ফকির উয়ায়ছী:
“ইন্নাল উলামউ ওয়া রাসাতুল আম্বিয়া”- অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আলেমগণ হলো নবীর ওয়ারিশ।” এই হাদিস দেয় মারেফতের পির সাবেহগন এবং শরিয়তের আলেমগন। তবে সব ক্ষেত্রে মনে রাখতে পারে না।
বুখারী হাদীস-১৩৯৪# একদিন হযরত হাসান আ. যাকাতের একটি খেজুর বালক বয়সে মুখে দিয়ে ছিলেন। নবীজী তাঁর নাতীকে থু- থু করে সবটুকু ফেলে দিতে বলেন যাতে মিষ্টি স্বাদ তার গলায় না নামে, যার অর্থ দাড়ায় নবীজীর পরিবারের জন্য যাকাতের মাল খাওয়া যায়েজ ছিল না।
নবির উয়ারিশ সাজে ঠিকই যাকাতের মাল খাওয়ার সময় উপরোক্ত হাদিসটা মনে থাকে না।
তাজ প্রকাশনার বুখারী শরিফ থেকে হাদীস নং-১৩০৮ এবং ওয়েব সাইটে বাংলা হাদীসের ১৩১৮ নং বুখারী
“আবূল ইয়ামান হাকাম ইবনু নাফি রাহ. আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর আবূ বকর রা. এর খিলাফতকালে আরবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তখন ‘উমর (রাঃ) [আবূ বকর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে] বললেন, আপনি (সে সব) লোকদের বিরূদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন (যারা সম্পূর্ণ ধর্ম ত্যাগ করেনি বরং যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে মাত্র)? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ লা ইলাহা ইলল্লাহু বলার পূর্ব পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ আমাকে দেয়া হয়েছে, যে কেউ তা বলল, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের বিধান লংঘন করলে (শাস্তি দেওয়া যাবে), আর অন্তরের গভীরে (হৃদয়াভ্যন্তরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে এর)হিসাব-নিকাশ আল্লাহর যিম্মায়। আবূ বকর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয় আমি যুদ্ধ করবো যারা সালাত (নামায/নামাজ) ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হক। আল্লার কসম, যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকার করে যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো।”
হাদিসটিতে বুঝা যায় “লা ইলাহা ইলল্লাহ” না বলা মানুষগুলি মুশরিক তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। আর কি সুন্দর এই ধরনের লোক থেকে এজেন্ট বানিয়ে যাকাত সংগ্রহ করছে প্রথম খলিফার অনুসারী (শিয়ারা)। হাদিসটিতে আরও উল্লেখ আছে নামায যাকাতে পার্থক্য করলেই সাবাহা যুদ্ধ করার ঘোষনা দিচ্ছেন আল্লার কসম করে। আর এই সাহাবা নামের মারেফতের অনুসারীগন(শিয়ারা) বিধর্মীদের খেলাফত প্রদান করেন। যাকাতের মাল কালেশনের জন্য তারা তো নাযায আদায় করেন না। কলেমা পড়েন না!!! গন্ড মূর্খ অর্বাচীন মুরিদের দল সুযোগ পায় অল্প যাকাত দিয়েই তাদের পির আল্লাহ থেকে রেহাই পায়। আর বেতন ভোগি কিছু মুরিদ আছে তারা গরিবের রক্ত চুষে নিতে সাহায্য করে। আল্লার হিসাব অনুযায়ী ফসলে যাকাত ১০ ভাগের এক ভাগ। কিন্তু পির সাহেব সুযোগ দিয়েছেন ৪০ ভাগের এক ভাগ দিলেই মাফ পায়। প্রতি মন ধান,গম,আলু ফসলের ১ কেজি করে সংগ্রহ করে রাখার জন্য পির প্রতি এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করেই রাখেন। সব জমা হয়ে গেলে ট্রাক পাঠিয়ে সব কালেকশন করে নিয়ে আসেন। এই বির্ধমীরা যাকাত আদায় করেন তাদের নামায কোথায়? পার্থক্যটা চোখে পরে না? খলিফ আবু বকরের অনুসারীদের(শিয়াদের)? কলেমা পড়ার কোন দরকার নাই এই সমস্ত বিধর্মীদের। হযরত আবু বকর বলেছে কলেমা পরলে তার কাছ থেকে জান মাল হেফাজত। তারই নামের অনুসারীরা(শিয়া) কি করছে হায় আফসোস ইসলামের সাথে একি উপহাস!!! খলিফা যাকাত উঠিয়ে বায়তুল মাল সরকারী কোষাগারে জমা করছে। আর তার অনুসারীরা(শিয়ারা) নিজেদের উদর পূর্তি করছে।
গত দুই বৎসর আগের আমি ঘাটাইলে গিয়েছিলাম সবে বরাতের অনুষ্ঠান করার জন্য। সেখানে এক খানকার এজেন্ট গিয়েছে ট্রাক নিয়ে ধান নিতে। মোট ধানের পরিমান দুই ট্রাকের অধিক। গরিবের রক্ত চোষা ধান গুলি কোথা নিচ্ছে যাচ্ছে ময়মনসিংহ নদীর ঐপারে বড় এক খানকায়। শুধু তারাই নয় বাংলাদেশের সমস্ত বড় বড় খানকার এটাই ব্যবসা। পয়সা ওয়ালা যাকাত প্রদানকারীরা যখন পিরের খানকায় যায় যেয়ে ভাত তরকারি খায় সে সবই গরিবের যাকাতের ধান/চাল, আলু। চিন্তা করে দেখবেন যারা যাকাত প্রদান করেন কিন্তু যাকাতের মাল খাওয়া আপনাদের জন্য বৈধ নয়। পিরের খানকায়ে চাউল খাওয়ার আগে খোজ নিয়ে দেখুন চালটা কোন গরিবের রক্ত চুষে আদায় করা হয়েছে তারা আদৌ কি যাকাত দেওয়ার সামর্থ রাখে বা যাকাত দেওয়ার মতন নেসাব পরিমান মাল আছে? নিজের বিবেক জাগ্রত করুন মনে করছেন পিরকে তো আল্লার সমকক্ষ!!!!! খানকা গুলির নাম উল্লেখ করতে পারতাম সে সমস্ত খানকার রক্ত চোষা যাকাত খাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। আমার কথায় বিশ্বাস আনার দরকার নাই। আগামীবার খানকায় খাওয়ার সময় যাকাতের কথা উঠিয়ে জানার চেষ্টা করলেই বুঝতে পারবেন। যারা আপনাদের যাকাতের টাকা পাওয়ার হকদার তাদের যাকাতের চালের ভাত আপনারা খাচ্ছেন।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
