ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
ইসলামে এত মতভেধ হওয়ার এক মাত্র কারণই হচ্ছে কোরআন হাদিস ছেড়ে নিজস্ব মতামত ইসলামের মধ্যে ঢুকানো। আল্লার অখন্ড কোরআন আর রাছুল সা. এর সহিহ (যে হাদিস কোরআনের সাথে সাংঘর্সিক নয়) হাদিস মেনে চললেই এত মতভেদ হওয়ার কারণ ছিল না। যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে এটা তাবলীগ জামাতের মুসল্লিদের নিয়ে ট্রলার ডুবির ছবি। অনেকেরিই জানা আছে প্রায় ৩০০ মুসল্লি নিয়ে ট্রলারটা ডুবেছিল। সঠিক ইসলামে পথে থাকলে তো পানির ধারে সমাবেশ যোগ দেওয়ার কথা নয়। সেসময় যদি এই ব্যপারে লিখতাম মানুষ মনে কষ্ট পেত। তবে সত্য যেটা আজও সত্য কাল সত্য। আমি এই বিষয়ে লেখায় আমার আপনজনদের মধ্যে কিছু মানুষ কষ্ট পাবেন। কিন্তু রাছুল সা. এর হুকুম পরিত্যাগ করে যেটা করা হবে সেটাকে সমর্থন দেওয়াও যে আল্লার কাছে দ্বায়ী থাকা হবে মানুষের সামনে না বলা হলে। সূরা বাকারা ৪২ নং আয়াত এখানে উল্লেখ করছি। ২:৪২#তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না। যা হোউক আমার বলা আমাকে তো বলতেই হবে।
আল্লা বলেছেন কোরআন জ্ঞানবানদের জন্য পথের দিশা। চিন্তা করতে হবে আল্লা কেন বলেন নাই কোরআন সকলের জন্য পথের দিশা! আমি একটি কিতাবের কিছু অংশ হুবহু উল্লেখ করছি আমি পড়ে আমার কাছে যুক্তি সংগত মনে হয়েছে বিধায়। কারও কাছে যদি অযোক্তিক বা ভুল মনে হয় জানালে খুশি হবো।
{তাবলীগ ভাইয়েরা আরও একটি ধর্মের নামে অধর্ম করছে। তা হলো হজ্বে যেতে না পারলে বিশ্ব ইজতিমায় গেলেই হবে (নাউযুবিল্লাহ)। কোথায় হজ্ব আর কোথায় ইজতিমা। কোথায় মক্কা-মদীনা আর কোথায় টুঙ্গির তুরাগ নদীর পাড়। ইসলামী শরিয়তে তিনটি স্থানে সমাবেশ করা নিষেধ। যথা: ১. নদীর পাড়ে ২. কূপের ধারে এবং ৩. অগ্নি কুন্ডলীর নিকটে।” কারণ এই তিনটি স্থান বিপজ্জনক। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। টঙ্গির তুরাগ নদীর পাড়ে সমাবেশ করা আর গঙ্গা তীরে জড়ো হওয়া একই কথা। হিন্দুদের যত শশ্মান ঘাট আছে সবই নদীর তীরে অবস্থিত। এছাড়া হিন্দুরা গঙ্গা স্নান করার জন্য নদীর তীরেই জমা হয়। আমার তাবলীগ ভাইয়েরা হয়তো উপরোক্ত বিষয়টি জানেন না। যে সব স্থানে শরিয়ত মতে সমাবেশ করা নিষেধ, সে সব স্থানে উপস্থিত হওয়াকে হজ্বের সমতুল্য বা কাছাকাছি মনে করা সম্পূর্ণভাবে ঈমানের বিপরীত। এরূপ বিশ্বাস করলে তাঁর ঈমান থাকবে না। ফলে দেখা যায়, বিশ্ব ইজতিমার দোয়ার ৩০-৪০ লাখ মানুষের কান্নাকাটিতেও কোন বিজয় আসছে না, মুসলিম ভূমিতে কোন শান্তিও আসছে না। বরং আধিপত্য বাড়ছে কাফের, ফাসেক, মুশরিক, মুনাফিকসহ নানারূপ দুর্বৃত্তদের। অথচ এ দোয়ার মাহফিলে চমক আনার জন্যই তাবলীগ জামাতের মহা আয়োজন। তাদের এ কথা জানা দরকার যে, মুসলমানদের উপর আল্লাহর সাহায্য স্রেফ দোয়ার ডাকে আসে না। আসে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর প্রদর্শিত সিরাতুল মুস্তাকিম সুন্দরভাবে আঁকড়ে ধরার উপর ভিত্তি করে। তাই হলপ করে বলা যায়, তাবলীগ জামাতের দলই ভারী হয়েছে অর্থাৎ লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সঠিক ঈমান অন্তরে প্রবেশ করেনি।
১৯৬৫ সালে ঢাকায় প্রথম ইজতিমা শুরু হয়। এর আগে এই ইজতিমা অনুষ্ঠিত হত কাকরাইল মসজিদে। পরবর্তীতে টঙ্গির তুরাগ নদীর পূর্ব তীরে এ ইজতিমার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে থাকে। ইসলামী শরীয়তে নিন্মোক্ত স্থানে ইজতিমার অনুমতি রয়েছে। যথা:-
১. আরাফাত ময়দানে হজ্বের মৌসুমে হাজীগণের সমাবেশ শরিয়ত সম্মত। হযরত নবী করিম (সা.) এখানে হজ্ব মৌসুমে বিদায় হজ্বের ভাষণ প্রদান করেছেন। সে জন্য বিশ্ব মুসলিমের তথায় সমাবেশ ঘটানো চিরকালের জন্য অবধারিত হয়ে যায়। এটাকেই বিশ্ব ইজতিমা বলা হয়। এর কোন বিকল্প হতে পারে না। এর সাথে কোন ইজতিমার তুলনাও করা যাবে না। এ ইজতিমায় অবিশ্বাসী নিশ্চিত কাফের।
২. জুমার দিন সুনির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ব মুসলিমের মসজিদের ইজতিমা শরিয়ত অনুমোদিত। এ ইজতিমার কথা কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।
৩. ওলীমা, খাতনা, বিবাহ, শাদী, জানাজার ইজতিমার ক্ষেত্রেও সময় বিশেষ ইহা ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব ও মোস্তাহাব। ইসলামী শরিয়তে এ সব স্থানে একত্রিত হওয়ার অনুমতি আছে।
৪. জিহাদ বা যুদ্ধের ডাক পড়লে তখন নর-নারী সকলের জন্য যথাযোগ্য স্থান-কাল ব্যক্তি বিশেষে কোন এক স্থানে একত্রিত হওয়া ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব ও মোস্তাহাব।
এ ছাড়া দুনিয়ার যে কোন স্থানে সমাবেশ ঘটানো শরিয়ত সম্মত নয়, বরং অবৈধ। বর্তমান যুগে ঢাকার টুঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে যে জামায়াত হচ্ছে সেই জামায়াত ইসলামী শরিয়তের অনুমোদিত নয়। যদি কেউ ঐ তাবলীগ জামাত তথা ইজতিমাকে ফরজ মনে করে সেখানে উপস্থিত হয়, তবে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি কেউ তামাশা দেখার জন্য সেখানে যায়, তাহলে এতে সওয়াবও হবে না এবং গুনাহও হবে না। আর যদি কেউ টঙ্গির ইজতেমায় না গেলে দোয়া কবুল হবে না বলে বিশ্বাস পোষণ করে, তাহলে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। (সূত্র: সুন্নী পরিচয় ও তাবলীগ পরিচয়)
তাবলীগ ভাইয়েরা বিশ্বাস করেন বিশ্ব ইজতেমা হজ্বের সমতুল্য বা হজ্বের পরেই বিশ্ব ইজতেমার স্থান। তাই আমি নিজে দেখেছি অনেক তাবলীগ ভাইয়েরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্বে যায় না। তারা সুযোগ পেলেই চিল্লাহ দিতে চলে যায়। আমার পাশের গ্রামের একজন লোক সরকারী কর্মকর্তা। তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্বে যান না। একদিন আমি শুনে অবাক হলাম। তিনি তাবলীগ করার জন্য জর্ডানে চলে গেছেন। জর্ডান মুসলিম দেশ সেখানে ইসলামের দাওয়াত দিতে যাওয়াটা বোকামী নয় কি? আল্লাহর নবী (সা.) এর তাবলীগের মূল লক্ষ্য ছিল কাফের-মুশরেক। আর বর্তমান তাবলীগের মূল লক্ষ্য মুসলমানদেরকে তাদের আক্বিদায় বানানো। বিষয়টি পরিস্কার হবে একটু লক্ষ্য করুণ। তা হলো তাবলীগের ভাইয়েরা কোন হিন্দু-খ্রীষ্টান ও অন্যান্য ধর্মের লোকেদের কোনদিনও দাওয়াত দেয় না।
আলেম-উলামা এমনকি তাবলীগের ভাইয়েরা বয়ানে বলে থাকেন মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করুণ। অথচ তারা তাবলীগের নামে মসজিদে অবস্থান করে মসজিদের পবিত্রতা নিজেরাই নষ্ট করে। তাবলীগের ভাইয়েরা মসজিদকে থাকার হোটেলে পরিণত করেছে। ঢাকার কাকরাইল মসজিদে গেলে মনে হয় এটি মসজিদ তথা মানুষের ইবাদতের স্থান না, মনে হয় সরাইখানা বা আবাসিক হোটেল। এভাবে তাবলীগ ভাইয়েরা ধর্মের নামে মসজিদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদকে আবাসিক ঘর রূপে ব্যবহার করা অবৈধ ও হারাম। আল্লাহর নবী (সা.) দাওয়াত দিয়েছেন কালিমার। আর তাবলীগ ভাইয়েরা দাওয়াত দেয় নামাজের এবং চিল্লাহর। তাদের নিকট একটি কিতাব আছে নাম-‘ফাজায়েলে আমল’ যার পূর্ব নাম ছিল ‘তাবলীগী নেছাব’। এটাকে তারা এমনভাবে ভক্তি করে, যে অন্য কোন হাদিস শরীফ তারা পড়তেই চায় না। একস্থানে যদি বোখারী শরীফ, মুসলীম শরীফ, তিরমিজি শরীফ ও ফাজায়েলে আমল রাখা হয়, তাহলে আমার তাবলীগ ভাইয়েরা হাদিস শরীফ বাদ দিয়ে ‘ফাজায়েলে আমাল’ ই হাতে নিবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ‘ফাজায়েলে আমল’ তারা বুকে করে চলা-ফেরা করে। অথচ কোরআন শরীফ নিয়ে তাদের ঘুরতে খুব কমই দেখা যায়। একটা কথা মনে রাখবেন এই ‘ফাজায়েলে আমল’ কিতাবখানা কোন নির্ভরযোগ্য কিতাব নয়। বর্তমানে আরও একটি কিতাব বের হয়েছে যার নাম ‘মুন্তাখাব হাদিস’। এখন তাবলীগীরা ‘ফাজায়েলে আমল’ এর চেয়ে ‘মুন্তাখাব হাদিস’ কে বেশি প্রাধন্য দিয়ে থাকে।}
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী

Somalochonar noy kaj chai… Islami rastro chai
samim সাহেব ভালই বলেছেন। সত্য মানুষের সামনে তুলে ধরা সমালোচনার মধ্যে পরে না। সেটা বরং আলোচনা। মিথ্যার উপর ভীত্তিকৃত কথাবার্তাই সমালোচনার মধ্যে পরে। যাই হোউক ইসলামী রাষ্ট্রর কথা বলছেন সেটা তো কোরআনের কথাই বলছেন সেটা কিভাবে করার আশা করছেন সেটা নিয়ে বলেন কিছু।