ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
মনে রাখা দরকার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় ছেলে বা অন্য কেউ সেই মহিলার হুকুমের অধিকারী হতে পারে না। এমনকি বাপ জীবিত থাকা অবস্থায়; পিতার অনুমতি ছাড়া ছেলে বায়াত হতে পারে না। এমন পীরও আছেন তাদের হাতে বায়াত হওয়ার পর মুরিদগন তাকে স্পর্শ করতে পারেন না। এই কারণে তারা স্ত্রীকেও নিজে বায়াত করেন না। স্ত্রী বায়াত করলে তাকে তো স্পর্শ করা যাবে না। সমস্যাটা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।
রাসুল সা. সব স্ত্রীদের তো নিজের হাতেই বায়াত করেছেন। আল্লা নবীকে নারীদের বায়াত করার যে সব শর্ত দিয়েছেন কোরআনে সুরা ৬০:১২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে কোন ধরনের নারীদের বায়াত করার কথা। কোন মহিলা যদি কোন পীরের হাতে বায়াত নিতে চায় তবে অবশ্যই তার স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে বায়াত নিতে হবে, যদি সেই মহিলার স্বামী জীবিত থাকে। স্বামী জীবিত অবস্থায় যদি অনুমতি না দেয় তবে তার মৃত্যুর পর বায়াত হতে কোন অসুবিধা নাই।
যদি ঐ মহিলা ততদিনে অচল হয়ে পড়েন তবে তার নিজের ডান হাতকে পীরের হাত ভেবে বাম হাত দিয়ে ধরে তওবা করেন তাতেও আল্লা কবুল করতে পারেন (যদি তিনি যে পীরের হাতে বায়াত হতে চান সে পীর তার ইচ্ছা জানেন) তবুও স্বামীর অনুমতি ছাড়া বায়াত হতে পারবেন না। আল্লা রাছুল সা. বাণী অমান্যকারীদের জন্য জাহান্নাম অবধারীত। উয়ায়ছী তরিকতের বাংলাদেশের প্রধান গুরু শাহ আব্দুর রহিম সাহেবের একটি ঘটনা কলকাতা থেকে এক লোক ডাকর খালী শাহ আব্দুর রহিম উয়ায়ছী রাহ. সাহেবের কাছে এসেছিলেন। শাহ সাহেবের কাছে উনি উনার পরিচয় জানান এবং কোথা থেকে এসেছেন। উনি এসেছেন শাহ সাহেবের কাছে বায়াত হওয়ার জন্য, শাহ সাহেব জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনি আপনার বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়া আসিয়াছেন কি? লোকটি উত্তরে বলে না। শাহ সাহেব বললেন আগে বাবার অনুমতি নিয়া আসার জন্য। তাকে বায়াত না করে ফিরাইয়া দেন। তার দুই বছর পর সেই লোক আবার আসে বায়াত হওয়ার জন্য শাহ সাহেব আবার একই প্রশ্ন করেন বাবার অনুমতি আনিয়াছেন কিনা লোকটি জবাব দিলেন তাহার বাবা জীবিত নাই। সেই বার লোকটি বায়াত নিয়েই দেশে ফিরলেন।
কোরআনে বায়াত করার ব্যপারে শর্ত আছে আল্লা রাসূল সা.কে মু’মিন পুরুষ মু’মিন নারীকে বায়াত করার ব্যপারে স্পষ্ট বলেছেন। যে মানুষ জন্মদাতা পিতার অবাধ্য হয় এবং যে নারী স্বামীর অবাধ্য হয়ে পীরের কাছে যায় সে কিভাবে মু’মিন হতে পারে? আর বর্তমানে বড় নামী পীর হওয়ার জন্য লোক বাছাইয়ের কোন বাছ বিচার করছেন না। বর্তমান উয়ায়ছী তরিকতের ভ্রান্ত পীর শুধু তার নিজের পকেটের চিন্তা করে, বায়াত এর পূর্ব শর্তের বিবেচনা না করে পুরুষ মহিলাদের বায়াত এর নামে তওবা করাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে পিতার সাথে পুত্রের, স্ত্রীর সাথে স্বামীর অশান্তি লেগেই থাকছে।
সত্য তিক্ত ফলটা বড় মিষ্ট এটা আমার কথা নয় মারেফতের বাদশা মওলা আলী আ. এর কথা। কিছু সত্য বললে আমার মাথায় আঘাত করার চেষ্টায় থাকবেন কিছু স্বার্থনেশীরা। “মান কুনতুম মওলাহু ফাখাজা আলীয়্যুন মওলাহু” অর্থাৎ আমি যার মওলা(প্রভু) এই আলীও তার মওলা (প্রভু)। মারেফতের বাদশা মওলা আলী। এটা যারা না মানবে তাদের মারেফত এর কি দাম সেটা মারেফতের অনুসারীগনই ভাল জানেন। সে মারেফতের কোন মূল্য নাই। যে মারফতে নবীর পরে মওলা আলী আ. স্থান দেওয়া না হয়। আমি শরিয়তের কথা বলছি না মারেফতের কথা বলছি। কিছু দরবার দেখা যায় চার তরিকতের (ওয়ান ষ্টপ মল) আশ্চর্য্য হই। যেখানে চার তরিকতে সেজরায় নবীর নামের পরে যাদের নাম দেখা যায় তাদের একাধিক ব্যক্তি আহলে বায়াতের বিরোধী ছিলেন। আহলে বায়াতের প্রতি ভালবাসা এবং সে সাথে আহলে বায়াত বিরোধীদের প্রতি সম্মানের সাথে ভালবাসা এটা কি দোদেল বান্দাদের কর্ম নয়? এই প্রশ্নটা আহলে বায়াতের অনুসারীদের কাছে রইল। আমাদের নবী সা. শত্রু আমাদের মিত্র হতে পারে না। আহলে বায়াতের বিরোধী শত্রুরা আমাদের মিত্র হতে পারে না। যারা চার তরিকতের দরবারের অনুসারী তাদের সম্মানের সাথেই বলতে চাই। ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর (ওয়ান ষ্টপ মল) অর্থাৎ এক দোকান যেখানে সব মিলবে এই টাইপ দরবারের পির সাহেবগন মুরিদ ধরার ফাদ বানিয়েছেন। না হয় এটা হওয়ার তো কোন কারণ নাই। টক, মিষ্টি, ঝাল, তিতা ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ থাকলেও এই চার জিনিষের একত্রের স্বাদ মুখে বড় বিস্বাদই লাগবে। কাজেই চিন্তা করার অনুরোধ রইলো। আহলে বায়াতের সঠিক চিন্তাশীল মানুষদের কাছে। আরোও একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। সেজরায় তৃতীয় নামটি অবশ্যই মওলা আলীর খলিফা হতে হবে। এখানেও একটি প্রশ্ন যে মানুষ নবীর হাতে বায়াত হয়ে মুসলমান হয়েছে তার কি আবার অন্যের আনুগত্য করার দরকার আছে? চিন্তা করে দেখবেন কিছু কিছু তরিকতের সেজরায় তৃতীয় নামটি হযরত সালমান ফারসীর। সালমান ফারসীর নাম মারেফতে সিলসিলায় থাকার কোন কারণই নাই। আর যদি থাকেও সেক্ষেত্রে নবীর পরই তার নাম থাকাটাই বাঞ্ছণীয়। কারণ সালমান ফারসী মর্যাদা সম্পর্কে রাছুল সা. বলেছেন কিছু হাদিসে তা তুলে ধরছি চিন্তা করবেন।
রাছুল সা. বললেন আল্লাহ চার ব্যক্তিকে ভালবাসতে আদেশ করতে বলেছেন:
