ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
৫:৬৭#“হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” আল্লা এই আয়াতটি নাজিল করার পর আল্লার রাছুল সা. সকল হাজীদের ডেকে এক জায়গায় সমবেত করেন এবং তিঁনি ভাষন দিলেন।
“হযরত বারা ইবনে আযেব রা. এবং যায়েদ ইবনে আরকাম রা. হতে বর্নিত রয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ সা. খোম নামক স্থানে ঝিলের নিকট সমস্ত হাজীদের ডেকে একত্র হতে বলেন। তোমরা কি জান না যে আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রানের চেয়েও প্রিয়। লোকগন বললেন, হ্যাঁ। তিঁনি আবার বললেন, তোমরা কি জান আমি প্রত্যেক মুমিনের নিকট তাদের প্রানের চেয়েও প্রিয়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিঁনি তাঁর বাম হাত দিয়ে হযরত আলী আ. এর ডান হাত উচু করে ধরে বললেন, হে আল্লাহ!
আমি যার মওলা (প্রভু), আলীও তার মওলা (প্রভু)। হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আলীকে ভালবাসে, তুমি তাকে ভালবাস। আর যে ব্যক্তি তাকে শত্রু জানে তুমি তার সাথে শত্রুতা পোষন কর। রাবী বললেন, তারপর যখন হযরত আলী রা. এর সাথে হযরত ওমর রা. এর সাক্ষাৎ হল, তখন ওমর রা. তাকে বললেন, ধন্যবাদ হে আবু তালিবের পুত্র! তুমি সর্বসময়ের জন্য প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের মওলা (প্রভু) হয়েছে।–মেশকাত হাদিস নং:৫৮৪৪।
“গাদিরে খুম এর শেষ ভাষনে নবী সা. বলে গিয়েছিলে: আমি তোমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ বস্তু রাখিয়া যাইতেছি। তাহার প্রথমটি হইল আল্লাহর কিতাব। ইহাতে রহিয়াছে হেদায়েত এবং নূর; সুতরাং তোমরা ইহাকে মজবুত ভাবে ধরিয়া রাখিবে। তারপর বলিলেন, আর দ্বিতীয় বস্তু হইল আমার আহলে বাইত অর্থাৎ পরিবারবর্গ। আহলে বাইতের ব্যপারে তোমাদিগকে আল্লাহর কথা স্মরণ করাইয়া দিতেছি- কথাটি তিনবার বলিলেন।” -মুসলিম শরীফ হাদিস নং- ৬০০৯
রাছুল সা. এর শেষ হুকুম যারা মানে নাই তারা এবং তাদের অনুসারীই সবচেয়ে বড় খারেজি। তাদের দলের পরিচিতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দাড়ি, টুপি, জুবা পাগড়ী ওয়ালার দল। এই দলের নেতা ঠাকুরগন কারবালার ময়দানে নবীর বংশ শেষ করার আগে বলেছিলো তারাতাড়ি হুসাইনে কল্লা নিয়া আস আসরের নামায যে কাজ্বা না হয়। হায়রে অবুঝ খারেজি নামাযির দল নামাযে বসে আবার সেই নবী বংশের উপরই সালাম প্রদর্শন করে বেহেস্তে যাওয়ার আশায়। এই বড় দলটাই ইসলামের জন্য সবচেয়ে খতিকারক।
এই দলের কিছু অন্যতম নেতাদের দ্বারা মারেফতও প্রচারিত হচ্ছে। যে দলের নেতাগন মওলা আলীকে রাছুল সা. এর হুকুম অনুসারে না মানলে সমীহ করে সব-সময় বিচারিক ভার মওলা আলীর উপরই নেস্ত করে রেখেছিলেন জ্ঞান অভাবে। সে নেতাদের অনুসারীরা মারেফতের বাদশা মওলা আলীকে মান্য করে না। তাদের পরিচালিত মারেফতের সিলসিলায় মওলা আলী আ. এর নাম নাই। মারফতের সিলসিলায় নবীর নামের পরেই মারেফতের বাদশা মওলা আলীর নাম থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ নবীর হাদিসে পাই রাছুল সা. বলেছেন, “আমি জ্ঞানের শহর আলী তার দরজা”। “আমি হেকমত বিদ্যার ঘর আলী তার দরজা”। “আমি আক্কলের শহর আলী তার দরজা”। এই হাদিস অনুযায়ী বুঝাই যায় রাছুল সা. সঠিক জ্ঞান পেতে হলে আলী আ. দরজা দিয়েই বের হতে হবে। সেমতে সিলসিলার প্রথমে নবীর নামের পরেই মওলা আলী আ. নাম থাকা অত্যাবশক। যদি কোন সিলসিলার সিজরা নামায় তা না থাকে সে মারেফতের পথ সঠিক হতে পারে না। সে দল দুনিয়ার বুকে যত বড়ই হোউক। আল্লার দরবারে সেটা গ্রহনযোগ্য হওয়ার কোন কারণ নাই। নবীজির হুকুম অনুযায়ী যারা মওলা আলীকেও না মানবে তারাও খারেজি। হতে পারে সে দল মারেফতের ছায়ায় সূফীজম নাম ব্যবহার করে চলছে। সে মারেফত পথও তো খারেজিদের দ্বারা পরিচালিত। খারেজিদের দ্বারা পরিচালিত পথ কিভাবে সঠিক হতে পারে? আহলে বায়াতের সঠিক অনুসারীদের কাছে কোন দিনও সঠিক হতে পারে না। সূফীজম বা যে নাম ডাকের পরিচয়ে চলুক দল যত বড়ই হোউক নবীর আহলে বায়াত পাক-পাঞ্জতন যারা না মানবে তাদের মারেফত শুধু নামের মারেফত। খারেজিরাই কোনদিন পাকপাঞ্জতন মানে নাই মানবেও না। তাই মারেফতের অনুসারীদের প্রতি আহবান আমার কথায় কোন মূল্য না দিয়ে আপনার কিতাবের সরণাপন্য হোউন। যারা শিক্ষিত তাদের কাছে অনুরোধ আমার কথাগুলির মধ্যে কোন ভুল আছে কিনা যাচাই করুন? সে সাথে নিজ জ্ঞানে চিন্তা করে সঠিক মনে হয় আপনার আশে-পাশে মানুষগনকে সতর্ক করা আপনাদের দ্বায়িত্ত্বের মধ্যে মনে করে সতর্ক করুন। ঐ সকল খারেজিদের হাত থেকে রক্ষা করুন যারা আমাদের রাছুলের আহলে বায়াতকে মন থেকে মানে না। সব শেসে একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই রাছুল সা. এর হাদিস অনুযায়ী “আল্লা বলেছেন প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামী ১জন জান্নাতী”। শরিয়ত এবং মারেফত উভয়দের জন্য এই হিসাব। এমনকি আল্লার সমস্ত বান্দাদের জন্যই প্রযোজ্য।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
