ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।”
অর্থ:- “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই। তিনি এক, তাঁর কোন শরিক নেই। এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ সা. তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই যে, এই কলেমা শাহাদাত কোন মুসলমান অস্বীকার করতে পারে! আর যদি কেউ তা করে সে রাছুল সা. এর উম্মত থাকতে পারে না। এমনকি মুসলমান বলার হক রাখে না। এই কলেমাটা ফকির, সূফীবাদীরার অবিশ্বাস করবে সেটাও মানতেও পারি না! এই কলেমায় স্পষ্টই বুঝা যায় নবী সা. আল্লার বান্দা (দাশ) এবং রাছুল । যেহেতু প্রত্যেক বান্দাই দাশ। সহজেই বুঝা যায় রাছুল সা. একজন সৃষ্টি আর আল্লা একক শ্রষ্ঠা। যারা বলে আল্লা এবং রাছুল সা. একই সত্ত্বা তাদের কি বলা যেতে পারে? খালি তাই নয় আমরা যারা রাছুল সা. এর উম্মত তারা তো দাশানুদাশ। আমাদের মত সাধারন মানুষ, যারা কামেল পীর হয়েছেন তারাও রাছুলের উম্মত থেকে বের হয়ে যায় না কোন সময়ই। তারা যদি কেউ একে অপরের আল্লা বলে তাদের তো রাছুল সা. এর সাফায়্যাতের দরকার পরে না। যখন আল্লা হয়ে যায় তখন সৃষ্টি জগত থেকে তো আলাদা হয়। ‘স্রষ্ঠা’ হলে তাকে কিভাবে রাছুল সা. সাফায়্যাত করবেন। রাছুল সা. সেখানে তো নিরুপায়ই থাকবেন। অথচ আল্লা পবিত্র কোরআনে বলেছেন:
“রাছুল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা।”-২:১৪৩
“ডাকবে না আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে যে তোমার উপকারও করেনা, অপকারও করে না।”-১০:১০৬
আশ্চর্য্য লাগে অবুঝদের কথা শুনলে। পীর নাকি আল্লা? যেখানে নবীকেই আল্লা বললে আল্লা কাফের বলে কোরআনে। সেখানে পাপ কার্জে লিপ্ত মানুষ একজন আরেক জনের আল্লা হলে কি আর বলার থাকতে পারে? এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়! হয়তো মাটির বদ গুনের প্রভাবেরই বচন! আর যারা এটা বলে তাদের জন্য স্বীকারোক্তির এই কলেমা প্রযোজ্য নয়? একটি হাদিস দিয়ে রাছুল সা.কে আল্লা প্রমানে ব্যর্থ চেষ্টা করে। এবং কিছু মানুষ সেটা বুঝে না বুঝে সেটাই মেনে নেয়। “মান রানি ফাকাদ রাআল হাক্কা” অর্থাৎ যে আমাকে দেখলো সে যেনো আল্লাকেই দেখলো। আক্কল বিহীন মানুষই মনে করতে পারে রাছুল সা.-ই আল্লা। রাছুল সা. যেহেতু আল্লার চরিত্রে চরিত্রবান ছিলেন তাকে দেখা আর আল্লাকে দেখার মধ্যে কোন তফাৎ ছিল না। তবুও কথাটা চিন্তা করে দেখা দরকার রাছুল সা. কিন্তু বলতে পারতেন। আমি তোমাদের আল্লা; তা রাছুল সা. কখনো বলেন নাই। একটি আয়াত চিন্তা করতে অনুরোধ করছি সূরা আম্বিয়া ২১:১০৭#“আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি”। এই আয়াতটিতেও রাছুল প্রেরিত হয়েছেন অর্থাৎ আল্লাই রাছুল সা. কে প্রেরণ করেছেন। উক্ত আয়াতেও দুটি আলাদা সত্ত্বা বুঝা যায়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীগন ব্যতীত রাছুল সা. এবং আল্লা একই সত্ত্বা কাউকে মনে করতে পারেন না। এই সকল শিক্ষিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মাথায় কেন আসে না আমার বোধগম্য নয়। রাছুল সা. যদি আল্লা-ই হবেন। তবে আল্লা পবিত্র কোরআনে বলেছেন সূরা নিসার আয়াত ৪:১৫০-১৫১# “আল্লা এবং রাছুলগনের মধ্যে যারা পার্থক্য করে তারা কাফের”। রাছুল সা. যদি আল্লা হবেন তো উক্ত আয়াতে রাছুলগনের কথা বলা হয়েছে। রাছুল যদি আল্লা হবে সমস্ত রাছুলগন আল্লাই হয়ে যায় তবে তো আল্লার ছড়াছড়ি লেগে যাবে। পিরের মাঝে যারা আল্লা দেখে তাদের ব্যপারে আমার মনে হয়, আমার ছোট ভাইয়ের এক কথা “পাগলের সুখ মনে মনে কাগজ ছিড়ে টাকা গুনে”। কথাটা হাসির খোড়াক হলেও পিরের মাঝে আল্লা দেখা মুরিদদের জন্য প্রযোজ্য।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
