আজ বায়াত করার বিষয় এবং ওজিফা নিয়ে কিছু আলোচনা করার অনুভব করছি। সত্য সন্ধানী বিবেকবানরা যেনো তাদের প্রচলিত প্রথা এবং কোরান দেখে বিবেচনা করে সঠিকটা বুঝে নিতে চেষ্টা করে।
মারেফতের বায়াত।
প্রায় প্রতিটি দরবারেই বায়াত করা আগে পীর সাহেব বা তার খাদেম বলেন আপনারা ওযু করে আসেন। অধিকাংশ লোক ওযু করেই উপস্থিত হয় পীর সাহেবের সামনে। যাদের ওযু না থাকে তারা গিয়ে ওযু করে আসে। এখানে প্রশ্ন আসে আপনারা যারা নিজে ওযু করে আসছেন তারা তো মারেফতের ওযু জানেন না। শরিয়তের ওযু করে মারেফতে দাখিল হন কি করে সেটা বিবেচনা করেন না? আপনী ঢাকা থেকে সিলেটের গাড়ির টিকেট কাটলে সেটা দিয়ে তো চাদপুর যাওয়া যাবে না। সেটা তো ভালই জানেন। তবে শরিয়তের ওযু করে মারেফতের গাড়িতে যাত্রা সেটা কি করে হবে? চিন্তা করার অনুরোধ রইল। বিবেকশুণ্য যারা তারা চিন্তা করবেনও না। সত্যের সন্ধান কোন দিনও পাবেন না।
পুরুষদের বাযাতের করার বিধান আল্লা কোরানে উল্লেখ করেছেন ৪৮:১০ আয়াতে। কিন্তু কোরানেরর বিধান মতে হাতে হাত দিয়ে বায়াত করার বিধান চোখে পরেই না। কেউ পায়ের বৃদ্ধাআঙ্গুল ধরে। কেউ সেজদা দিয়ে। কেউ রশি ধরে বায়াত করে। কেউ মাযারে হাত দিয়ে বায়াত করে। কেউ আবার মৃত ব্যক্তির বচন মাইক বাজিয়ে দিয়ে বায়াত করেন। কেউ বাম স্তনের নিচে আঙ্গুল দিয়ে গুতা দিয়ে বায়াত করে। আর সবচেয়ে জঘন্য হয় যখন কোন নারীর জামা উঠিয়ে বা না উঠিয়ে স্তনের নিচে পর-পুরুষ স্পর্ষ করে বায়াত করে। সেটা যে কত বড় নেকার জনক কাজ শরিয়তের দৃষ্টি কোন থেকে সেটা বলার প্রয়োজন নাই। মেয়ে সাবালক হলে পর-পুরুষ স্পর্ষ করবে তো দুরের কথা নিজের জন্মদাতা পিতাও ইতস্ত বোধ করেন এমন স্থানে হাত দিতে। অথচ এই বিবেকহীন লোকগুলি তাদের বউ-বেটি, মা-বোনদের নিয়ে যেয়ে গুতা খাইয়ে নিয়ে আসে। বিভ্রান্ত পীর নামক বিভ্রান্ত লোকদের কাছে। এরা বলে ক্বলবে জিকির জারী করে দেয়।
নারী-পুরুষ উভয়ই যদি ঠিক মতন কোরান পড়তেন দেখতে পেতেন জিকির চালু করে দিয়েছে আল্লা সৃষ্টির জন্ম লগ্ন থেকে। গুতা দেওয়ার কাজ আল্লা বাকী রাখেন নাই। এটা শুধু মানুষের জন্য নয় বরং সমস্ত সৃষ্টির জন্য এটা চালু আছে একাধিক আয়াতেই বুঝা যায়।
৫৯:১# “মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা প্রশংসার এবং মহিমা ঘোষনা করে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে।”
৩:৮৩# “আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত।”
১৩:১৫# “আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।”
২২:১৮# “তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে, যা কিছু আছে ভুমন্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি পর্বতরাজি বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের উপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।”
পীরের ওজিফা।
বাদসা নাসির উদ্দিনের আমলে এক ফকির নিজেকে বাদসা দাবী করে। সে খবর বাদশার কান পর্যন্ত গেলে বাদসা ফকিরকে ডেকে পাঠায়। উজির এসে বলে ফকিরকে এই তল্লাটের বাদসা তোমাকে ডেকেছে। ফকির জবাব দিয়ে বলে যেয়ে বলো আমার কাছে এমন কিছু নাই যেটা বাদশার দরকার। আর বাদসার কাছে আমার কিছু চাওয়ার নাই। এই খবর বাদশার কাছে উজির বলার পর বাদসা বুঝতে পারলো এটা পাগল নয়। বাদসা আবার এক আলেমকে পাঠালো যেয়ে বলো ফকিরকে আমি কোরানের আয়াত “আতিউল্লাহা ওয়া আতিউর রাছুলা ওয়া উলিল আমরে মিনকুম” (আল্লাকে মান এবং রাছুল মান এবং তোমাদের মধ্যে হুকুমের অধিকারীকে মান) ফকিরের কাছে আলেম গিয়ে বললো রাজা তোমাকে এই আয়াতের বলে ডেকেছে। আবারও ফকির বললো কোরানের আয়াত আমি শ্রদ্ধা করি কিন্তু আমি আতিউল্লার প্রেমে এতই ব্যতীব্যস্ত যে আতিউর রাছুলা দিকেই দৃষ্টি দিতে পারি নাই। ওলিল আমর তো অনেক দুরে।
কাজেই উলিল আমর অর্থাৎ হুকুমের অধিকারী পথ প্রদর্শকের শিক্ষা নিয়ে আল্লার প্রেমেই মশগুল হতে হবে। পীরের ওযিফা সেটাই হবে যেটা আল্লা সব সৃষ্টির মধ্যে চালু করেই দিয়েছেন। প্রতিটি সৃষ্টি ইচ্ছা অনিচ্ছায় পালন করছেই। সেটা ধরিয়ে দিয়ে মাখলুখ (জীব) থেকে আশরাফুল মাখলুখে পরিনত করবেন প্রকৃত পীরগন। আর সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলিতে সৃষ্ট জীবের যে জিকির যেটা চালু আছে সেটা ধরতে পারলে অন্য সব ওযিফার চেয়ে উত্তম মানতে কারোরই দিধা হবে না। তাই সঠিকটা তালাশ করুণ কিভাবে সমস্ত মাখলুখ জিকির করছেেএবং কি জিকির করছে। খুজে পেলে বিবেকবানরা অবশ্যই তৃপ্তি পাবে।
কাকে যেমন কা কা করে। পীরের নাদান মুরিদ তেমন বাবা বাবা করেই তৃপ্তি পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করে। অথচ কেউই বাবা ডাকার জন্য পীরের কাছে যায় না। যায় হলো নিজকে জানার জন্য। এমন মুরিদরা হচ্ছে সে কলা ওয়ালার মতন। সাড়াজীবন মাথায় কলার খাচি নিয়ে কলা কলা চিৎকার। কোন দিন কলা মুখে দেয় না কলার মজাও বুঝে না। আরে বাপ ডাকা তখনই তো স্বার্থক হবে যখন নিজে পরিপূর্ণ হবেন এবং অন্যে বাপ ডাকবে। আমার উদ্দেশ্য যারা বাবা বাবা করছেন তারা যেদিন নেত্রীত্ত্ব দেওয়ার যোগ্য হবেন সেদিন পীরের স্বার্থকতা হবে। তবে এটা সকলেই আশা করা ঠিক নয়। যারা ধর্য্য ধারন করে শিক্ষা নিবেন তারাই সফল হবেন।
——–ফকির উয়ায়ছী
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
