ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
নামাজ আমাদের পড়তেই হবে এতে দ্বিমত করার কোন উপায় বা সাহস আমার নাই। সালাত কায়েম করার কথা কোরআনে ৮২ বার বলা আছে। এটা তো দ্বায়ীত্ত্ব মনে করেই করা উচিৎ। চিন্তা করে দেখবেন প্রতি হাজারে কয়জন মানুষ নিজ্ব দ্বায়ীত্ত্ব বোধ থেকে তা করে। কেউ করে বেহেস্তের লোভে আর কেউ করে দোজখের ভয়ে। কতইনা ভাল হত যদি দ্বায়ীত্ত্ব বোধ থেকে করতো। যে লোক নিজ চেতনা দ্বায়ীত্ত্ব বোধ থেকে নামাজ আদায় করে সে কোন অন্যায় অবিচারক পাপ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। নামাজ থেকে উঠে গিয়ে আবার ঘুষ খেতে পারে না। ঘুষের টাকায় অবৈধ রোজগারের টাকায় লোক দেখানো জাকাত, হজ্ব, কোরবানী করতে পারে না। কাজেই মানুষের মনে সে চেতনা বোধটা না জাগিয়ে অসত্য হাদিস বানিয়ে জান্নাতে যাওয়ার চাবি বানিয়ে নামাজের দিকে ডাকছেন। কিছু কিছু হাদিস মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন, বিজ্ঞ আলেম সাহেবদের কথা মানবো নাকি রাছুল সা. এর হাদিস মানবো। কিছু হাদিস শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতই চাপা দিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
ইসলামের অবৈধ কিছু অনুসারীদের মাধ্যমে সেটা এখন থেকে নয় বরং রাছুল সা. এর ওফাত এর পর থেকেই। রাছুল সা. এর ওফাতের আগে একদিন আবু হুরায়রা রা. ডেকে উনার জুতা জোড়া প্রমান সরূপ দিয়ে বললেন যেয়ে প্রচার করার উদ্দেশ্যে; অন্তরে দৃঢ়বিশ্বাসের সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, “আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিবে”। বাইরে বের হয়েই প্রথমে দেখা হলো ওমর রা. সাথে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন মুহাম্মদের জুতা হাতে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? হুরায়রা ব্যক্ত করলেন রাছুল সা. এর কথা। এ কথা শুনেই ওমর রা. হুরায়রার বুকে ঘুসি মেরে চিত করে ফেলে দিলেন এবং ধরে নিয়ে আসলেন রাছুল সা. এর কাছে। এসে নবী সা.কে বললেন আপনার কথা শুনলে মানুষ এই কথার উপর ভরসা করে বসে থাকবে অলস হয়ে যাবে।হাদিস-(মুসলিম এবং মেশকাত-৩৫) হায়রে আফসোস উম্মত কার; চিন্তা করা দরকার! এদিকে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা হুজরাতের ৪৯:২ নং আয়াতে বলেছেন (‘হে মু’মিনগন! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর নিজেদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেই রূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না; এত তোমাদের কর্ম নষ্ট হয়ে যাবে তোমাদের অজান্তে।’) এই হাদিসের অনুরূপ (বুখারী+মুসলিম) ‘‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই।” বলে স্বীকৃতি দিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।‘হযরত আবুযর গিফারী রা. এই হাদিসটি শুনে রাছুল সা.কে জিজ্ঞাসা করলেন হুজুর, কেউ যদি ব্যভিচার করে? নবীজি বললেন তবুও। কেউ যদি চুরি করে? নবীজি বললেন তবুও। কেউ যদি জেনা করে? নবীজি বললেন তবুও। তারপর আবুজর চতুর্থবার মুখ খুলার আগেই রাছুল সা. বললেন আবুজরের নাক কাটা গেলেও। (মেশকাত-২৪ নং হাদিস) এ থেকেও বুঝাযায় রাছুল সা. এর এই কলেমার হাদিসটি কত মর্তবাশীল। জ্ঞানীদেরকে নিজ জ্ঞানে বিচার করার জন্য অনুরোধ করছি আবু হুরায়রাকে আঘাতের ব্যপারটি; আমার মত নাদানের মনে হয় রাছুল সা. এর উম্মতের রাছুল সা. এর দরদই বেশী হওয়ার কথা।এখানে দেখছি তার ব্যতীক্রম। মনে রাখতে হবে সমস্ত সাহাবারাও আখেরী নবীরই উম্মত এবং রাছুল সা. সাফায়্যাতের অপেক্ষামান।
মু’আয বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমাকে রাছুল সা. বলেছেন জান্নাতের চাবি হচ্ছে এ সাক্ষ্য প্রমান করা যে, আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলা বা উপাস্য নেই। হাদিস- (মুসনাদে আহমদ#২৯)
নামাজ বেহেস্তের চাবি এই কথাটি যেখানে সেখানে লিখা দেখা যায়। কথাটিও মন্দ নয় কিন্তু রাছুল সা. এর হাদিসের সাথে সাংঘর্সিক হয়ে যায়। এবং চাবি দুইটা হয়ে যায়। সঠিক চাবি তো দুইটা হতে পারে না। এখানে আমি চিন্তায় পড়ি কোনটা সঠিক ধরে নিবো?
যদি ইয়াকিনের সাথে কলেমা না পড়া হয় কেউ তো মুসলমানই হয় না। মুসলমান না হইয়া নামায পরলে ফায়দা কি? এই হাদিসগুলি কিতাবে থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞ আলেম সাহেবদের কোন দিন বলতে শুনি না! তারা বলেন নামাজ বেহেস্তের চাবি। অবুঝের দল, সাড়া জীবন নামাজ পরলেও তো আপনারা বলতে পারেন না ২ রাকাত নামাজ কবুল হয়েছে কিনা? জিজ্ঞাসা করলে সবাই বলেন ‘আল্লাহই জানেন’। আমিও জানি আল্লাহই ভাল জানেন; আল্লাহ ভাল জানেন না কোনটা? কলেমা সঠিক ভাবে ইয়াকিনের সাথে না পড়ে মুসলমান না হলে সাড়া জীবনের নামাজের কোন মুল্য নাই। কাজেই চিন্তা করার অনুরোধ রইল সব ভালই সবার জন্য ভাল নয়। কথা যত সন্দুরই হোক রাছুল সা. এর বলা কথা থেকে কোনটা ভাল এবং সঠিক হবে না। মিষ্টি জিনিষটি সকলের জন্য ভাল নয় বিশেষ করে যাদের মিষ্টি খেলে রোগ বারে। যতটুকু জানবেন ততটুকুই আমল করা ভাল।
বিনীত অনুরোধ:
আমি ব্যক্তি স্বার্থর জন্য কোন লেখা-লেখি করি না। আল্লা আমাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তিঁনার সৃষ্টির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য লিখা। আমার কোন পোষ্টে যদি আল্লার কোরআন এবং সহিহ হাদিস বিরোধী কিছু থাকে আমাকে জানালে কৃতজ্ঞ হবো। তবে লোক সংখ্যায় বড় দলের মতামত দিয়ে সত্য যাচাই করতে চাইলে সে সত্য আল্লার দরবারে গৃহিত হবে কিনা সেটা বিবেচনা করেই বিরোধীতা করবেন আশা রাখি।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
