনিয়ার জাগতিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য। তখন পির সাহেব যাই বলুক মোটা মাথার অধিকারীদের; পিরের সামনে গেলে হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়।

বায়াত হলে পিরের হাতকে আল্লার হাত বানায় মুরিদদের বলে পিরের হাত যদি আল্লার হাত হয় পিরের শরীরটা তবে কার আল্লার। হায়! কি বলা যায় এই শ্রেনীর মানুষদের যাদের মাথায় আসে না। এতবড় দেহটা যে কাপড়ে মধ্যে ঢুকাইছে এবং দেহটা যে খাওন খাইয়া বানাইছে সেই জিনিষ গুলি যে আল্লার প্রয়োজন হয় না। আর যা তারা খাইয়া শরীরে এই হাল করছে সেসব আমার আল্লারই সৃষ্টি। আমার আল্লা সমস্ত সৃষ্টির সৃষ্টি কর্তার যার কোন কিছুই দরকার পরে না। কারণ তিঁনি তো “সামাদ” নিষ্প্রয়োজন। মূর্খ যখন এই কথা বলে তখন মোটেও খারাপ লাগে না। যখন শিক্ষিত বিদ্যান অর্বাচীন লোক সকল এই আয়াতটার অর্থ পিরের হাতকে আল্লার হাত বলে মেনে নেয় তখন আর কি বলার থাকে। নিন্মে সূরা ফাতহ আয়াতটা উল্লেখ করছি আপনারা আগে পড়ুন দেখুন:

৪৮:১০#“যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন

উক্ত আয়াতটিতে ভাল করে পড়লেই বুঝতে সুবিধা হবে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছেতাদের বলতে প্রথম রাছুল সা. এর হাত মধ্যে বায়াত গ্রহনকারীর দ্বিতীয় হাত। তার উপর আল্লার হাত। যেহেতু তাদের হাত বলেছেন সেহেতু একাধিক সত্ত্বার হাত বুঝিয়েছেন আল্লার আর আল্লার হাতটি তৃতীয় সত্ত্বা হিসাবে ধরে নিলে সহজেই বুঝা যায়। আমি বৃথা চেষ্টা করচ্ছি যাদের মস্তিস্ক ভর্তি হয়ে আছে কোরআন বিরোধী শিক্ষা দিয়ে তাদের বুঝানো কার সাধ্য। এখানে এই আয়াতটা অত্যাবশক ১৬:১০৮# আল্লাহ তায়ালা এদেরই অন্তর, কর্ণ চক্ষুর উপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এরাই কান্ড জ্ঞানহীন

পিরই যে রাছুল এবং পিরই যে আল্লা সেটা প্রমানের জন্য ৪৮:১০ আয়াতের সাথে সাথে সূরা নিসার ৫৯ আয়াতটিও প্রয়োগ করেন। সূবিধার জন্য এই আয়াতটিও উল্লেখ করছি। :৫৯#“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, এবং নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ করযদি তোমরা আল্লাহ কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।”

এই আয়াতটাতে আল্লা বলেছেন আল্লাকে মান এবং রাছুলকে মান এবং তোমাদের মধ্যে হুকুমের অধিকারীকে মান। প্রত্যেকবারই “এবং” শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। তারপর বলেছেন যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর”এই  আয়াতটিতেও বলা হয়েছে হুকুমের অধিকারীর সাথে মতভেদ হলে হলে আল্লা এবং রাছুলের দিকে প্রত্যর্পন কর। এখানে তৃতীয় সত্ত্বার উপস্থিতি বিদ্যমান। পরের পর্বে আলোচনা করতে চেষ্টা করবো। ২য় পর্ব শেষ করার আগে প্রশ্ন রাখছি কোন আয়াটিতে বুঝা যায় পিরই আল্লা পিরই রাছুল একজনের মধ্যেই তিন বিদ্যমান। আল্লা এবং রাছুল এবং ওলীল আমর (পির) তিন ভীন্ন সত্ত্বা। চলবে………..

প্রথম পর্বের লিঙ্কটা

https://www.owaisitarikah.org/dev/2015/11/08/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87/

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

One comment

  1. Bajan, Ya Ali Modod, excellent article………thanks a lot for sharing with us…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *