ফকির উয়ায়ছী:
আমি সব সময় ইসলামী পোষ্ট দিতে চেস্টা করি আল্লা এবং রাছুল সা. এর কথাই তুলে ধরতে। আমি কোন ব্যক্তিগত আহবান করি না। আমার কাছে আসতে চাইলে এটার পক্ষেই আমি নই। যারা আমার লেখা পড়েন তাদের কাছে করজোড়ে একটাই নিবেদন। আপনাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে লেবাসধারী আলেমদের এবং নাম ডাক ওয়ালা লেবাসধারী পিরদের থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। আল্লা এবং রাছুল সা. বাণী দ্বারা সঠিক বিচার করে চিনে নিন কাকে অনুসরন করা যায়। যেহেতু আল্লার হুকুম রাছুল সা.কে অনুসরন করা। আল্লার কথা কে শুনবে। আল্লার কথা মুখে বলেন কিন্তু পুরাপুরি বিরোধীতাই করেন। অনুসরন করার কথা থাকলেও আমরা অনুকরণ প্রিয় মুসলমান বললেই ঠিক হবে। আর একটি প্রশ্ন নিজেদের করবেন জড় বস্তুকে অনুসরণ করা যায় কি? যদি জড় বস্তুকে অনসরন করা যেতো তবে কাগজের পাতার চেয়ে, মূল্যবান ভারী মূর্তির অনুসরণ করলে হওয়ারই কথা।
আমার কথায় হয়তো রেগে যাচ্ছেন কেউ কেউ চিন্তা করে দেখবেন সত্যই অনুসরন করছি নাকি অনুকরণ? তা আবার সীমা বদ্ধ আছে লেবাসে। দাড়ি, টুপি, জুব্বা, পাগড়ি। আল্লা তো একাধিক আয়াতে বলেছেন তোমরা তাকওয়ার পোষাক পরিধান করো। তাকওয়া শব্দেটির অর্থ আমি যতটুকু জানি আল্লা ভীতি। লেবাসে কি আল্লা ভীতির নমুনা পাওয়া যায়? শিখ, ইহুদীদের দাড়ি, পাগড়ি আমাদের থেকে লম্বা! আমরা যদি আধুনিকতার দিকে লক্ষ করি যত সামনের দিকে যাবো আধুনিকতা তত মিলবে। আর যদি সঠিক ইসলাম খুজতে চেষ্টা করবো তত গোড়ার দিকে গেলেই রাছুল সা. এর ইসলাম পাওয়া যাবে। আমরা নিজেদের চোখ, বিবেক কাজে লাগাই না। ব্যবহার করি শুধু দুই কান। কানে শুনেই ইসলাম পালন করি। অথচ আল্লা কি বলেছেন সূরা আরাফের ১৭৯ নং আয়াতে। ৭:১৭৯#আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। আমাকে কেউ কেউ বলেন এত পুরানো কথা বলে লাভ কি? রাছুল সা. যে ইসলাম প্রচার করে গেছেন সেটাও তো পুরানো! আশ্চর্য্য; বাদ দেওয়া যাবে নাকি? শত সহস্র বছরেও সত্য যেমন মিথ্যা হবে না। মিথ্যা লাখো বছর পরও সত্য হবে না। অন্তত্য আল্লার দরবারে। কান কথা শুনতে শুনতে সেটার উপর বিশ্বাস এতই দৃঢ় করে ফেলেছি যে কোরআন হাদিস খুলে দেখার চেয়ে দাওয়াত করে টাকা খরচ করে আলেম সাহেবদের এনে বা টাকা দিয়ে ওয়াজ মাহফিল করিয়ে মানুষকে শুনাই নিজে শুনি। অথচ যে লোকটি পয়সার বিনিময়ে এসে ওয়াজ নসিয়ত করলো কোরআনে এই ব্যপারে কি বলেছেন সে তোয়াক্কাও করি না। কারণ সবই যে করি নেকির আশায়। কথায় কথায় বলে মানুষ দোয়া চাই। আরে আপনি আমার মতন পাপী বান্দার কাছে দোয়া চেয়ে তো নিজের ভালোটার বারোটা বাজাচ্ছেন? আল্লা বলেছেন পবিত্র কোরআনে ৪৭:১৯# “ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে।” আমি পাপীর কাছে দোয়া চাওয়ার সুযোগ কোথায়? যারই কাছে দোয়া চাচ্ছি তারই বা দোয়া করার হক কোথায় যদি সে মু’মিন না হয়!
আমাদের সমাজে ইসলাম পালনটাই মান্যবর হয়ে গেছে। জানার প্রয়োজনতার দরকারই মনে করে না। আসলে বাস্তবিক ভাবে আগে জেনে নিয়ে মানলেই সেটা শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাড়ারাত্র সুবহানআল্লা, সুবহানআল্লা পড়ে সকালে জিজ্ঞাসা করা হলো সুবহানআল্লা নামের অর্থ কি? উত্তরে সেটা তো জানি না।
ইয়েস, নো, ভেরিগুড বললে যেমন ইংরেজ হওয়া যায়। মাশাআল্লা, সুবহানাআল্লা, আলহামদুলিল্লা, ইনশাআল্লা মোটামুটি আরবী এই কয়টা বলতে পারলেই আরবী জাননে ওয়ালা হওয়া যায়। আর যদি সাথে কিছু লেবাস দাড়ি, টুপি, জুব্বা, পাগড়ি। একবারও এই রকম লেবাসধারী নামাযীদের হাতেই নবী বংশ শেষ হয়েছে।
কম্পিউটার/ মোবাইলের মেমোরি যেমন পূর্ণ হয়ে যায় তখন নতুন কিছু স্টোর করতে হলে পূর্বের কিছু ডিলিট করতে হয়। যারা ডিলিট করতে চায় না তাদের নতুন করে ষ্টোর করা হয় না। আমাদের মাথাও ঠিক তেমনই করে রেখেছি অন্তরে থাকা ইবলিশটা বাধা দিচ্ছে চিন্তা করতে। নতুন কিছু ঢুকানোর চিন্তা করি না সত্য যতই হোউক দরকার নাই এতদিন থেকে দেখে আসছি সেটা ভুল হয় কি করে? যা পূর্ব থেকে শুনে এসেছি সেটাই সঠিক ধরে নেই। যদিও এই ব্যপারে আল্লা বলেছেন ৪:১৩৫# “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।
আমরা কি উক্ত আয়াত মেনে চলতে পারি? পাড়া-পড়শি, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন যে আমার সাথে থাকবে না। সত্য প্রকাশ হলে মেনে নিলে মুখে বললে। করতে থাকুন আল্লার কাছে রেহােই পাওয়া যাবে না। যদি কিয়ামত আখেরাতে বিশ্বাস থেকে থাকে জাহান্নাম এড়ানো যাবে না। যাক একটি গল্প আমাদের বর্তমান শিক্ষা মোতাবেক। এটা আমি প্রায়ই বরি আজ আপনাদের সাথে যেভাবে যে নিতে চায় নিতে পারেন। আমি গল্পটা দিয়ে এবং আমার পছন্দের কবিতার চারটি লাইন দিয়ে শেষ করছি আমার লেখাটি
একজন শিক্ষক এক ছাত্রকে উপকার করতে চায় নিজ স্বার্থেই।
শিক্ষক ছাত্রকে উপকার করার জন্য বললেন তুমি যদি ইন্টাভিউ দেওয়ার সময় গরুর রচনাটা বলতে পার তবে তোমাকে ভর্তি করে নেওয়া হবে স্কুলে। পরিক্ষার আগের দিন শিক্ষক সেই ছেলেকে বলছে গরুর রচনা নয়। হেড স্যার বলেছে কুমিরের রচনা ধরবে ইন্টাভিউতে। ছাত্র বলছে স্যার আপনার কথায় কষ্ট করে গরুর রচনা শিখলাম। এখন কুমিরের রচনা। ঠিক আছে স্যার আমি চেষ্টা করবো। পরের দিন ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় শিক্ষকগন বলছেন তুমি কুমিরের রচনা বল।
ছাত্র: শুরু করল: গরুর চারটা পা, ২টা কান।
শিক্ষক: তোমাকে কুমিরের রচনা বলতে বলেছি।
ছাত্র: স্যার বলতেছি। গরু ঘাস খায়…..
শিক্ষক: তুমি বার বার গরুর কথা বলছো।
ছাত্র: স্যার আপনি তো আমারে শেষ করতেই দিতেছেন না। আমি গরুরে মোটা তাজা কইরা টাইনা পানিতে নামাইয়া কুমির দিয়া শেষে খাওয়াইয়া দিমু তখন আপনি আর গরু পাইবেন না। সামনে শুধু কুমিরই দেখবেন।
“মুসলীম! সেতো কবে ম’রে গেছে ইসলাম লেখা কেতাবে।
আকীদা আমল সবই চলে গেছে মুসলীম আজ খেতাবে।
অন্তরে তাদের বাসা বাঁধিয়াছে শুধু লাত মানতের দল,
মুশরিক আজ মুসলীম বেশে করিতেছে কোলাহল।”
(কবি- আল্লামা ইকবাল)
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী

Onek onek sukrea Allaher dorbare amon akta link pawer jonno onek kecu janlam janbo asha kore.Allah Akbar
সালাম মা জননী।
আপনারা পড়ে যদি উপকৃত হতে পারেন তাতেই আমার কষ্ট স্বার্থক হবে। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো যদি আপনাদের উসিলায় মানুষ জানতে পারে। আমাদের ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকবেন আশা রাখি। লিখতে কোন ভুল থাকলে, বা কোন অনুরোধ থাকলে বা পরামর্শ থাকলে জানাতে দিধা করবেন না। বরং সাইটের জন্য উপকারই হবে।
ফকির উয়ায়ছী
আপনারে প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।