আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / জন্ম সুত্রে ওয়ারিস নামা এবং বংশগত সৈয়দনামা বেকার

জন্ম সুত্রে ওয়ারিস নামা এবং বংশগত সৈয়দনামা বেকার

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

সত্য বড় তিক্ত তবুও কিছু জিনিষ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে না দিলে মানুষের নজরে কম আসে। কারণ, তারা যেন চোখ বন্ধ রাখারও জন্য তওবা করেছেন। সরকারী আইন অনুযায়ী পিতা মারা গেলে সন্তানরা সম্পদের ওয়ারিশ হয়। এটাই স্বাভাবিক আমিও মানাতে বাধ্য। বর্তমানে আমাদের মুসলমানদের মাঝে একটা বিশেষ গোত্র আছে যাদের পিতা মারা গেলে রাজা বাদশাদের মত গদ্দির মালিক হয়ে যায়। এতে যোগ্যতা থাক বা না থাক তাতে কিছু যায় আসে না। হযরত ইমাম মালেক রাহ. এর বানী “যে ব্যক্তি এলমে শরিয়তের জ্ঞান হাসিল করেছে এবং এলমে মারেফতের জ্ঞান হাসিল করেনি, সে ফাসিক। আর যে ব্যক্তি মারেফতের জ্ঞান হাসিল করেছে, কিন্তু শরিয়তের জ্ঞান হাসিল করেনি, সে জিন্দিক (কাফের) আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার জ্ঞান অর্জন করেছে, সেই হচ্ছে হক্কানী আলেম বা নায়েবে রাছূল।” এই নায়েবে রাছুলগনেরাই হচ্ছেন পীর। ইসলামের মারেফত শিক্ষার জন্য যখন মানুষ কোন পীর সাহেবদের দরবারে যায় শিখতে শিখতেই হাজারো লাখো মুরিদ মরে যায়। তারা মানুষকে নসিয়ত করার মত মাষ্টারী পায় না।

অপর দিকে সে পীরের সন্তানরা অবুঝ নাদান হওয়া সত্ত্বেও পীরের আওলাদ হওয়ার সুযোগে পীর হয়ে যায় জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই। বাংলাদেশে এমন বহু পীর আছে তাদের যতগুলি ছেলে সন্তান পীরজাদা (পীরের বাচ্চা) আছে ততগুলিই পীরজাদা (পীরের বাচ্চা) হিসাবে পীর হচ্ছেন। পীরজাদা (পীরের বাচ্চা) হওয়াই কি লাভ অথচ প্রত্যেকটি শিশু সন্তান ভুমিষ্ট হয় একই প্রকৃয়াতে। কেউ হয় চোরের ঘরে, কেউ হয় ডাকাতের ঘরে, কেউ হয় পুলিশের ঘরে, কেউ হয় ডাক্তারের ঘরে। আদম সন্তানের সৃষ্টিগত প্রকৃয়ার মধ্যে কোন ভেদাভেদ নাই। তাই সন্তান বা জাদা বা বাচ্চা জন্মানোর সব কৃতিত্ত্বই এক মাত্র আল্লা সুবহানুতায়াল্লার এতে বাচ্চার কোন দোষ গুন ধরার কারণ নাই।

কি দুর্ভাগ্য চোর ডাকাতের জাদা (বাচ্চা)তারা বলতে পারেনা আমি চোরজাদা বা আমি ডাকাতজাদা। কি কারণ? জাদা (বাচ্চা) হওয়ায় তো কোন দোষের কিছু বা গুনের কিছু নাই। সন্তান (জাদা) বড় হয়ে যে যোগ্যতা অর্জন করবে সেটাই তো তার আসল পরিচয়। জাদা (বাচ্চা) তো কোন পরিচয় হতে পারে না। সে সব ভক্ত অনুসারী মুরিদদের চিন্তা করা উচিৎ ডাক্তারের ছেলে তো সব ডাক্তার হয় না। পুলিশের ছেলে তো সব পুলিশ হয় না। নিজ যোগ্যতা ব্যতীত কুখ্যাত চোর লম্পট জাদায় আর পীর জাদায় কোন পার্থক্য নাই।

যোগ্যতা অর্জন ব্যতীত কেউ ডাক্তার, পুলিশ, পাকাচোর বা পীর হতে পারার উপায় নাই। আর পীর হওয়া তো আরও কঠিন কারণ এই শিক্ষা তো পুথিগত বিদ্যার শিক্ষা নয়। বর্তমান পীর সাহেবদের বেলায় এই সুযোগ থাকলেও নবী রাছুলদের ক্ষেত্রে এমন হতো না। এমনকি আল্লা এই ব্যপারে তাঁর কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারায়

২:১২৪# “যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।”

এমনকি সূরা হুদ 
১১:৪৫-৪৫# “আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন-হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।’ এবং ‘আল্লাহ বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।”

উক্ত আয়াত গুলিতেও আল্লা স্পষ্ট ধমক দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন নবীর ঘরেই জন্ম নিলেই নবীর আহাল (বংশ) হবার সুযোগ নাই। ঠিক তেমনি পীরের ঘরে জন্ম হলেই পীর হওয়ার কোন সুযোগ নাই যোগ্যতা ব্যতীত।

বাংলাদেশে এমনও মশহুর দরবার আছেন যাদের ওরসের সময় হাজার হাজার গরু যায় মানুষের তো কমতি নাই। কিন্তু বর্তমান গদ্দিনসীন পীর আওলাদ পীর সাহেব বায়াত করার মত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন নাই বলেই মনে হয়। কারণ বায়াত করার পদ্ধুতি কোরআনে ৪৮:১০ আয়াতে বলা থাকা সত্ত্বেও তার পীর আব্বাজানের রেকর্ডিং করা কথা মাইক দিয়ে বাজিয়ে শুনিয়ে ভক্তদের মুরিদ করেন। মানুষের মনেও চিন্তা কেন যে আসে না যদি পীর বর্তমান না থেকেও যদি পীরের কথা দিয়েই মুরিদ করা যেত তবে তো আল্লা রাছুল সা. বানী পড়িয়েই সকলেই নিজে নিজে রাছুল সা. এরই মুরিদ হয়ে যেত। যেহেতু হাশরের ময়দানে রাছুল সা. এর সাফায়্যাত দরকার হবে।

কাজেই ধর্মভীরু মারেফতের অনুসারীদেরকে আহবান করছি পীর সাহেব শুধুই সঠিক পথের দিশা দিবেন। নিজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে আপনাকেই খেয়াল রেখেই চলতে হবে। পীরের কথা মানতে হবেই যে পর্যন্ত কোরআন এর নির্দেশ মত পরিচালিত করেন পির সাহেব; না হয় কি করণীয় তা আল্লা সূরা নিসা ৪:৫৯#“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লা ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” আয়াতের প্রথমেই বলেছেন কাকে কাকে মানতে হবে আর মাঝেই বলে দিয়েছেন কোন পর্যন্ত মানা যাবে। মনে রেখেই চলতে হবে আল্লা শুধু সাফায়্যাতের দ্বায়ীত্ত্ব রাছুল সা. কেই দিয়েছেন। পীরের কোন ক্ষমতা নাই আমাকে আপনাকে পুলসিরাত পার করিয়ে দিবেন বা সাফায়্যাত করবেন।

মারেফতের অনুসারীগনের মধ্যে অধিকাংশই মনে করে বংশগত সৈয়দ বা পিরের ছেলে হলেই সৈয়দ বা পির হওয়ার যোগ্য আসলে সেটা কতটুকু আপনাদের বিবেচনার জন্য আমার লেখা ছোট একটা কবিতা উদৃতি করছি নিন্মে:

জ্ঞান-ই- বড়

নছবী আর হছবী বড় ছোট নয়।

তালিমেতে পূর্ন যে সেই বড় হয়॥

নছবী না পাও যদি সঠিক খুজিয়া।

হছবীর বাড়ির রাস্তা লও বিচারিয়া॥

না বুঝিয়া পীর যদি ধর দুনিয়াতে।

হইবে ঠিকানা তোমার দোজকেতে॥

জাহেলের হাতে যদি দাও তুমি হাত।

কাফেরের মউত তুমি পাইবে নির্ঘাত॥

পীর কামেল কিনা? লও যাচাই করিয়া।

পাইবে সুখ তুমি জনম ভরিয়া॥

নছবীর গুরুর নিয়া তুমি থাক বসিয়া।

আলবত যাইবে তুমি ধ্বংশ হইয়া॥

ফকির উয়ায়ছী কয় সময় থাকিতে।

সঠিক খুজিয়া লও তুমি নিজ্ব জ্ঞানেতে॥

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *