আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / আল্লা ও রাছুলের মধ্যে যারা পার্থক্য করে তারা কাফের

আল্লা ও রাছুলের মধ্যে যারা পার্থক্য করে তারা কাফের

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

আল্লা এবং রাসূলগনের মাঝে যে ভেদাভেদ করা যায় না সেটা আল্লা পবিত্র কোরআনে ঘোষনা দিয়েছে। আর আমাদের রাছুল সা. থেকে পার্থক্য করা যাবে না সেটার ব্যপারে কোন মন্তব্য করাই অনুচিত। কারণ হাদিসে জানাযায় এবং বারনাবাসের বাইবেলে পাওয়া যায় আদম আ. পায়ে ভর দাড়িয়েই আরশে মুয়াল্লায় দেখতে পেয়েছিলেন কলেমা “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ” এবং সব নবীগনই নাকি এই কলেমা দেখেছেন। আল্লা পবিত্র কোরআনে যেখানে যতবার আল্লা নিজকে মানতে বলেছেন সাথে সাথে তিঁনি রাছুল সা.কেও মানতে বলেছেন। আল্লা এবং রাছুল সা. ভিন্ন সত্ত্বা হলেও এক বরাবর ছিলেন আছেন থাকবেন। আমি আমার জ্ঞান থেকে আমার বুঝ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি বুঝার সুবিদ্ধার্থে আলোচনা করছি আপনারা চিন্তা করে দেখবেন। ধরুন ৫০%-৫০% টাকা দিয়ে ২ জনের মালিকানায় একটি ব্যবসা দাড় করানো হলো। সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা কোন এক মালিকের পক্ষ নিলে অপর মালিক অবশ্যই বলবেন তুমি কিভাবে একপক্ষ নিচ্ছো? মালিকানা তো ২ জনেরই সমান আমাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? মালিক তোমার জন্য তো দুইজন সমান।

যারা কর্মচারী অর্থাৎ গোলাম/ চাকর তাদের কাছে দুই জনই মালিক কেউই কম বেশী নয়। কর্মচারীদের কাছে ২ জনই মালিক কিন্তু তারা আলাদা ভিন্ন সত্ত্বা এক সত্ত্বা নয়। কর্মচারীরা এটা সহজেই বুঝেন চাকুরীর বেলায়। কিন্তু মারেফত জগতের মুরিদগন এই সাধারন কথাটা কেন মারেফতে দাখিল হওয়ার পর চিন্তায় আনেন না! যখন এই সত্য উপলব্ধি করতে পারবেন সাধারন মুরিদরা তখন পির সাহেবগন কোরআনের আয়াত দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। বর্তমান পীর সাহেবরা বলে আল্লা এবং রাছুল একই। তরিকত পন্থি মানুষগন মিলাদ কিয়াম করার সময় বলেন “ইয়া রাছুলআল্লা, ইয়া হাবীবআল্লা” স্পষ্টই রাছুল সা.কে আল্লা বলছেন। আশ্চর্য্য সৃষ্টিকর্তা আর সৃষ্টি যে এক করে ফেলছেন সেটার দিকে খেয়ালই করছেন না! আল্লার দোহাই কলেমা শাহাদতের দিকে দৃষ্টি দিন। সেখানে কি বলছেন এবং সাক্ষ্য দিচ্ছেন। রাছুল সা. নিজে এবং মারেফতের বাদশা মওলা আলী আ. কোথাও বলেন নাই রাছুল সা.ই আল্লা। এমনকি আল্লা পবিত্র কোরআনে বলেছেন ২১:১০৭# “আমি আপনাকে (মুহাম্মদ) বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি”। এই আয়াতেও দেখা যাচ্ছে রাছুল সা. আল্লার তরফ হইতে প্রেরিত। এমনকি কলেমা শাহাদতে কি বলা হয়েছে একটু খেয়াল করে দেখবেন।

“আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থাৎ:- “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই। তিনি এক, তাঁর কোন শরিক নেই। এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ সা. তাঁর বান্দা ও রাসূল।”

আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই যে, এই কলেমা শাহাদাত কোন মুসলমান অস্বীকার করতে পারে! আর যদি কেউ তা করে সে রাছুল সা. এর উম্মত থাকতে পারে না। এমনকি মুসলমান বলার হকও রাখে না। এই কলেমাটা ফকির, সূফীবাদীরা অবিশ্বাস করবে সেটাও মানতে পারি না! এই কলেমায় স্পষ্টই বুঝা যায় নবী সা. আল্লার বান্দা (দাশ) এবং রাছুল । যেহেতু প্রত্যেক বান্দাই দাশ। সহজেই বুঝা যায় রাছুল সা. একজন সৃষ্টি আর আল্লা একক স্রষ্ঠা। যারা বলে আল্লা এবং রাছুল সা. একই সত্ত্বা তাদের কি বলা যেতে পারে? খালি তাই নয় আমরা যারা রাছুল সা. এর উম্মত তারা তো দাশানুদাশ। আমাদের মত সাধারন মানুষ, যারা কামেল পীর হয়েছেন তারাও রাছুলের উম্মত থেকে বের হয়ে যান নাই। তাদের যদি কেউ একে অপরের আল্লা বলে তাদের তো রাছুল সা. এর সাফায়্যাতের দরকার পরে না। যখন আল্লা হয় তখন সৃষ্টি জগত থেকে তো আলাদা হয়। ‘স্রষ্ঠা/আল্লা’ হলে তাকে কিভাবে রাছুল সা. সাফায়্যাত করবেন। রাছুল সা. সেখানে তো নিরুপায়ই থাকবেন। অথচ আল্লা পবিত্র কোরআনে বলেছেন:

“রাছুল তোমাদের জন্য সাক্ষ্যদাতা।”-২:১৪৩

আর অন্য এক আয়াতের বলে সেই একের মধ্যে বিভ্রান্ত পির সাহেবগন ছল-চাতুরীর করে নিজেরাও সামিল হয়ে যান। সূরা নিসার ১৫০-১৫১ আয়াতে আল্লা বলেছেন “আল্লা ও রাছুলগনের মধ্যে যারা পার্থক্য করবে তারা প্রকৃত কাফের”। ভুল ব্যাখ্যা করলে কি লাভ হবে! আল্লা এবং রাছুলের মধ্যে পার্থক্য নাই ঠিক কিন্তু সত্ত্বা ভিন্ন। তার কারণ আল্লা বলেছেন “আল্লাকে মান তার পর বলেছেন রাছুলকে মান”। সত্ত্বা যে ভিন্ন এটা সূরা নিসা ৫৯ নং আয়াতে স্পষ্ট। এই আয়াতে আল্লা বলেছেন “হে মু’মিনগন তোমরা আল্লাকে মান এবং রাছুলকে মান এবং তোমাদের মধ্যে হুকুমের অধিকারীকে মান। অত:পর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতভেদ হয় আল্লা ও রাছুলের প্রত্যাবর্তিত (ফিরে আসা) হও যদি তোমরা আল্লা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখ”। এই আয়াতটিতেও আলাদা তিন সত্ত্বাই বুঝায়। হুকুমের অধিকারী (পীর) এর সাথে কোন বিষয়ে মতভেদ হলে আল্লা এবং রাছুলের দিকে ফিরতে বলেছেন। আর আল্লা এবং রাছুলের ফয়সালা কোরআনের মধ্যেই বিদ্যমান সেটা সবারই জানা।

বর্তমানে যে পীর সাহেবরা আল্লা হয়ে যাচ্ছেন তিনারা শিক্ষা দিচ্ছেন পীরের মধ্যেই আল্লা এবং রাছুল তার মানে দাড়ায় পীরই সব। (নাউজুবিল্লাহ)। কোরআনে ৫:৭৩ বলেছেন যারা আল্লাকে তিনের মধ্যে এক বলে তারা কাফের। এই রকম পীর সাহেবদের থেকে ওহাবী হুজুর সাহেবরা অনেক ভাল গুজামিল দিয়া বুঝায় কিন্তু আল্লার ভয় তাদের অন্তরে আছে তারা নিজেদের আল্লা বলার দু:সাহস করে না। মারফতের সাথে কোরআনের মিল নাই এই কথা যে পীর বলবেন তার শিক্ষায় ভেজাল আছে। আল্লা বলেছেন কোরআনের আয়াতে একটা জাহেরী এবং বাতেনী অর্থ আছে। জাহেরী অর্থ দেখা যায় বুঝা যায়। কিন্তু বাতেনী অর্থ বুঝার জন্য মওলা আলীর প্রকৃত গোলামদের কাছে যেতে হয়। আরও একটি আয়াত ভন্ড পীর সাহেবরা ব্যবহার করেন নিজেদের পক্ষে। সেটি হলো সূরা ফাহ্ত এর ১০ নং আয়াত। আল্লা নবীকে বলছেন “হে নবী আপনার হাতে যারা বায়াত হয় তারা তো আল্লারই হাতে বায়াত গ্রহন করে। আল্লার হাত তাদের হাতের উপর”

এখানেও স্পষ্ট বুঝা যায় তাদের হাতের উপর আল্লার হাত। বায়াত প্রদানকারী এবং বায়াত গ্রহনকারীর হাতের উপর আল্লার হাত। এটাও স্পষ্ট যে আল্লার হাত তৃতীয় সত্ত্বার বা প্রথম সত্ত্বার হাত। এই জন্যই তো আল্লা এই আয়াতে শেষ অংশে বলেছেন “যারা বায়াতের শর্ত ভঙ্গ করে তারা তো নিজের ক্ষতির জন্যই করে”। আল্লা যদি এ কথা না বলতেন তাহলে তো বায়াত করার পর যদি মুরিদ অন্যায় করে সব দোষ পীরেরই হতো। আল্লা কিন্তু এখানে তালেবের গুনাহ হইতে পীরকে মুক্ত রেখেছেন। কোন পির কি বায়াত করার পর স্বীকার করতে রাজি হবেন মুরিদের ভবিষ্যত সব গোনাহ পির কবুল করে নিবেন? তা মনে হয় করবেন না। কারণ নিজেরই তো ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করতে হবে। সূরা মূমতাহিনার ১২ নং আয়াতে আল্লা নবীকে শরিক না করার শর্তেই বায়াত করতে বলেছেন। বর্তমান পীর সাহেবরা তো বায়াত করার পরই পীরের চেহারা স্মরণ করতে বলেন। আল্লা ব্যতীত সব স্মরণই তো আল্লার সাথে শরিক। যেটা আল্লা সবচেয়ে বড় নিষেধ। এবং সবচেয়ে বড় শিরক। আমাদের নবী যা করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাই মুহাম্মদ সা. উম্মতদের তাই করতে হবে। আমাদের যদি পীরের স্মরণ করতে হয়। তবে সেটাই করবো নবী যার ছুরত স্মরণ করতেন সেটা করাই উম্মতে মুহাম্মদির জন্য ফরজ। আর একটি কথা মারেফত এবং শরিয়তকে যারা সাংঘর্ষিক বানাবে তারা মোটেও ইসলামের সঠিক অনুসারী হতে পারে না। কারণ ইমাম মালেক রাহ. তিনার একটি বানীতে বলেছিলেন “যে ব্যক্তি শরিয়ত মানলো মারেফত ত্যাগ করলো সে ফাসেক। আর যে ব্যক্তি মারেফত মানলো শরিয়তকে বর্জন করলো সে জিন্দিক (কাফের)। আর যে উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত সেই প্রকৃত আলেম এবং হাক্কানী পির”

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *