আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / ইসলামে নারী নেত্রীত্বের বৈধতা নাই

ইসলামে নারী নেত্রীত্বের বৈধতা নাই

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

ইসলামে নারীদের নেত্রীত্ত্ব কোন বৈধতা নেই। কোরআন এবং হাদিসেও তার কোন প্রমান মিলে না। যেহেতু কোরআন হাদিস সমর্থন করে না সেহেতু শরিয়ত এবং মারেফতে কোন অবস্থায়ই মহিলা নেত্রীত্ত্ব কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়। বর্তমানে দেখা যায় ছোট ছোট শহর গুলিতে মহিলারা তালিম করে করে বেড়ায় টাকার বিনিময়ে। তারা ধান অথবা টাকার বিনিময়ে কন্ট্রাক করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিম করে। এমনই এক মহিলা আমাদের দরবারে আসে। এবং আমাকে প্রশ্ন করে আমরা যে তালিম করি অন্যের বাড়ি গিয়ে এটা কি ঠিক? উত্তরে আমি বললাম আপনি তো আল্লা রাছুল সা. এর বানী প্রচার করতেই যান তাই না? মহিলা বললেন জি। আমি বললাম আল্লা রাছুল সা. এই ব্যপারে কি বলেছেন সেটা মেনেই তো কাজ করা উচিৎ তাই না? মহিলা বললেন জি। আমি সেই মা’কে কোরআন খুলে দিয়ে বললাম সূরা আযহাবে ৩২-৩৩ নং আয়াতে পড়ে দেখেন সেখানে বলা আছে হে পত্নীগন তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে। তাহলে আপনি কিভাবে অন্যের বাড়ি গিয়ে তালিম করবেন। মহিলা বুঝতে নারাজ সে তো ভাল কাজই করছেন। আমি তাকে বললাম কেউ যদি আপনার বাড়ি আসে জানার জন্য সেক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন।

তার উপর জুলুম না করে কিছু টাকাও চেয়ে নিতে পারেন যদি আপনার আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকে। তাতেও সে বুঝবে না। তখন বলতে বাধ্য হলাম। মাগো বুঝতে চেষ্টা করেন আল্লার হুকুমের বাইরে গিয়ে ইসলাম প্রচার করলে আপনি আল্লাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। এটাও সে মানবেন না কারণ এটাই যে তার পেশা হয়ে গিয়েছে। তখন কোন উপায় না পেয়ে তাকে বললাম মাগো একটা উদাহরন বলি। ধরেন আপনি সত উদ্দেশ্য নিয়ে কোন বাড়িতে গেলেন তালিম করার জন্য সে বাড়ির পুরুষ লোকটা বড় খারাপ। সে বাড়িতে যাওয়ার পর আপনার ইজ্জত হানি হলো। লোক জানাজানি হলে আপনার মান যাবে। আর সে লোক যখন বিচারের সমূক্ষীন হবে তখন তো নিজের দোষ থেকে বাচার জন্য বলবে আমি তো মহিলা কাছে যাইনি মহিলাই  আমার বাসায় এসেছে এই কাজের জন্যই। টাকা কম দেওয়ায় সে এখন চিৎকার চেচামেচি করছে। তখন কি বিচারক এই কথা মানবে না। আপনি যতই সত উদ্দেশ্য নিয়ে এসে থাকেন। মানুষের মুখ কি বন্ধ করতে পারবেন। তখন সে স্বীকার করলো আসলেই মহিলাদের অন্যের বাড়ি গিয়ে ইসলাম প্রচার কোন সুযোগ নাই।

এ তো গেল শরিয়তের দিকটা। বর্তমানে মারেফতের পথেও দেখা যায় মহিলা পীর বাংলাদেশের বড় বড় পীর সাহেবদের দরবারেও মহিলা পীর দেখা যায়।

