ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
খারেজিদের সম্পর্কে ভেবেছিলাম আরোও কিছুদিন পর লিখবো। কিন্তু আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে থাকা মারেফতের কাদরিয়া তরিকতের এক অনুসারী আমাকে সমীহ করে বলেই মনে করি। তিনি আমার কাছে আশা পৌষন করেছেন এই ব্যপারে আমি যেন লিখি। আমার লেখায় তো কোন নিজস্বতা নেই। যা কোরআন হাদিস পড়ে বুঝতে পারি তাই মানুষের সামনে রাখি। আমার লেখা যারা পড়েন তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে সম্মনীত পাঠক। তিনার নাম মো. নুর হুসেন দেলু। জনাব আপনার নামের বানান লিখতে আমার মত অধম যদি ভুল করে থাকি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। জানিনা আমার এই লেখার মধ্য দিয়ে আপনার আকাংখা পূর্ণ হবে কিনা? তবে আমার এই পেষ্টটা আপনার অনুরোধ অনুসারেই লেখা।
“হাদিসে পাওয়া যায় রাছুল সা.কে যারা নিজ প্রানের চেয়েও বেশী ভাল না বাসবে ততক্ষন পর্যন্ত মুসলমান হতে পারবে না”। সে মতে আমার জ্ঞানে এবং দৃষ্টিতে কোন কোন লোক খারেজি সেটাই উল্লেখ করছি। প্রথমে উল্লেখ করছি খারেজি বলতে বুঝি ইসলাম থেকে যারা বাতিল বা যারা ইসলাম থেকে যারা বিতারিত।
ইসলাম থেকে যারা বিতারিত তাদের মুনাফিক বলায় কোন ভুল হবে বলে আমার মনে হয় না। ইসলাম যেহেতু রাছুল সা. এর উপরই ন্যস্ত করেছেন আল্লা। রাছুর সা.কে অবমাননাকারীদেরও খারেজি বলা যেতে পারে এবং কোরআনের দৃষ্টিতে তাদেরকে মু’মিন বলার কোন হক নাই কারোরই। যারা রাছুল সা.কে অবমাননা করে ত্যাগ করেছেন এবং তাদের যারা অনুসরন করেছেন তারাও খারেজি। আর রাছুল সা. যাদের বিতারিত করেছেন রাছুল সা. হইতে বিতারিতকারীদের অনুসারীরাও খারেজি বলেই আমার বিশ্বাস। যেহেতু রাছুল সা. কে যারা পরিত্যাগ করেছে স্ব-ইচ্ছায় এবং রাছুল সা. যাদেরকে তিঁনার সামনে থেকে বিতারিত করেছেন এই দুই দলই তো এই অপরাধে অপরাধি। একটি উদাহন দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি ধরুন কিছু সংখ্যক ছাত্র শিক্ষকের সাথে উদ্দত্য আচরণ করে স্ব-ইচ্ছায় শ্রেনী কক্ষ ত্যাগ করলো। আর কিছুকে সংখ্যকে উদ্দত্য আচরণের জন্য শিক্ষক শ্রেনী কক্ষ থেকে বের করে দিলো। এই দুই দলই বেয়াদব বলেই বিবেচিত হবে ব্যপারটা এমনই তো নাকি ভুল বলছি?
আমি বিশ্বাস করি রাছুল সা.কে ইচ্ছায় যারা পরিত্যাগ করেছে এবং রাছুল সা. যাদের বিতারিত করেছেন তাদের অনুসরনকারীদেরকেও রাছুল সা. প্রানপ্রিয় নাতীদ্বয় তাদের সর্দারীতে পরিচালিত বেহেস্তে ঠাই দিবেন না।
বর্তমানেও সে অনুসারীরা দুনিয়াতে বেশী আছে বলেই হয়তো আল্লা সূরা আনআম বলেছেন
৬:১১৬#“আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে”। আল্লা এতবার করে বলেছেন রাছুল সা. অনুসরন করতে কিন্তু এটা থেকে বের হয়েই যাওয়ার জন্য তারা উৎগ্রীব।
প্রথমেই বলেছি আমার দৃষ্টিতে যারা খারেজি আমি তাদেরই কথাই বলছি। রাছুল সা.কে যারা পরিত্যাগ করেছে তারা খারেজি এবং স্বীকৃত কাফের বললেও ভুল হওয়ার কোন সুযোগ নাই। তাদের সম্পর্কে অধিকাংশেরই জানা। তাদের কথা মসজিদে সচরাচর আলোচনা হয়েই থাকে। আমার মনের প্রশ্নগুলি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চাই।
১নং- আমার দৃষ্টিতে তারা মুসলিম নয় যারা যুদ্ধের ময়দানে রাছুল সা. ফেলে পিছন থেকে পালিয়ে গেছে। এটা সকলেই মেনে নিবেন কারণ পবিত্র কোরআনেই উল্লেখ আছে।
২নং- রাছুল সা. এর জীবদ্দশাতেই রাছুল সা. এর সামনে যারা চিৎকার চেচামেচি করে ঝগড়া বাধিয়ে দেওয়ার ফলে রাছুল সা. তাদেরকে নিজের সামনে থেকে বের করে দিয়েছেন। আমার দৃষ্টিতে তারাও মুসলমান হওয়ার কোন কারণ নাই। যেহেতু কোরআনের সূরা হুজরাতের-২ আয়াতে উল্লেখ আছে
৪৯:২#মুমিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচুস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।} মু’মিনের কর্ম যখন নিস্ফল হয়ে যায় তখন সে আর মু’মিন থাকে না। মুনাফিকেই রূপান্তরিত হয়।
৩নং- যে মু’মিন তার নিজ্ব প্রানের চেয়ে প্রিয় রাছুল সা. পবিত্র লাশ মোবারকের দাফন কার্য ফেলে চলে গিয়েছিলো তাদের আমি মু’মিনের স্থান দিতে মন শায় দেয় না। কারণ অপ্রিয় কোন আত্মীয়ের দাফদ ফেলে কেউ যদি চলে যায় তাকে মানুষ ইর্ষাপরায়ন বলে এই দুনিয়াতেই ক্ষমা করবে না। তাহলে আল্লার প্রিয় হাবীব/প্রিয় বন্ধু বিশ্বমানবের রহমত সরূপ যাকে আল্লা পাঠিয়েছেন আমার প্রানের চেয়েও প্রিয় রাছুল সা.কে যারা ফেলে চলে গিয়েছিল প্রায় তিনদিন পরে এসেছিল নবীর লাশ দাফন করতে তাদের মুসলাম বললে আল্লা কি ক্ষমা করবেন? আমি সেসব লোকদের এবং তাদের অনুসারীদের মুমিন মুসলমান মনে করতে পারি না।
৪নং- যারা রাছুল সা. এর ওসিয়ত কৃত হুকম খন্ডন করে সাথে সাথে কোরআনের আয়াতের অবমাননা করেছেন তাদের কি মু’মিন হিসাবে মেনে নিলে আল্লার ক্ষমা করবেন সে আশা রাখি না। সূরা আনফাল আয়াত
৮:৪১#“আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য”।} এই আয়াত উপেক্ষা করে রাছুল সা. এর দানকৃত সম্পদ যারা বাজেয়াপ্ত করেছেন তাদের এবং তাদের অনুসারীদের কিভাবে আল্লার ক্ষমা পেতে পারেন সেটা আমার মাথায় আসে না। এদের যারা মু’মিন ভেবে পথ চলে আমি সে পথ বর্জন করলে লোকে আমায় মুনাফিক ভাবলেও আমি আল্লার দরবারে আর্জি জানাবো হে পরোয়ার দেগার ইহ কালে যেমন আমি দলেভারি লোকদের থেকে আলাদা থেকেছি পরকালেও আমাকে সে দল হতে আলাদা রেখো।
*হুজুর (সা:) বলিয়াছেন, ফাতেমা আমার (দেহের) একটি টুকরা। যে তাঁহাকে অসন্তুষ্ট করিল, সে যেন আমাকে অসন্তুষ্ট করিল। বুখারী হাদীস নং- ৩৪৪১ এবং ৩৪৮৭।} রাছুল সা. এর ওফাতের পরে বেহেস্তের নারীগনের সর্দার এবং বেহেস্তীবাসী পুরুষদের সর্দারের মাতা মা ফাতেমাকে যারা কষ্ট দিয়েছেন তারা এবং তাদের অনুসারীগন রাছুলের সাফায়্যাত পাবেন বলে আমি মনে করতে পারি না। আমি তাদের অনুসরণ করে জাহান্নামীর দলভারী করতে চাই না। যারা রাছুল সা. এর কলিজার টুকরাকে কষ্ট দিয়েছেন মা ফাতেমা অসন্তুষ্ট হয়ে মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত মা ফাতেমা তাদের মুখ দেখেন নাই এমনকি তিঁনার যানাজাতে সামিল হতেও নিষেধ করে গিয়েছিলেন। বুখারী শরীফের-৩৯১৬ নং হাদিসেও উল্লেখ আছে। আমি হাদিস নাম্বারটি উল্লেখ করলাম তাজ কোম্পানী লি: প্রকাশিত কিতাব থেকে।
৫নং- বুখারী হাদিসে শরীফে পাওয়া ৬১২৮ হাদীসঃ হযরত আনাস হইতে বর্নিত। হুজুর (সা:) বলিয়াছেন, আমার কিছু সংখ্যক সাহাবী হাওজে কাওছারের পাশে আমার নিকট উপস্থিত হইবে। আমি তাহাদিগকে চিনিতে পারিব; কিন্তু আমার সম্মুখ হইতে তাহাদিগকে টানিয়া লইয়া যাওয়া হইবে। আমি বলিব, ইহারা তো আমার সাহাবী । বলা হইবে, তুমি জান না যে, তোমার অবর্তমানে তাহারা কতসব নূতন মত ও পথের উদ্ভব ঘটাইয়াছে।
অনুরূপ হাদীস বুখারী শরীফের হাওজে কাওছার অধ্যায়ে পাবেন- ৬১২২,৬১২৮,৬১৩০ এবং ৬১৩৬ নং হাদীস গুলিতে।}} এই হাদিসে উল্লেখিত জাহান্নামী সাহাবাগন এবং তাদের অনুসারীদের অনুসরনে কি নাজাত পাওয়া যাবে? তারা খারেজি মুনাফিক বললে কি ভুল হবে? আমি সে দলের অনুসারী হতে চাই না। আমি কোরআন হাদিস পড়ে উল্লেখ করছি আমার যদি কোন ভুল থাকে সেক্ষেত্র কিতাব প্রণেতাগন দোষত্রুটির আওতাভুক্ত আর যদি কিতাব প্রনেতার দোষ ত্রুটি না থাকে তবে অবশ্যই কিতাব প্রকাশনাকারীদের উপরই এই দ্বায় বর্তায়। আমি আমার রাছুল সা. প্রেমে ঘাটতি দেখতে পেয়েই উল্লেখ করছি। আগামী পর্ব দেখার অনুরোধ রইলো।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী

Dear Hazrat, It’s great article to knowing about the Khareji community. Peoples can easily find out them. But it’s great regret that most of people did not believe it. May allah give them hedaet. Thanks a lot for your article for sharing with us.
দাদা আমি লিখি এই কথা গুলি যখন তোমাদের মুখ থেকে প্রচারিত হবে তখন এই লেখা স্বার্থকতা আসবে। আর সেটাই আমার আশা আল্লার দরবারে।
ভাল লিখেছেন।
সালাম দাদা ধন্যবাদ আপনাকে। দাদা আমি লিখি এই কথা গুলি যখন আপনাদের উসিলাতে প্রচারিত হবে মানুষের কাছে তখন এই লেখা স্বার্থকতা আসবে। আর সেটাই আমার আশা আল্লার দরবারে।