আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-৩

আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-৩

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

প্রথম পর্ব লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম কোরআনের উপর পূর্ণ বিশ্বাসীদের জন্য এই পোষ্ট। আল্লা রাছুল সা. এর নাম নেওয়া কোরআন বিরোধীদের সংখ্যা সব সময়ই বেশী। এই জন্যই আল্লা বলেছেন প্রতি হাজারে ৯৯৯জন হেবে জাহান্নামী। যাই হোউক আগের লিখিত দুই পর্বে কোরআন হাদিস দ্বারা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি যথাসাধ্য। কোরআনের কোন আয়াত দ্বারাই বুঝাযায় না আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না। তবে বর্তমানে ভিডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে কিছু আল্লা দ্বাবী করা এক শ্রেনীর লোক দেখা যায়। মনে হয় আল্লা থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত এজেন্ট দুনিয়াতে এসেছে। তাদের কাছে গেলেই আল্লা এবং রাছুল সা. এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে এই দুনিয়াতেই সব ফায়সালা করিয়ে দিবেন। এই এজেন্টদের আবার বেতন ভুক্ত কর্মী আছে তারা গরীরের রক্ত চোষার কাজটি করেন। এ কর্মীদের কাজ হচ্ছে ফসলের (যাকাত) কালেকশন করা। প্রতি মনে ১কেজি। তবে আল্লার এজেন্ট পির সাহেবগন ছাড় দেন মুরিদদেরকে। কারণ আল্লার হুকুম হচ্ছে ফসলের ক্ষেত্রে ১০ ভাগের একভাগ যাকাত। কিন্তু পির সাহেবগন ছাড় দিয়ে ৪০ভাগের একভাগ নিচ্ছেন। তাতে মুরিদগন অল্প দিয়েই আল্লাকে সন্তুষ্ট করতে পারছেন।

পিরগন এই জামানার নায়েবে নবী। সেটা তারা ঠিকই খুব জোড়ের সাথেই প্রচার করেন। ঘটনাও সত্য। কিন্তু রাছুল সা. বংশের জন্য যাকাতের মাল হারাম ছিল। সেটাও হাদিস দ্বারাই প্রমানীত। সেমতে নায়েবে নবীদের জন্য যাকাতের মাল হারাম বলেই জেনেছি আমার মুরশিদ কিবলাজানের মুখ থেকে। গত দুই বৎসর আগের কথা এক মুরিদ আফসোস করে বলছিলেন কি পেলাম ৩৮ বছর মুরিদ থেকে। এই কথা বলার কারণ সে দরবারের নিয়ম পিরের ছেলেই পির হবেন। ৩৮ বছর আগে যখন তিনি মুরিদ হয়েছিল তখন পির সাহেবের ছেলের বয়স ছিল ৮ বৎসর। তার পির ইন্তেকালের পর পিরের ছেলে গদ্দিনশীন পির হয়েছেন। এখন তাকেও পিরের মতনই বাজান ডাকতে হয় হাত জোড় করে দাড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বললেন এই বছর বিক্রমপুর থেকেই ৫০০০ মন শুধু আলু উঠাইছি দরবারের জন্য। আমি তাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বললাম দেরীতে হলে বুঝতে পেরেছেন সেটাই শান্তি রাখেন আলহামদুলিল্লা বলে। যাক এটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল কিন্তু সত্যই বলেছি। আপনাদের দরবারেও ফসলের যাকাত সম্পর্কে খোজ নিয়ে দেখতে পারেন যদি জানা না থাকে।

পিরকে মানার তো একটা লিমিট আল্লা দিয়েছেন ৪:৫৯ আয়াতে। তাও যদি কেউ না বুঝে কি আর করার। ভিডিওটি পারলে দেখুন পির নিজে নিজেই আল্লা দ্বাবী করে বসলো। বক্তব্য সুন্দরই রাখছিলো ৫০ মিনিট পার হতেই ইবলিশের আবির্ভাব হলো মস্তিকে বলে ফেললেন মুরশিদ মানেই আল্লা। আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নাই শিক্ষিতগন দেখুন নিজ কানে শুনুন পরে চিন্তা করবেন।

https://www.youtube.com/watch?v=tdCF4IkEhR0&list=UUy2r16Fkd0JRKJUhzWBEzRQ&index=109

লিঙ্কটি কপি করে এডরেস বারে পেষ্ট করুন পেয়ে যাবেন পির আল্লার সাক্ষাত।(নাউজুবিল্লা)। যে সকল পিররা মুরিদের আল্লা দ্বাবী করে বা মুরিদগন পিরকে আল্লা মনে করেন। তাদের জন্য এই আয়াতটা শতভাগ প্রযোজ্য। ৭:১৯১#“তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” অথচ আল্লার হুকুম হচ্ছে ৭৬:৩০#“আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।” আমার আপনার তো কিছুই করার নাই এই সকল পির এবং অনুসারীদের। মুসা নবী তার কওমের মধ্যে বলেছিলেন ১৪:৮# “মূসা বললেনঃ তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর, তথাপি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, যাবতীয় গুনের আধার।” আমার মত পাপী কোরআনের সে বানীগুলি তুলে ধরা ছাড়া কিবা করতে পারি? আমার পোষ্টে প্রদর্শীত ছবিগুলি ইন্টানেট থেকেই সংগ্রহ আমি একটু এডিট করেছি। এই পোষ্টটের ছবিগুলিও সাদৃস্য বুঝানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। চিনতে পারবেন তারাই যারা দেখেছেন। কিন্তু আল্লা বলেছেন ৪২:১১# “লাইসা কামিছলিহি শাইউন” অর্থৎ-তাঁর (আল্লার) কোন মেছাল (সাদৃশ্য) নাই। বার বারই এটা মনে পরে আর আমি আপনাদের সামনে রাখি। বার বার তুলে ধরার কারণ যেন মনে পরে আল্লার কথা। কোরআন আল্লার ঐশী বানী থাকতেও লোক মুখের কথায় বিশ্বাষ এনে যেভাবে ঈমানের ঘাটতি ঘটাচ্ছেন চিন্তা যেন আসে মাথায়।

এবার আলোচনা করবো আমার অতন্ত শ্রদ্ধাভাজন একটি মানুষ সম্পর্কে যিনি নিজেকে ফকির বলেই গর্ভবোধ করতেন। আমি বলতে চাচ্ছি লালন সাইজির কথা। তিঁনার একজন নগন্য ভক্ত আমি তিঁনাকে আমি কখনোই কোরআন বিরোধী মনে করতে পারি না। আমার মুরশিদ কিবলাজানের মুখে শুনেছি আমার দাদা মুরশিদ বলতেন লালনের গান কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা। লালন সাইজির অনেক গানেই সরূপ স্বাধনের কথাই বলা আছে। লালন গানের অনেক গুরুজনের সাথে আলাপ করেও জেনেছি সরূপ সাধনই করতে হবে। কিন্তু একদল ধর্ম ব্যবসায়ীর জন্য শরিয়তের বিজ্ঞ লোক সকল সাইজিকে মন্দ বলে চলছেন। লালন সাইজির একটি কালাম (বাণী) আছে সেখানে তিঁনি উল্লেখ করেছেন। “হচ্ছেরে কোরআনে মানে যার যার মনে আসে নাই।” ঠিক ঘটছেও তাই। সাইজির বাণী দিয়েও ব্যবসা করে যাচ্ছে এক শ্রেনীর মানুষ। সাইজির গানটি হচ্ছে “যে মুরশিদ, সেই তো রাছুল, তাহাতে নাই কোন ভুল খোদাও সে হয়। ফকির লালন কয় না এমন কথা কোরআনে কয়।” সাইজি সঠিক কথাই বলেছেন লালন কয়না এমন কথা কোরআনে কয়। অর্থাৎ লালন সাইজি বলছেন না এমন কথা কোরআনে বলেছে। উদাহরণ সরূপ আমি কইনা উজির(আপনি) বাদশাকে চোর বলেছে। এখানে আমি প্রথম সত্ত্বা চোর তো বলি নাই এমনকি উজির(আপনি) চোর বলেন নাই বাদশাকে। একথাটাই প্রতিয়মান হয় যে লালন সাইজি এমন কথা কয় যেটা কোরআনে না বলেছে আল্লা। সাইজির মতন এত উচ্চ জ্ঞানের অধিকারী স্ববিরোধী কথা বলতে পারেন আমি তা মানতে পারি না। যদি তিঁনি পিরকেই আল্লা মানতে বলবেন তবে কেন আবার সরূপ দর্শনের কথা বলবেন? পির চেহারা ধ্যানে তো নিজকে জানা হবে না। সরূপ সাধনের সময় যদি সালেক(শিক্ষার্থী) এর মৃত্যু ঘটে তবে নিজের অস্তিত্য পাবে না। যে পির মৃত্যু দিনক্ষন বলে দিতে পারবে তার কাছে যেনে নিন। আপনাকে কতদিন শেরেকী করতে হবে। এখানে আর একটি আয়াত মনে পরে আল্লা তো বলেছে ৪৮:২৩#“এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না সাইজি কোরআনের এই আয়াত জানতেন না এটা বিশ্বাস আমি করি না। কাজেই সাইজি আগে পিরের সুরত ধ্যান পরে সরূপ সাধন করতে হবে বলে মনে করেন তারা সাইজিকে সঠিক ভাবে বুঝতে পারেননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমার বিশ্বাস সাইজি কখনোই পরিবর্তন যোগ্য শিক্ষা দিতে পারেন না। কারণ তিঁনাকে আল্লার কালামের বাইরে মনে করি না। সাইজি নাম ভেঙ্গে যারা চলছেন আপনাদের ধারনা কি সাইজি সূরা মায়িদার আয়াত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। :৭৩#“নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলেঃ আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পতিত হবে। এবং আল্লা এই সূরাতেই বলেছেন :১৭#“নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ ইসা আ. এক সম্প্রদায়ের নবী ছিলো তার মত নবীকে আল্লা মানলেই আল্লা কাফের বলেন। সাইজি কিভাবে দোষেভরা লোকদের কথা বলবেন আল্লা হিসাবে মানতে? আমি শতভাগ নিশ্চিত সাইজির কথা ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আর এই ভুল ব্যাখ্যাকারীদের জন্য আল্লা বলেছেন। :৮০#“ তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ নাফারমানদেরকে পথ দেখান না।” আর তাদের জন্যই আল্লা পুরুষ্কারের কথা বলেছেন। :১১২# “যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” যারা আল্লার কথার উপর পরিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যাস্ত রেখেছেন তাদেরকে আল্লা বন্ধু হিসাবে স্বীকার করেছেন। :৬৮# “আল্লাহ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।” আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোরআন ভাল করে পড়ে দেখবেন সূরা ইউনুসের কয়েটি আয়াত উল্লেখ করছি:

১০:৬২# “মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে

১০:৬৪# “তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হেরফের হয় না।

১০:৭০# “পার্থিবজীবনে সামান্যই লাভ, অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে তখন আমি তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন আযাবতাদেরই কৃত কুফরীর বদলাতে

আল্লা জানেন আমার এই লেখার উদ্দেশ্য আমি তাঁর উপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেই লিখছি আল্লা যাদের রক্ষা করার ইচ্ছা করবেন তাদের জন্য অবশ্যই চিন্তার খোড়াক হবে। অন্যথায় এটাই বলে শেষ করবো ১০৯:৬# “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়াদ্বীন”- অর্থাৎ: তোমাদের ধর্ম তোমাদের আমাদের ধর্ম আমাদের

 

২য় পর্বের লিঙ্কটি

https://www.owaisitarikah.org/dev/2015/11/10/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-2/

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *