ফকির উয়ায়ছী:
কিবলা সম্পর্কে বলতে শুরু করার সাথে সাথে অনেকেই বুঝে নিয়েছেন কিবলা সম্পর্কে আর কি বলবে এটা হচ্ছে পশ্চিম দিক। মুসলিম প্রধান দেশগুলি যে দেশ থেকে কাবা ঘর পশ্চিম দিকে তারা কিবলা বলতে পশ্চিক দিক বুঝেন। মক্কার মানুষ কিবলা বলতে কাবা ঘরের দিকটাই বুঝে। আমাদের দেশের সহজ সরল মানুষ সূর্য যেদিকে ডোবে অস্ত যায় সেটি হচ্ছে পশ্চিম। আমরা মুসলমান দ্বাবীদার কিবলা মানেই পশ্চিম দিক বুঝি। যেদিকে পা দিয়ে শুয়া যাবে না। সেদিক ফিরে বাথরুম বানানো যাবে না পস্রাব/পায়খানা করা যাবে না।
পশ্চিম দিক হয়ে নামায আদায় করতে হবে, পশু পাখি জবাই করা লাগবে, মানুষ মারা গেলে পশ্চিম দিকে মুখ ঘুড়িয়ে মাটি দিতে লাগবে। এই সব যাই প্রচলিত আছে আমার মানতে কোন বাধা নাই আপত্তিও করছি না। আমি শুধু তুলে ধরতে চাচ্ছি এই কিবলা সম্পর্কে কোরআনে আল্লা কি বলেছেন। আল্লার কোন দিক সম্পর্কে মন্দ বলার আমার কোন সাহস নাই। এই কথা বলার কারণ হচ্ছে পশ্চিম দিকে ভাল কাজ আর মন্দ কাজ অন্য দিকে। এতে আমার মনে হয় শুধু পশ্চিমই দিকটাই উত্তম। মাঝে মাঝে আমার মাথায় চিন্তা আসে তা আপনাদের সামনে তুলে ধরি। সূরা বাকারার ১১৫ আয়াতে আল্লা বলছেন যেদিকেই মুখ ঘুরাবো সেদিকেই আল্লা আছে। নিন্মে আয়াতটি
২:১১৫# “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।”
এমনকি সূরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াতটা পড়লে স্পষ্ট হয় যে আল্লা শুধু পশ্চিম দিকেই নয়।
২:১৭৭# “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”
আমি অল্প বুঝের মানুষ। পশ্চিম দিক যেহেতু অস্তাচল সেহেতু উদয়াচল হচ্ছে পূর্ব দিক। কিন্তু আমরা (মুসলমানরা) শুধু এক পশ্চিম দিক নিয়েই মাতা মাতিতে রত থাকি। আল্লা পূর্ব পশ্চিম প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন সূরা আর রহমান ১৭ আয়াতে সেটা এই চিন্তাটা কার কার মাথায় আসে সেটা মোটেই দেখা যায় না। আয়াতটি নিন্মে:
৫৫:১৭# “তিনি দুই উদয়াচল (পূর্ব) ও দুই অস্তাচল (পশ্চিম) এর মালিক।”
যাক যাদের মাথায় চিন্তা আসবে তারাই চিন্তা করবেন। আমি দেখছি দুই পশ্চিম দুই পূর্ব। আমি কিবলা সম্পর্কে কোরআনে যা পেয়েছি তাতে দেখা যায়। ‘কিবলা’ আরবী শব্দটির বাংলা অর্থ পছন্দনীয় ব্যক্তি। আপনারা বুঝতে পারবেন যদি কোরআনের সূরা বাকারার ১৪৪ নং আয়াতটি পড়ে উপলব্ধিকরেন। আমি নিন্মে আয়াতটি উল্লেখ করছি।
২:১৪৪# “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।”
উপরোক্ত আয়াতে স্পষ্টই উল্লেখ আছে “আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন”। ‘যাকে’ শব্দটি ব্যক্তি বিশেষ ছাড়া অন্য কোন ভাবেই ব্যবহার্য্য নয়। কাজেই এই আয়াতটিতে সহজেই পরিলক্ষিত হয়। যে যাকে পছন্দ করে সেই ব্যক্তিই হচ্ছে তার কিবলা।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী

Dear bajan, thanks for sharing this post with us..
খাটি সত্য লেখনি
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।