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা র. থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাছুল সা. বলেছেন, চার ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আল্লা আমাকে আদেশ করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়েছেন, তিনি (আল্লা) তাদের ভালোবাসেন। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে তাদের নামগুলো বলুন। তিনি (রাসূল) বললেন, আলী তাদের অন্তর্ভূক্ত। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। অবশিষ্ট তিনজন হলেন আবু যর, মিকদাদ ও সালমান। তাদেরকে ভালোবাসতে তিনি আমাকে নির্দেশ করেছেন এবং তিনি আমাকে এও জানিয়েছেন তিনিও তাদেরকে ভালোবাসেন”।– তিরমিযী-৩৬৫৬
বেহেস্ত ব্যাকুল আছেন:
“হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জান্নাত তিনজন লোকের জন্য অত্যন্ত আগ্রাহান্বিত তারা হলেন, আলী, আম্মার ও সালমান ফারসি রা.”।– তিরমিযী-৩৭৩৪
উপরোক্ত হাদিস দুটিতে দেখাই যাচ্ছে সালমান ফারসি আল্লা এবং রাসূল সা. এর মনোনীত তবে কেন তিনি আবার হযরত আবু বকরের আনুগত্য করবেন। আর মারেফতের সিলসিলা অনুযায়ী যে যার আনুগত্য করে তারপরই তার নাম থাকে। যেমন নবী সা. আনুগত্য মওলা আলী করেছেন বিধায় নবীর পর মওলা আলীর নাম। মওলা আলী আ. এর আনুগত্য করেছেন যারা তাদের নাম মওলা আলী আ. এর পর। এই ভাবেই সেজড়া নামায় বংশ সিলসিলা থাকে। সালমান ফারসির শানে আল্লা রাসূল সা. যা বলেছেন তাতে অন্য কারো আনুগত্যকারী বানানো কতটুকু যুক্তি সংগত আপনার বিজ্ঞ পাঠক চিন্তা করবেন। আমার কথা গুলি অন্ধ, মূর্খ মানুষদের জন্য নয়। যেহেতু আমার চিন্তাগুলি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি আপনারও চিন্তাশীলদের মতনেই চিন্তা করে আপনাদের মতামত জানাবেন। আমার যদি ভুল থাকে যুক্তি দিয়ে বুঝালে অবশ্যই বুঝাতে চেষ্টা করবো। তবে যুক্তি বিহীন ভাবে অনেকদিনের কানে শুনে কথায় উপর ভিত্তি করে তর্ক বা মাথায় বারি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না আল্লা রাছুল সা. এর দোহাই। উগ্রতা ইসলামের পথে বিরাট বাধা সেটা যাদের মধ্যে বিদ্যমান অর্থাৎ ক্রোধ দমনে ব্যর্থ তারা মারেফতের পথে কিছুই পাবেন না বলেই আমি বিশ্বাস করি। আর যেহেতু আল্লা রাছুল সা. অনুসরন করতে বলেছেন সেটাকে খেয়াল রাখবো সে সাথে রাছুল সা. আহলে বায়াতকে ধরে রাখতে বলেছেন সে মোতাবেক চলতে চেষ্টা করি।
মানুষের দম থাকা পর্যন্ত ইবলিশ তার পিছন ছাড়ে না, কাকে কখন কুমন্ত্রনা দিয়ে গাফেলে পরিনত করতে পারে সেই অশরীরি জীবটি সেটা মানুষ নিজেও জানে না। মনের অজান্তেই ইবলিশের পায়রবী শুরু করে দেয়। বিপথে পরিচালিত হতে থাকে নিজেও অজান্তেই। কাজেই যারা সূরা আরাফের ১৭৯ নং আয়াতের অধিকারী তাদের ব্যপারে আমার কোন মন্তব্য নাই আয়াতটা উল্লেখ করা ছাড়া ৭:১৭৯#আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
