আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / ইসলামে বায়াত হওয়া প্রয়োজনীয়তা কতটুকু পর্ব-৪/৬

ইসলামে বায়াত হওয়া প্রয়োজনীয়তা কতটুকু পর্ব-৪/৬

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

আমাদের উয়ায়ছী তরিকতে বায়াত দুইটি ভাগ এবং দুইটি উদ্দেশ্য প্রথম ভাগে তওবা দ্বিতীয় অংশে বায়াত। প্রথম অংশে তওবা পরিয়ে পূর্বের জানা, অজানা, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত সকল গুনাহর জন্য আল্লার কাছে ক্ষমাচেয়ে পিরের উসিলায় গুনাহ বিক্রি করবে এবং পরের অংশে আগাম (ভবিষ্যৎ) গুনাহ শয়তানের ওয়াস ওয়াসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার অঙ্গিকার করা।

নিন্মোক্ত আয়াত গুলি দেখবেন আল্লা বান্দায় দাখেল হতে বলেছেন। বান্দায় দাখিল হলেই জান্নাত মিলে আর বান্দায় (দাসত্ব) দাখিল বায়াতের মাধ্যম ব্যতীত হওয়ার কোন উপায় নাই।

৮৯:২৭-৩০# “হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর”। দাসত্ব যে কোন মানুষের মাধ্যমেই হতে হবে এই জন্য আল্লা ৫:৩৫#“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও”

শিক্ষিত মানুষগন আশা করি একমত হবেন যে জড় বস্তু কখনোও উসিলা হতে পারে না এমনকি পথও দেখাতে পারে না। কাজেই বান্দায় দাখেল হতে কারো হাত ধরেই বান্দায় প্রবেশ করতে হবে। উসিলা ব্যতিত কিছু হয় না সেটা হাদিস থেকে পাওয়া যায় মেরাজে যাওয়ার সময় রাছুল সা.কেও জিব্রাইলের উসিলায় ছষ্ঠ আসমান পর্যন্ত গিয়েছিলেন। আর আল্লা যেহেতু বলেছেন ২০:৮২#“যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল”। সেহেতু বায়াত হলে পূর্বে গুনাহ মাফ এবং বায়াতের পথে অটল থাকতে পারলে আল্লার ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং জান্নাত তো অবধারিত।

আর যখন থেকে বায়াতের মাধ্যমে আনুগত্যের শপথ করা হয় তখনই আত্মসমর্পন করা হয়। আর আত্মসমর্পনকারীই হচ্ছে মুসলমান। যে বায়াতের মাধম্যে আত্মসমর্পন করে সেই মুসলাম হতে পারে। এই মুসলমান হওয়ার বিধান নারী এবং পুরুষের জন্য একই রকম। কিন্তু আল্লা পুরুষদের বায়াত হতে বলেছে হাতে হাত দিয়ে। আর শরিয়তের বিধানে অনুযায়ী নারীদের বায়াতের প্রথাটা পুরুষদের থেকে একটু ভিন্ন অর্থাৎ পরদার আড়াল থেকে।

বায়াত হলে কি হবে সেটা জানার জন্য ধর্য্য ধরে মাথা ঠান্ডা করে পড়ে চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে এই সব ব্যপারে অবগত নন তাদের কাছে পাগলের প্রলাপ হহলেও লেখাটা জ্ঞান দিয়ে বিচার করার অনুরোধ রাখবো। নিম্নে কয়েকটা আয়াত উল্লেখ করছি আপনাদের চিন্তার জন্য।

২২:৭৮# “তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন”।

২:১৩২# “ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না”।

৩:১০২# “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না”

২:১৩২ এবং ৩:১০২# আয়াতগুলিতে চিন্তা করে দেখুন আল্লা অযথা কোন কথা বলেন নাই কোরআনে। ইব্রাহিম আ. মুসলমানের জাতির পিতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ছেলেদের মুসলমান হতে বলছেন। এই আয়াতটিতে সহজেই বুঝা যাচ্ছে জন্মগতভাবে মুসলমান হওয়া গেলে ইব্রাহিম আ. এর সন্তানের চেয়ে বড় জন্মগত মুসলমান কেউ হতে পারতো! কিন্তু জন্মগত মুসলমান হওয়ার কোন উপায় নাই। হাদিসে বর্ণিত আছে “আমি প্রতিটি আদম সন্তানকে ইসলামের ফিৎরাতের উপর সৃষ্টি করেছি”। আল্লা সমস্ত মানবকে ইসলামের উপর সৃষ্টি করেছেন কিন্তু সব মানব মুসলমান নয়। কাজেই বুঝার অনেক কিছুই আছে যা আমরা চিন্তা করি না। এই হাদিস দ্বারাও বুঝা যায় জন্মগত মুসলমান হওয়ার কোনই উপায় নাই। মুসলমান নিজেকেই হতে হবে। আর মুসলমান হতে হবে বায়াতের মাধ্যমেই। মুসলমান শব্দটার অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পনকারী। এই আত্মসমর্পন বায়াতের মাধ্যমেই হতে হয়। বায়াত ব্যতীত মুসলমান হওয়ার কোন উপায়ই নাই। যার মাধম্যে আনুগত্যের (বায়াত) করবেন সেই আপনার নেতা হয়ে আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবে এবং হাশরের ময়দানে আল্লা তারই সাথে আপনাকে ডাকবেন। তিনটি হাদিস দিচ্ছি নিম্নে:

“যে ব্যক্তি বায়াত বিহীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু হলো”।

“যে ব্যক্তি মারা যায় অথচ তার গলায় বায়াতের রশি থাকে না সে কুফরীর মৃতুবরণ করলো”।- মুসলীম শরীফ

“যে ব্যক্তি তার জামানার ইমামকে চিনলো না সে জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করলো”।

একটা সাধারন প্রশ্ন আপনি যদি জানেন বৃষ্টির দিনে রাস্তায় নাপাকি পারিয়েই রাস্তা পার হতে হবে তবে কি আপনি পরিষ্কার সাদা কাপড় পরে বের হবেন? অবশ্যই না। ঠিক চিন্তার বিষয় এখানে? যাদের পিছনে নামায আদায় করেন তাদের কাছে জানতে চাইবেন। “হুজুর হাদিসগুলি সঠিক কিনা বলেন; সত্য হলে টাকা ওয়ালা মানুষগন তো মক্কা মদিনাতে গিয়েও বায়াত হতে পারবেন। যদি এই দেশে কোন মানুষের উপর আস্থা রাখতে না পারেন। বার বার হজ্ব, ওমরা পালন করছেন নামায আদায় করতে করতে কপালে কালো দাগ করেছেন। মৃত্যু যদি জাহেলী হালতেই হয় তবে এই ইবাদতের মুল্য কি? আগে জাহেলের খাতা থেকে নিজের নাম কাটানো জরুরী নয় কি?

তবে নিজ জ্ঞানে খেয়াল রাখতে হবে যার কাছে বায়াত হবেন সে যেন শেরেকি শিক্ষা না দেয়। আর এই শেরেকির ব্যপারে আল্লা কোরআনে বলেছেন শেরেকি গুনাহ আল্লা ক্ষমা করেন না।

৪:৪৮# “নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা শেরেকি গুনাহ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্য সব গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করলো, সে অতি কঠিন গুনাহে লিপ্ত হল”।

যারা শেরেকি শিক্ষা দেয় তাদের সামনে সূরা আরাফে ১৯১ আয়াতটা তুলে ধরবেন ৭:১৯১#“তারা কি এমন বস্তুকে শরিক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট”। আমাদের মত পির সাহেবদের সামনে শিক্ষিত মানুষের সমাগম কম তাই মানুষকে বিপথে নিতে কষ্টও কম। যাও শিক্ষিত কিছু আসে তারা স্বার্থ হাসিলের জন্য দুনিয়ার কাজের জন্য হাজির হয়। আর কতক আসে নিজে যখন ছোট ছিলো তখন দাদা, বাবাকে দেখেছেন তখন থেকেই শ্রদ্ধা সম্মান করে আসছে এখন ভাল মন্দ আর চিন্তা করেও দেখে না! কিন্তু এই কথাটা একদম ভুলেই যায় আল্লা বলেছেন “যার যার বুঝা তাকেই বহন করতে হবে”। দাদা বাবা ভুল পথে গেলে আমিও সে পথে হাটলে এটার জন্য আল্লা পূর্ব পূরুষদের দ্বায়ী করবেন না। কাজেই চিন্তা করে নিজেরা নিজের জ্ঞান মত চলতে চেষ্টা করুণ। আমার কথা ভেবে কিছু করবেন না। আপনার পথ প্রদর্শক যেন হয় কোরআনের সাথে সংযুক্ত।

মারেফত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ প্রথমত হচ্ছে পিরের ছেলেই গদ্দিনশীন পির হওয়া আর এক হচ্ছে স্বপ্ন। সঠিক পির না পাওয়ার পিছনেই এই মশহুর পির সাহেবগনই দ্বায়ী কারণ বছররের পর বছর মুরিদ কাবেল হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে জন্ম হওয়া নাবুঝ পির জাদাকেই গদ্দিনশীন পির বানানোর পন্থা। এই জন্য পির সাহেবের নিহত হওয়ার পর অবুঝ পিরের সন্তানই পির হন। কিছুদিন আগে ফরিদপুর মশহুর পিরের এক মুরিদের সাথে কথা হলো সে লোক শিক্ষিত তিনি দু:খ করে বলছিলে আমি সে দরবারের ৩৮ বৎসর আগে যখন মুরিদ হয়েছি বর্তমান গদ্দিনশীনের বয়স তখন ছিল ০৮ বৎসর। দু:খ লাগে কি পেলাপ বলে কপালে হাত মারছেন। আমি বললাম ভালই পেয়েছেন সাময় লেগেছে বুঝতে। আপনি জীবন থাকতেই বুঝেছেন হাজার হাজার লোক শেরেকি করতে করতেই মারা গেছেন এবং যাবে। দেরিতে হলেও আপনি মুক্ত। পির সাহেবগন যখন ইন্তেকাল হয় তখন অনেকদিন মুরিদ থাকা লোকগুলি বলে পির সাব হুজুর স্বপ্নে আমাকে খেলাফত দিয়েছেন পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছেন নানান সব আজগুবি গল্প। এই গল্প দিয়েই শুরু হয়ে যায় নব্য পির সাহেবের কামেলিয়াত্ত্ব। উয়ায়ছী নাম ব্যবহারকারী পির সাহেবের কাছে জানতে চাইলাম। আপনারা উয়ায়ছী হলেন কেমন করে? তিনি বললেন আমার পির সাহেবকে উয়ায়ছ করণী থেলাফত দিয়েছেন আর আমার পির দিয়েছেন আমাকে। চিন্তা করে না কি বলছে স্বপ্নে কত সুন্দর সুন্দর খাওয়া পাওয়া যায়। সকালে ঘুমই ভাঙ্গে পেটের ব্যথায়। স্বপ্নে কত সুন্দর নায়িকাও বিয়ে করা যায়। খেলাফতের মত সত্য মনে করে বউ আনতে গেলে বুঝতে পারবে স্বপ্নের ঠেলা। মূর্খদের কাছে এই গল্পগুলি করে বিপথগামী পির গুলি সম্মান পেলেও কিছুই বলার নাই। যখন শিক্ষিত মানুষগুলিও শুনে বিশ্বাস করে বসে থাকে কিছুই বলার থাকে না। রাছুল সা. হাদীসে বলেছেন “ইবলিশ আমা ব্যতীত সকলরূপ ধারন করতে পারে তবে কেউ যদি আমাকে দেখ সেটা আমিই”। এই হাদীস থাকার পরও মুরিদগন মিথ্যা কাল্পনিক স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করেন না। তাদের বলছি চিন্তা করার জন্য এখনোও সময় আছে। চলবে………..

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

One comment

  1. safiqur rahman shafi

    shundor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *