ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
আমি অধম ফকির উয়ায়ছী লেখার কোন যোগ্যতা নাই আর লিখবোই বা কি? আল্লাহর কোরআনে রাছুল সা. এর হাদিস এবং ইসলামের ইতিহাস শত শত বছর আগে থেকে লিখেই রেখেছেন জ্ঞানী গুনীজনেরা। সেগুলি যখন পড়ি যেটাতে কিছুতে দৃষ্টি আটকে যায় তাই আপনাদের মাঝে তুলে ধরি। কারণ ডিজিটাল যুগে সবাই চায় গুগুলে সার্চ দিয়েই পেয়ে যেতে। ব্যস্ততার জন্য মানুষ খুজে বের করার চেষ্টা করে না। আর যদিও খুজতে চেষ্টা করে এতসব কিতাব যোগার করার অনেক কষ্টের কাজ। আহলে বায়াত নবী পরিবার সম্পর্কিত কিছু কিতাব ব্যান্ড হয়ে গেছে। ইসলামি ফাউন্ডেশন হইতে প্রকাশিত মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার কর্তৃক খেলাফতের ইতিহাস এই কিতাবটি এখন আর পাওয়াই যায় না। এমনকি ইসলামি ফাউন্ডেশনেও পাওয়া যায় না। মানুষ যেন পড়ে কিছু অজানা কথা সূত্র সহ জানতে পারে সে চেষ্টাই করছি মাত্র। আমি যে বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা পোষন করছি যে সকল সুন্নত আমরা দৈন্দিন জীবনে পালন করি তা রাছুল সা. এর সময় প্রচলিত ছিল কিনা? সূত্র সহ দিচ্ছি ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত আল- বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮ম খন্ডের ২৬৪- ২৬৬ পৃষ্ঠার মধ্য থেকে পাঠকগনের বিচক্ষণতা দিয়ে বিচার্য্য।
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবদ্দশায় পবিত্র জুম্মার দিনে খুতবা প্রদান করা হতো ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিনের মত নামাজ সম্পাদনের পর। মুয়াবিয়া রা. এর খেলাফত কালে কোন কারণে তিনার ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার জন্য খুতবা নিয়ে আসলো জুম্মার নামাযের আগে। নামায পড়ে মানুষ চলে যায় তার উদ্দেশ্য সফল হয় না বিধায় খুতবা নিয়ে আসলেন নামাযের আগে। মুয়াবিয়া রা. এর কথা শুনেই যেন নামায শেষ করতে হয় তার কোন কথা যে বিফল না হয়। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজাহা নামাজের পূর্বে আযান ইকামতের প্রচলন মুয়াবিয়া রা. শুরু করেন। শুধু তাই নয় মিম্বরে বসার প্রচলন সর্বপ্রথম মুয়াবিয়া রা. শুরু করেন। কারণ মুয়াবিয়ার শরীরে প্রচুর চর্বি জমেছিল এবং তার বিশাল ভুড়ি নেমেছিল শরীরের ভারে নিজেকে সামলাতে না পেরে মুসুল্লিদের থেকে অনুমতি নিয়েই বসেছিল। অনুমতি দিয়েছিলেন মুসুল্লিরা না দেওয়ার সাহসই বা কার ছিল মুয়াবিয়া ছিল রাষ্ট্রপ্রধান। বর্তমানে মসদিজে জুম্মার প্রথম অংশ শেষ হবার পর খতিব সাহেবগন বৈঠন দেন। তারপর খুব ধীরে ধীরে উঠে দাড়ান সুন্নত পালনের উদ্দেশ্যে। অধিকাংশেরই জানা নাই এই সুন্নত কার এবং কেনই বা আস্তে আস্তে উঠে দাড়ানো। মুয়াবিয়া রা. যে ভুড়ির ভাড়ে উঠতে কষ্ট হয়েছে এটা জানেও না তারা। শুকনা খতিবরাও এই লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাড়ান বেশী নেকীর আশা। কোন নেকি যেন না ছুটে যায়।
মক্কার প্রবেশ দ্বারসমূহের অর্গলযুক্ত (তালাযুক্ত) দরজা ছিল না। মুয়াবিয়া রা. সর্বপ্রথম অর্গলযুক্ত (তালাযুক্ত) দ্বারসমূহের ব্যবস্থা করেন।
আবুল য়ামান শু’আইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, এভাবেই সুন্নাহ প্রচলিত হয়ে এসেছে যে, কাফির মুসলমান আর মুসলমান কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না। প্রথম যে ব্যক্তি মুসলমানকে কাফিরের উত্তরাধিকারী বানান তিনি হলেন মুয়াবিয়া রা.।
ইসলামী সাশকগনদের মধ্যে মুয়াবিয়াই প্রথম দেহরক্ষী গ্রহন করেন।তার প্রধান দেহরক্ষী ছিলো তারই আযাদ কৃত গোলাম সা’দ, আর সিপাহী প্রধান ছিলো কায়েস বীন হামযা।
মুয়াবিয়া ছিল মুসলমানগনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি তার ঘুম ছিল অত্যন্ত গভীর। এমনকি সূর্য উদিত হয়ে গায়ে সূর্যতাপ লাগলেও তার ঘুম ভাঙ্গত না। তা্ই রাসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, যখন তুমি ঘুম থেকে জাগবে তখন নামায পড়ে নিও। মুয়াবিয়ার জন্য রাছুল সা. ফযরের নামাম ঘুম থেকে যখন উঠবে তখন পরা সুযোগ ছিল অর্থাৎ যায়েজ ছিল।
ইবনে আব্বাস বললেন, একবার আমি বালকদের সাথে খেলছিলাম। তখন হঠাৎ রাসূল সা. এসে উপস্থিত হলেন। এবং বললেন, আমার কথা বলে মুয়াবিয়াকে ডেকে আন। আমি যেয়ে ডাকলাম তখন বাড়ি আমাকে জানানো হলো সে খাচ্ছে। আমি রাছুল সা.কে জানালাম। এ কথা শুনে নবী বললেন আবার যাও ডেকে আন। দ্বিতীয়বারও আমাকে বলা হলো সে (মুয়াবিয়া) খাচ্ছে। রাছুল সা. এসে জানালাম। নবী তৃতীয়বার আবার বললেন এখন যাও ডেকে আন। তৃতীয়বার যখন ডাকতে গেলাম তখনও আমাকে জানানো হলো মুয়াবিয়া খাচ্ছে। রাছুল সা.কে এসে জানালাম। তৃতীয়বার তিঁনি (রাছুল) সা. বললেন, আল্লাহ তাকে তৃপ্ত না করুন।
মুয়াবিয়া যখন শামের গভর্ণর হন, তখন দিনে সাতবার আহার গ্রহন করতেন, প্রচুর পরিমানে গোশতপূর্ণ পাত্র পেয়াজসহ তার কাছে আনা হত এবং তিনি তা যথেষ্ট পরিমানে খেতেন। দিনের মধ্যে সাতবারই তিনি গোশত সহযোগে খেতেন। এছাড়া প্রচুর পরিমানে মিষ্টান্ন দ্রব্য এবং ফলমূল খেতে পারতেন এবং বলতেন, আল্লাহর কসম! খেতে খেতে আমি তৃপ্ত হই না, ক্লান্ত হয়ে পড়ি।– ২৩২ পৃষ্ঠা।
মুয়াবিয়া রা. ইসলামের জ্ঞান বিচক্ষনতা ছিল উন্নত মানের বিচার। ইমাম শা’বী ও অন্যরা বলেন, শেষ বয়সে মুয়াবিয়া সামনের দুই দাত পড়ে গিয়েছিল। ইবন আসাকির হযরত মুয়াবিয়ার আযাদকৃত গোলাম খোজা খাদীজের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে তার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন, (একবার) মুয়াবিয়া একটি সুন্দরী ও ফর্সা বাঁদী খরিদ করেছিলেন। এরপর তাকে (বাদীকে) বিবস্ত্র অবস্থায় তার (মুয়াবিয়ার) সামনে পেশ করা হলো। এ সময় মুয়াবিয়ার হাতে একটি দন্ড (লাঠি) ছিল। মুয়াবিয়া লাঠি দ্বারা তার (বাদীর) বিশেষ অঙ্গের প্রতি নির্দেশ করে বলরেন এই সম্ভোগ অঙ্গ যতি আমার হত! তুমি তাকে ইয়াজীদ বিন মুয়াবিয়ার কাছে নিয়ে যাও।– ২৬৬পৃষ্ঠা।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
