আয়াত দিয়েই শুরু করছি ধর্য্য সহকারে পড়বেন।
৩৬:২১# অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।
সূরা ইয়াসিন এর ২১ নং আয়াতটির দিকে লক্ষ করতে অনুরোধ করবো। এই আয়াতটিতে আল্লা কাদেরকে অনুসরন করতে বলেছেন।
৪২:২৩# বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই।
সূরা আশ শুরা ২৩ নং আয়াতে আল্লা তার প্রিয় হাবীবকে হুকুমের সহীতই বলছেন। নবী যে ইসলামের দাওয়াতের বিনিময়ে নবীর আত্নীয়তাদের ভালবাসা ছাড়া কিছু নিতে পারেব না।
২:১৭৪# নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সূরা বাকারার ১৭৪ নং আয়াতটি কি কোন ইমাম কোন মসজিদে বর্ননা করতে শুনেছেন? আমি শুনি নাই। এই আয়াতটা এবং উপরোক্ত আয়াত গুলিই তো সবসময়ই গোপন করেই চলছেন।
২য় খলিফা হযরত ওমরের কথা অনুযায়ী নিম্নের হাদিসটা কি ইমাম সাহেবগন মান্য করে চলেন?
‘মুহাম্মদ ইবনে রাফে এবং আবদ ইবনে হুমাইদ (রাহ.) বর্ণনা করিয়াছে; হুযুরে পাক (সা.) মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন ঘরে বহুলোকের উপস্থিত ছিলেন। তাহাদের মধ্যে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব অন্যতম। হুজুর সা. বলিলেন, আমি তোমাদিগকে একটি লিপিকা লিখিয়া যাই যাহাতে তোমরা পথ হারাইবে না। তখন হযরত ওমর বলিলেন, তোমাদের নিকট আল্লাহর কুরআন বর্তমান আছে। উহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ -মুসলিম শরীফ হাদিস নং- ৪০৯০। -এই হাদিসটি ছবিতে দেওয়া হলো।
এই হাদিসটা যদি মানতো তবে মতভেদ অনেক কমই হতো। হুজুরদের সাথে উপরের আয়াতগুলি আলোচনা করলেই তাদের কোন মতেই আটকে রাখা যায় না হাতে যাই মেখে নেওয়া হোউক। তখন কোরআনের কথা না বলে হাদিস, কিয়াস, এজমায় নিয়া টানাটানি শুরু হয়। তখন নবীতুল্য সাহাবা ওমরের নবীর সমক্ষে শেষ কথা মানেন না।
২:৪১# আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।
বাকারার ৪১ নং আয়াতটি অনেক কিছু বলা থাকলেও এক শ্রেনীর মানুষের জন্য “(আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না।)” আয়াতের এই অংশটুকু দিয়ে তাদের রুজি বাড়ানোর ব্যবস্থা পাকা করেন।
উপরোক্ত আয়াতে ২:৪১ অংশটুকু বয়ান করে বলেন কোরআন খতম দিয়ে কম পয়সা দিবেন না। এই কথাগুলি উল্লেখ করার একটি কারণ আছে। সেটি হচ্ছে ঘাটাইলের এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর গোশল করিয়ে কাফন পরিয়েছে। জানাজার আগেই এক আলেম সাহেব দাড়িয়ে বলছেন মুর্দার কাফফারা আনুমানিক হিসাব করে দিয়ে দেওয়ার জন্য। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কে নিবে কাফফারা আপনি কি নিতে পারবেন। লোকটি উত্তর দিলো মুর্দার পরিবারের লোকজন আমাকে দিলে আমি নিতে পারি। আমি বললাম ভাল। আমি মুর্দার এক পির ভাই। কাফফারা কত দিতে হবে? লোকটি বলল যত ওয়াক্ত নামায কাজ্বা হইছে আনুমানিক হিসাব করে দিলেই হবে। আমি বললাম হিসাব তো আরো বাড়বে। লোকটি একটু আশ্চর্য্য এবং খুশিও। মুর্দা যত ওয়াক্ত নামায পরেছিল তার মধ্যে যা আল্লা কবুল করেন নাই; সে ওয়াক্তগুলির তো কাফফারা দিতে হবে তাই না? লোকটি বললো হিসাবে তো তাই হয়। আমি বললাম কয় ওয়াক্ত আল্লা কবুল করেছেন সেটা আপনি বলেন; বাকী সব টাকা দিচ্ছি। তখন বলে, সেটা আমি কি করে বলবো। আমি আবার বললাম, তবে আপনার জীবনের কয় ওয়াক্ত নামায কবুল হইছে সেটাই বলেন। কাফফারাটা অন্তত্য হা্লাল করে নেন। না হয় যে কাফফারা দিয়ে শান্তি হবে না। আমি আসতেছি বলে কাফফারা রেখেই চলে গেলেন জানাযাতেও তাকে আর পাওয়া গেলো না। এই হচ্ছে অবস্থা আল্লার ভয় দেখিয়ে মুর্দার কাছ থেকেও টাকা আদায় বন্ধ নাই।
কোরআনের আয়াতের মন মত ব্যাখ্যা করে কামিয়ে নিচ্ছে টাকা। লালন ফকির এই জন্যই বলেছেন হচ্ছেরে কোরআনের মানে যার যা মনে আসে তাই।
আমরা যে যাই বলি মানার দরকার নাই কোরআন আল্লার বাণী মেনে চলার জন্যই সকলের প্রতি আহবান।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী


কোরআন আল্লার বাণী মেনে চলার জন্যই সকলের প্রতি আহবান।