আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / মুসলমান কিভাবে হবো চিন্তাটা করা দরকার

মুসলমান কিভাবে হবো চিন্তাটা করা দরকার

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

আল্লা কোরআনে মুসলমান না হয়ে মরতে নিষেধ করেছেন অথচ এই হুকুমের দিকে দৃষ্টি দেই কয়জনে। মুসলমান শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পন। সহজেই বুঝা যায় আত্মসমর্পনের মাধম্যে মুসলমান হওয়া একমাত্র পদ্ধুতি এটা পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই একই রকম।কারণ মুসলমান শব্দটি নারী পুরুষের জন্য আলাদা নয়। আত্মসমর্পন বায়াতের মাধ্যমেই হতে হবে কাউকে উসিলা বানিয়ে। পবিত্র কোরআনে বায়াত প্রসঙ্গে নারী পুরুষের জন্য একই হুকুম খুজে দেখলেই পরিষ্কার বুঝতে পারবেন পাঠকগন। আর উসিলা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। এই ব্যপারেও আল্লা সূরা ৫:৩৫# “হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন (তালাশ) কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।”

কোন জ্বড় বস্তু কাউকে সঠিক পথ দেখায় না সেটা মুসলমান নাম ধারীরা বিশ্বাস করলেও আল্লাকে  উসিলা ছাড়াই পেতে চায়। আফসোস যে সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কেই বেশী জানা জরুরী সে পথ থেকেই ইবলিশ মানুষকে দুরে রাখে। মুসলমান ব্যতীত সঠিক ভাবে আল্লা সম্পর্কে কেউই জানতে পারে না।২২:৭৮#“ তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন।”

উপরোক্ত আয়াতটি আল্লাহ আয়াত সমগ্র মানব জাতি পুরুষ/ মহিলা উভয়ের জন্যই নাজিল করেছেন। অন্তত্য পক্ষে যারা কোরআন মেনে চলে। মুসলমান শুধু ছেলেদেরই হতে হবে কোরআনে আল্লা কোথাও উল্লেখ করেন নাই। আল্লা বলেছেন এই কোরআন জ্ঞানবানদের জন্য পথের দিশা। জ্ঞান কাজে লাগানোর কথা কেন মাথায় আসে না নিন্মোক্ত আয়াতে।

৩:১০২#“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”

২:১৩২#“এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।”

উপরোক্ত দুইটি আয়াতে আল্লা বলেছেন মুসলমান না হয়ে মরো না। আমি বুঝতে পারি নিজ ইচ্ছায় গিয়েই মুসলমান হতে হবে। জোর করে মুসলমান বানানোর কিছুই নাই। যেহেতু আল্লা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন আল্লার বিধানের কোন পরিবর্তন নাই। এখানে পুরুষের জন্য আলাদা রুসম বানিয়ে মুসলমান বানানোর কোন কারণ আমি দেখি না। আমরা তো জানিনা আল্লা মেয়ে নাকি পুরুষ? তবে পুরুষের জন্য আলাদা বিধান বানিয়ে মুসলমান বানানো কি করে আল্লার হুকুম হতে পারে? আমার মাথায় আসে না। আর যদি খতনা করানোই মুসলমান হওয়ার বিধান হয়। একটি প্রশ্ন আপনাদের জানামতে কোন ছেলে কি পেয়েছেন যে নিজে গিয়ে খতনা করেছে? সকল ছেলেকেই জোড় করে ধরে খতনা করাতে হয়। সব ছেলেই তো খতনার কথা শুনলেই পালায় কান্না কাটির রোল পরে যাকে মুসলমান বানানো হয়। আর একটি কথা খতনা সম্পর্কে কোন আয়াত আমার চোখে পড়ে নাই আজ পর্যন্ত। হয়তো আমার অজ্ঞতা নয়তো মুসলমানের এতবড় রুসম কোরআনে নাই। যদি কোরআনে খতনা সম্পর্কে না থাকে তবে এটাও (খতনা) মুসলমান হওয়ার কাল্পনিক পন্থাই মনে হয়। আমার জানা মতে একমাত্র ইব্রাহিম আ. নিজের খতনা নিজে করেছেন। খতনা করা শারীরিক সুস্থতার জন্য অতিব জরুরী বিধায় বর্ৎমানে শতকরা ৯৮ জন খৃষ্ঠানকে খতনা করে দেয়। এমনকি অধিকাংশ সময় জন্মের সাথে সাথেই। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের মুসলমান নামধারীদের ঘরের সন্তান ৫/৮ বছর বয়সে খতনা করে মুসলমান বানায়। যদি খতনা করলেই মুসলমান হওয়া যায় তবে তো খৃষ্ঠানের ঘরের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশু জন্মের দিন থেকেই মুসলমান। যাদের মাথায় সামান্য এই চিন্তাটা আসে না। যদি খতনা করা পরিবারের ঘরে জন্মেই মুসলমান হওয়া যায় তবে ইব্রাহিম আ. এর সন্তানগন হতেন শ্রেষ্ঠ মুসলমান। কিন্তু আল্লা এক আয়াতে ইব্রাহিম আ.কেও সতর্ক করেছেন ২:১২৪#“যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।” এমনকি নুহু নবীর পুত্র কেনান সেও কাফেরদের অন্তর্ভূক্তই ছিলো। কোরআনের আয়াতে তাই পাওয়া যায়। ১১:৪৬# “আল্লাহ বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।”

আমার জানা নাই কোন কিতাবেও পাই নাই ঐ সময় সে লোকগুলির খতনা করা ছিলো কিনা? তবে যারা নিজ ইচ্ছায় মুসলমান হবে তাদের কাফের হওয়ার কোন সুযোগ নাই।

মুসলমান হওয়ার দ্বিতীয় পন্থা হিসাবে মানা হয় যারা কলেমা তাইয়্যিব পাঠ করে! হায় কলেমা পাঠেও যদি মুসলমান হওয়া যায় আশ্চর্য হতেই হবে! আমি নিজ কানে শুনেছি দেখেছি ময়না পাখিকে কলেমা বলতে। আমার জানা নাই। পাখির মালিক হয়তো মুসলমান ময়না বললে বলতেও পারে।

নুহু আ. অনেক বড় একজন নবী ছিলেন। তিঁনি প্রায় ৯৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন এবং কালেমার দাওয়াত দিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ৭০-৮২ জন লোক আল্লা উপর ঈমান এনেছিলে ইতিহাসে এমনই পাওয়া যায়। কাজেই চিন্তা করে দেখা দরকার। উম্মতে মুহাম্মদির জন্য তো আল্লা প্রতি হাজারে একজন জান্নাতী রেখেছেন বাকী ৯৯৯জনই জাহান্নামী।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *