আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / ফিৎরা প্রদান সকলের জন্যই বাধ্যতা মূলক

ফিৎরা প্রদান সকলের জন্যই বাধ্যতা মূলক

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

ইসলামের পঞ্চ-স্তম্ভের সাথে আর কিছু কিছু বাধ্যতা মূলক বিধান আছে। এর একটি হচ্ছে ফিৎরা  মুসলমান ধর্ম অনুসারীদের জন্য বাধ্যতামুলক একটি শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর থেকে মৃত্যু আগ পর্যন্ত ফিৎরা আদায় করতে হবে। এটা ধনী গরীব উভকেই আদায় করতে হবে।

গতকাল জুম্মার নামাযে গিয়েছি মসজিদে সে মসজিদের খতিব বলছিলে খুতবার আগে ইসলামী ফাউন্ডেশন এই বছর ফিৎরা নির্ধারন করেছে ৬০ টাকা থেকে ১৬৫০ টাকা। তারপর তিনি বললে খেজুর এবং গম মুল্যে এক ‘সা’  পরিমান দিতে পারেন। আর ইচ্ছা করলে ভাতের চাউলও দিতে পারেন। ইমাম সাহেব বলছেন আমি এই বিষয়ে বড় একটা হাদিস দেখেছি আজ আগামী জুম্মায় আলোচনা করবো। আমি আমারই পাশের একজন মুসল্লি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম এই হুজুর কতদিন যাবৎ ইমামতি করছেন। তিনি বললেন আনুমানিক ৭/৮ বৎসর হবে। তখন আমি দাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম হুজুর এক ‘সা’-এর কথা বললেন এই এক সা-এর পরিমান কতটুকু? উত্তরে হুজুর বললেন জানা নাই আগামী সপ্তাহে আলোচনা করবো।

ইমাম সাহেবের ফিৎরার আইটেম যে কার সুন্নত হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়। এই ইমামের কথা শুধু যদি চাউল দিয়ে ফিৎরা আদায় করে তবে অন্য কোন ইমাম ডাল দিয়েও এই সুন্নত আদায় করার পরার্মশ দিলেও ভুল হবে না। তার কারণ অন্তত্য ফিৎরা নিয়ে ডাল ভাত খেতে পারবেন।

গত বৎসর ঢাকায় অবস্থিত বৃহৎ একটি মসজিদের ইমাম সাহেব নামাজের আগে বলেছিলেন যাকাত যার উপর ফরজ হয়েছে তাদের উপরই ফিৎরা প্রযোজ্য। দু:খ লাগে এমন ইমাম সাহেবদের্ একতেদা করে নামায আদায় করি আমরা বেশী সোয়াবের আশায়।

যাক আমি যা পেয়েছি ফিৎরা সম্পর্কে সেটাই আলোচনা করছি। ফিৎরা এমন এক বিধান শরিয়তের এক দিনের ভুমিষ্ট হওয়া শিশুর জন্যও ফিৎরা আদায় করতে হবে। যারা ফিৎরা গ্রহন করবেন তাদেরও ফিৎরা প্রদান করতে হবে। ধরুন কেউ যদি ফিৎরা গ্রহন করেন তাদের আর্থিক অবস্থা  এতই খারাপ তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে স্বামী তার ফিৎরা স্ত্রীকে দিবেন। সেমতে স্ত্রী তার ফিতরা তারেই স্বামীকে প্রদান করবেন। তবুও ফিৎরা দেওয়া থেকে রক্ষা পাবে না।

ফিৎরা প্রদানের বস্তু কি কি এবং পরিমান?

হাদিস শরীফে বর্ণীত আছে রাছুল সা. কতৃক ফিৎরার বস্তু জব, কিসমিস, খেজুর এবং পনির। এই চারটি বস্তুই এক ‘সা’ পরিমান দিতে হবে। অথবা এই মালগুলির সমমূল্যের টাকা প্রদান করতে হবে। রাছুল সা. ওফাতের পর প্রথম চার খলিফার সময় রাছুল সা. বিধানই চালু ছিল।

মক্কা এবং মদিনার এক ‘সা- এর পরিমান প্রায় সাড়ে তিন কেজি। মুয়াবিয়ার শাসন আমলে তার দেশে গমের উৎপাদন ছিল বেশী তাই তার আমলে জবের বদলী গম চালু করা হলো এবং সে সাথে সিরিয়াতেও এক সা পরিমান ফিৎরার প্রচলন শুরু করলেন। আর সিরিয়ার এক ‘সা’  পরিমান ছিল প্রায় ১ কেজি ৭৫০ গ্রাম অর্থাৎ পোনে ২কেজি।

রাছুল সা. এর সুন্নত পালনে সাড়ে তিন কেজি পরিমান আদায় করাই সঠিক বলে মনে করি।আর যারা আর্থিক অবস্থা সচ্ছল থাকতেও আমাদের মতন শুধু গম বা পোনে দুই কেজি দিয়েই পার পেতে চান তারা যেন জেনে রাখেন এটা রাছুল সা. এর সুন্নত পালন হচ্ছে না। আর সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে কেউ যদি জবের পরিবর্তে গম দেন তবে দিতে পারবেন পোনে ২ কেজি ফিৎরা আদায় করতে পারবেন। আর যদি কেউ খেজুর, কিসমিস বা পনির দেন তবে দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৩কেজি পরিমানে। যদি কম দিয়েই ইসলামের বিধান পালন করা যায় তবে কেন বোকার মত বেশী দিতে যাবো।

এখন একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়। মুয়াবিয়া পরিবর্তন ঘটিয়েছে প্রথম ৫ নাম্বার আইটেম গম বানিয়ে। বর্ৎমান ইমাম সাহেবগন আলাদা অভিমত চালাচ্ছেন রাছুল সা. এর নির্ধারিত জিনিষ এবং পরিমানের তোয়াক্কা না করে। তবে আমার ব্যক্তি অভিমতে আর্থিক সচ্ছলতা অনুযায়ী ফিৎরা নির্ধারন করাটা উচিৎ ছিল। হাজার প্রতি, লক্ষ পতি এবং কোটি পতি মানুষদের ফিৎরা হবে শ্রেনীভেদে। এক রকম হবার কোন কারণ নাই।

বর্তমানে খেজুর ৬০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ৬০ টাকা মূলের খেজুর যারা খাবেন তারা ৬০ টাকা মুল্য মানের খেজুর বা সমমান টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায় করলে হবে না। যারা ১২০০ টাকার খেজুর খাচ্ছেন তারা ৬০ টাকা দামের খেজুর বা সমমান টাকা দিয়ে ফিৎরা আদায় করলে সেটা কবুল হবে না। এই ব্যপারে ইসলামী ফাউন্ডেশন ফতোয়া দেওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করি। যেহেতু ফিৎরা ধনী গরীব সকলের জন্যই প্রযোজ্য সেহেতু যারা বড়লোক মানুষের ফিৎরা নিবে তারা সহজেই সর্বনিম্ন ফিৎরা আদায়ে কষ্ট হবে না। ধরুন ১২০০ টাকার সাড়ে তিন কেজি x১২০০=৪২০০ টাকা পেল সে অবলীলায় ৬০ টাকা সর্বনিম্ন ফিৎরা প্রদান করতে পারবে এই ভাবেই তো ফিৎরার বিধান পালন উত্তম হয়। এই ব্যপারে আমাদের দেশের ইসলামী ফতোয়াবাদী সংগঠনের বিবেচনার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর সে সাথে পাঠকগনদের প্রতি অনুরোধ করছি আপনারা আপনাদের বিবেক অনুযায়ী চিন্তা করে ফিৎরা প্রদান করলে গরীবেরা বেশী উপকৃত হবে এবং সেমতে আপনাদের সোয়াবও বৃদ্ধি হবে।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *