ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
ঈয়াকীন দৃঢ় বিশ্বাস। রাছুল সা. দাওয়াত দিতেন ঈমানের। আর বর্তমান ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয় আমলের। বর্তমানে ইসলামের ভীত্তিগুলি পালনের জন্য যারা আহবান করে তারা নিজেদের মূল্য নির্ধারন করে নিয়েই নিজেদের বিক্রি করে। কেউ বা মাসিক বিনিময়ের মাধম্যে কেউ সাময়িক চুক্তিভীত্তিক ভাবে। যেহেতু ইসলামের প্রচারকগনদের টাকা দিতে হয় তাই লোকের কাছে সোয়াবের কথা বলে লোভ দেখিয়ে টাকা আদায় করতে হয়। অথচ ইসলামের দাওয়াত হওয়ার কথা মূল্যবিহীনভাবে। নীতিভ্রষ্ট মানুষগুলি পাপকর্মেযুক্ত মানুষগুলি যখন সোয়াবের গন্ধপায় সেদিকেই ধাবিত হয় কিছু মুল্যের বিনীময়ে। কারণ কর্তব্য জ্ঞান থেকে ইসলাম মানতে হবে সেটার কথা কোন আলেমগনকেই বলতে শুনা যা্য় না।তাদের আলোচনার বিষয় বস্তুই হয় এটা করলে সোয়াব আর ওটা করলে পাপ হবে। জাহান্নামের ভয় এবং জান্নাতের লোভ এমন ভাবে ধরিয়ে দেয় তাতে পাপীষ্ঠ বান্দাগুলি টাকা দিয়ে সোয়াব কিনে বেহেস্তে জায়গা করে রাখার বাসনায় মত্ত হয়। এই সমস্ত ইবাদতকারীদের কথা ভেবেই হযরত রাবেয়া বসরী একদিন একহাতে আগুন আর এক হাতে পানি নিয়ে দৌড়াছিলেন মানুষ জন জিজ্ঞাসা করেছিলেন তুমি আগুন পানি নিয়ে দৌড়াও কেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন আগুন দিয়ে বেহেস্তটা পুড়িয়ে দিবো আর পানি দিয়ে জাহান্নামটা নিভিয়ে দিবো তখন দেখবো মানুষ কেন ইবাদত করে। নরবড়ে ঈমান নিয়ে আমলের পাহাড় গড়ে কি লাভ হবে আমার জানা নাই। নিন্মোক্ত আয়াতটি দেখুন:
৪৯:১৪# “মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।”
মরুবাসীদের অনুসারী কি এই দুনিয়াতে নেই? অবশ্যই আছে এই ধরনের মন-মানুষিকতার মানুষ দুনিয়াতে। এই কোরআন যতদিন থাকবে ধরায় ততদিন শয়তান তার অনুসারী বানিয়েই চলবেন।
২:৮# “মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।”
২:৯# “তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।”
২:১০# “তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।”
আল্লা ঈমানদারদের প্রতি আহবান করেছেন। এই ঈমান নিজে নিজে আনার বস্তু নয়। ঈমান আনতে হয় কারো আনুগত্যের মাধম্যে। কিন্তু বিজ্ঞ পন্ডিতগন মনে করে আমি শিক্ষিত বই-পুস্তক পড়েই ঈমান এনেছি। বিশ্বাস কি এতো সোজা বস্তু? ছোট একটি উদাহরণ দিয়ে পরিষ্কার হলে হতেও পারে! আমার বাড়ির পাশেই বিত্তশালী সুন্দরী একটি কুমারী মেয়ে তার মায়ের সাথে থাকে বাবা নাই। মেয়েটির জন্য নামাযী একটি পাত্র দরকার। কথার প্রথমেই তো দেখতে চান সকলেই। যেখানেই নিজের স্বার্থশংশ্লিষ্ট কিছু সামনে আসে আগে নিজ চোখে দেখে বিশ্বাস করতে আগ্রহী হয়। আসলে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুনিয়াতে মাত্র একটা জিনিষই না দেখে বিশ্বাস করে। এবং উসিলা ব্যতীতই পাবার আশা করে সেটি হচ্ছে আল্লা। আল্লা সূরা মায়িদায় ৫:৩৫# “হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।” এই আয়াতে ‘অন্বেষন (তালাশ)’ বলতে জ্বড় বস্তুর কথা বুঝানো হয় নাই। আর ‘তাঁর পথে জেহাদ’ শব্দটিকে আত্মশুদ্ধির কথাই বলা হয়েছে। কারণ আত্মশুদ্ধি হচ্ছে জেহাদে আকবর। অথচ আল্লা কোরআনে কোথাও বলেন নাই না দেখে বিশ্বাস করতে। আল্লা বলেছেন গায়েবে বিশ্বাস করতে। গায়েব মানে তো অদৃশ্য বা নিরাকার নয়। গায়েব মানে অনুপস্থিত। অর্থাৎ এখন সামনে দৃশ্যমান নাই অন্য কোথাও দৃশ্যমান। আল্লকে দেখা যাবে না এই বিশ্বাস যদি কারো মনে থাকে তবে তো কোরআন অনুযায়ী কাফের হতে হবে। ২:২২৩ এবং ২৯:২৩ আয়াত তার প্রমান।
কিছু সংখ্যা মানুষ আছে তাদের সামনে কোরআন মেলে ধরলেও তাদের পান্ডিত্য জাহির করেন এবং সে মতে মত প্রকাশ করেন। আমি লেখালেখি করি আহলে বায়াতের শান মান তুলে ধরার জন্য নবীর পরিবার বিরোধীদের পক্ষে আমি কোন দিনও যেতে পারি না। কোরআনের রেফারেন্স বেশী ব্যবহার করি যাতে মানুষ সন্দিহান না হয়। তবুও কিছু সংখ্যক মানুষ আমাকে বলেন এত পুরানো কথা বলা ঠিক নয়। তাদের কথা শুনলে মনে হয়, মিথ্যা পুরানো হয়ে সত্য হয়ে যাবে। আরে আমাদের কাছে এক দেড় হাজার বছর অনেক বেশী মনে হলেও আল্লার কাছে তো খুব বেশী নয়। এই ব্যপারে আল্লা কোরআনে উল্লেখ করেছেন:
২৩:১১২# “আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করলে বছরের গণনায়?”
১১৩# “তারা বলবে, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন।”
১১৪# “আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা তাতে অল্পদিনই অবস্থান করেছ, যদি তোমরা জানতে?”
উপরোক্ত আয়াতগুলি কোরআনে বিদ্যমান থাকতেও বলে এতদিন আগের কথা বলা হচ্ছে। এদের চেয়ে বড় জাহেল গাফেল কারা আছে; যারা সত্য চাপিয়ে রাখতে চায় জানার পরও। পুরানো সত্য যদি বাদই দিতে হয় তারা আমার আল্লা, আমার নবী, আল্লার কোরআন, রাছুল সা. এর হাদিসও বাদ দিয়ে দিবেন? নিজের মতামতের উপর চলে আবার এই দলও ভারী করতে চায়। এমনিতেই জাহান্নামীর দল প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন। এই জাহেলের দল চেষ্টা করে সে একজনকেও তাদের নীতি কথায় জান্নাতের পথ থেকে টেনে আনার। এই দল যতই টানাটানি করুক না কেন আল্লার হিসাবের একজনকে বিপথগামী করে তাদের দলভুক্ত করতে পারবে না। কোরআনে আল্লার হুকুম ৯:১১৯#“ হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।”
আল্লার হুকুমের খেলাফ কাজ করেই তারা প্রমান দেয় যে তারা ঈমানদার হওয়ার যোগ্য নয়। আল্লা বলছেন
৪:১৩৫# “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।”
৪:১৩৫# আয়াতে আল্লা এতবড় কঠিন নির্দেষ দেওয়ার পরও তারা আল্লার বানীকে অদেখা করছে পারিপার্শিক লোকের কথা ভেবে। সত্যকে বর্জন করে এরাও আবার নিজেদের নামাযী বলে।
আপনাদের জানা একটি গল্প বলছি এক ভদ্র মহিলা তার স্বামীকে বলছেন দেখ খবরের কাগজে কি লিখেছে সিগারেট/মদ খেলে এত খারাপ হয়। বার বার একই কথা বলছে স্ত্রী। বিরক্ত হয়ে স্বামী বললো কাল থেকে বন্ধ। পরের দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো খবরের কাগজ আসে না। স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলো খবরের কাগজ তো দিলোনা আজ? উত্তরে স্বামী বল; আমি তো গতকালই বলেছি আজ থেকে বন্ধ। আমি আল্লার পক্ষে লেখার কারণে আমাকেই পরিত্যাজ্ঞ করবে অনেকে। আসলে আমাকে তারা পরিত্যাজ্ঞ করছে না বরং তারা সত্য থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আমার ফেসবুকে লেখা আমার পরিচিতির জন্য নয়, লাইক পাওয়ার আশাতেও নয়, আমি কাউকে আহবান করার ইচ্ছাতেও লিখি না। আমার সাথে দেখা করাতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করি না। সত্য প্রচারের উদ্দেশ্যে লেখার চেষ্টা করি। সত্য যদি মানুষকে সঠিক পথ খুজতে সাহায্য করে তাহলেই পাঠকদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার সৃষ্টির কৃতজ্ঞতা মনে করবো।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