শিক্ষিত মানুষদের আমি চিন্তা করার অনুরোধ করবো কোরআনে এবং হাদিসে মহিলা ওলিদের কোথাও কোন নমুনা আছে নাকি? মহিলাদের কোন খেলাফতের কোন প্রমান আছে কি? হযরত হাসার বাসরীর সমসায়িক ছিলেন হযরত রাবেয়া বাসরী। তিঁনারও কামেলিয়াত্ত্ব ছিল। কামেলীয়াত্ত্ব ভিন্ন জিনিষ। এই যাবৎ রাবেয়া বাসরীর রাহ. কোন তরিকত কি জারী আছে; না ছিল কোন দিন? কোরআনে সবচেয়ে আদর্শ মহিলা হলেন ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া, ২য় আদর্শ মহিলা হলেন ইসার মাতা মরিয়ম, ৩য় আদর্শ মহিলা হলেন খুলাইলীদের কন্যা খাদিজা এবং ৪র্থ আদর্শ মহিলা হলেন মুহাম্মদ সা. এর কন্যা ফাতেমা ইনাদের থেকে কি কেউ ওলি ছিলেন; বলে তো কোথাও কোন সনদ নাই। এমনকি রাছুল সা. এর প্রান প্রিয় স্ত্রী আয়েশাও তো ওলি ছিলেন না এমতে কারো কোন তরিকত ছিল না বা চালু নাই। তবে কি করে মহিলা পীর হবে বায়াত করবে খেলাফতি দিবেন মহিলারা। আল্লা পবিত্র কোরআনে বলেছেন ৪:১১#“একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান”। ৪:১৭৬#“একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান”। কোরআনে স্পষ্ট প্রমান আছে এক পুরুষ সমান ২ নারী তবে কি করে পুরুষদের বায়াত করবেন মহিলারা এবং খেলাফতি দিবেন পুরুষদেরকে। আর যাদের দিচ্ছেন সেটা বৈধ হওয়ার কোন সুযোগ নাই? পুরুষরা সৃষ্টিগতভাবে নারীর দ্বিগুন।কিছু উদভ্রান্ত লোক মহিলাদের থেকে লেখাফতি নিয়ে আবার অন্যকে খেলাফতি দিয়ে পিরগিরি ছড়ালে জাহান্নামের ভাগিদার ছাড়া আর কি হতে পারে। মহিলারা নবুয়তের হকদার নয় কারণ মহিলারা সবসময় ইচ্ছা থাকলেও পাক থাকতে পারে না। মহিলাদের শারীরিক সমস্যার কারণে। আর একটা পুরুষ যদি চায় সব-সময় পাক থাকতে তা সে পারবে অনায়াসে। এই অবুঝের দল কিছু পুরুষ মহিলাদের হাতে বায়াত হয় খেলাফত গ্রহন করে এমনকি সে মহিলা পীরের মাজার স্থাপন করে। মূলত চিন্তা শক্তিহীন বিভ্রান্ত শিক্ষারই ফসল। যদি কোন মহিলা নবী থাকতো তবে মহিলা ওলি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আর যেহেতু মহিলা নবী ওলি নাই সেহেতু মহিলা পীর হওয়ার কোন সুযোগও নাই। যাদের মধ্যে এই মিথ্যা বিভ্রান্তিতা রয়েছে তারা হয়তো আমার উপর খুব নারাজ হয়ে মাথায় বাড়ি দিতেও দিধা করবে না। সত্য বরাবরই তিক্ত এই তিক্তফলটা গ্রহন করে যে সত্যের দিকে ধাবিত হবে সে ফলটা বড় মিষ্টই পাবে। আর যারা মিথ্যা ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠত হয়ে দাড়িয়েই আছেন পীরগিরি শুরু করে দিয়েছে তারা কি আর পারবে এই মিথ্যা থেকে বের হতে লোক লজ্জার ভয়ে। হাশরের ময়দানে আল্লা যে বিচারই করুক না কেন। দুনিয়ার ইজ্জত এর দিকে তাকিয়ে মিথ্যা অহম থেকে বেড় হয়ে নতুন করে শিক্ষা গ্রহন করে সঠিক পথে আগালেই বরং আল্লা রাছুলের সামনে লজ্জায় পরতে হবে না। পর কালের আশায় সঠিক পথের সন্ধান করা মানুষের সংখ্যা বড়ই নগন্য। কিছু কিছু পির সাহেবের নামের শেষে লেখা হয় আখেরি জামানার ইমাম এবং মুজাদ্দেদ। তাদের খানকা গুলিতে পির সাহেবের স্ত্রীদের দিয়ে মহিলাদের বায়াত করানোর প্রথা চালু আছে বর্তমানে ময়মনসিংহের কাছে একটি বড় খানকা বাংলাদেশে নাম করা নাম উল্লেখ করছি না আশা করি বুঝবে যারা চিনেন। আমাদের কপাল কি এমনই খারাপ আখেরি জামানার ইমাম এবং মুজাদ্দেদ পয়সার জন্য ইসলামের আইন বরবাদ করে দিচ্ছেন। এই বিশেষ কারণের জন্যই হয়তো তার এই উপাধি। মূর্খদের দোষ দেই না। কিন্তু শিক্ষিতদের কি বলা যায়! শিক্ষিত মূর্খ বললে ভুল হবে না। লোভীরা ওলি হওয়ারই যোগ্য নয়। আবার মুজাদ্দেদ। আমার পোষ্টে যদি ভুল প্রমান করতে পারেন কোরআন হাদিসের দলীল দিয়ে তবে আমি ক্ষমা চাইতে দিধা করবো না।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

2 comments

  1. Hozor, Thanks a lot for your article. I think this article is very necessary for our country.. We are going to fall down in Jahannam…We relief from it………

Leave a Reply to owaisita Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *