ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
আমরা ধর্মভীরু মানুষ। ঘরে নামাযের চেয়ে মসজিদে নামায আদায় করলে ৭০ গুন সোয়াব তাই যারা ৫ ওয়াক্ত নামাযী মানুষগন মসজিদে যায় বেশী সোয়াবের আশায়। যারাও সপ্তাহের বাকী ছয়দিন নামাজ পড়িনা তারাও অন্তত্য শুক্রবারের জুম্মা নামাজ মসজিদে যাই সোয়াব পাবার এবং গুনাহ মাফ পাওয়ার আশায়। এবং বড় জামাত দেখে ঐ মসজিদে যাওয়া হয় যে মসজিদের জামাত বড় হয় বেশী সোয়াবের আশায়। এটাই ঠিক কারণ সোয়াবের আশায় নামাজে এসে যেখানে বেশী সোয়াব সেখানেই যাওয়া উচিত। আর এই সুযোগটা মসজিদের মিম্বরে বসা খতিব সাহেব ছেড়ে দেন না। মিম্বরে বসে খতিব সাহেব বলেন আপনারা আল্লাহর ঘর মসজিদের জন্য বেশী বেশী দান করুন। কোন কোন মসজিদে খুতবার সময় দানের টাকা উঠানো শুরু করেন। খতিব সাহেবও বাধা দেন না। যদিও জুম্মার খুতবা শুনা ওয়াজিব। দান করা কোন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত কিছুই নয়। যে সব মসজিদে খুতবার সময় টাকা উঠায় সেসব মুসল্লিদের একবারের জন্যও কেন মনে হয় না। নফল নামাজ পড়ার সময়ও যদি কেউ সালাম দেয় সে সালামের উত্তর দেওয়া নিষেধ এমনকি কেউ উত্তর দেনও না। এটা সবাই জানেন। তবে ওয়াজিব তরক করে দান করা কি কোন ক্রমেই ঠিক হচ্ছে মনে করেন?
আমি কোন মন গড়া কথা বলছি না, মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের ঈদগাহ মাঠের সাথে যে মসজিদটা আছে সেটাতে খুতবা শুরুর সাথে সাথে প্রত্যেক লাইনে কাপড়ের থলি হাতে নিয়ে সবার কাছে একজন করে যাবে দানের টাকা উঠাবে। এবং অধিকাংশ মানুষই টাকা দিবেন কথা বলবেন ভাঙ্গতি টাকা খুজবেন। টাকা দেওয়ার জন্য উতসুক কারণ পকেটে যে অবৈধ টাকা তার সামান্য কিছু আল্লাহর ঘর মসজিদে দিয়ে অবৈধ রোজগারের ভাগ আল্লাহর ঘর মানে আল্লাহকে দিয়ে কিছু গুনাহর ভাগ যদি কমে। আমাদের চাওয়াই তো হচ্ছে কিভাবে গুনাহ কমানো যায়। দানের টাকা চাওয়ার জন্য অধিকাংশ মসজিদেই বলবেন আল্লাহর ঘর মসজিদের জন্য দান করুন। রাস্তাঘাটে মাইক দিয়ে মসজিদের জন্য টাকা উঠানো হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে সাথে ২/১ জন বড় হুজুরও থাকেন। ছোট বেলা থেকেই অসত্য কথা বলে এই রোজগার করা শিখালে বড় হয়ে কি করবে এই ছেলেগুলি। আমরা সব সময়ই আল্লাহর কাছেই চাই সব কিছুর দাতা একমাত্র আল্লাহ স্বয়ং। তাহলে আল্লাহর দোহাই দিয়ে চাওয়ার মানে কি? আল্লাহ তো ‘সামাদ’। অর্থ: নিস্বপ্রয়োজন তিঁনার কোন কিছুর দরকার নাই। অভাবশুন্য আল্লাহর জন্য চাওয়াটা কি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়? আমি আশ্চর্য্য হই দানকারীর অবৈধ ভাবে রোজগারের টাকা কি আল্লাহ নিবেন! বিজ্ঞ আলেম সাহবদের নিতে বাধা না থাকলেও আল্লাহ যে অবৈধ দান করবেন না সেটা আমি এক বাক্যেই বলতে পারি। আর যারা রাস্তায়, ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে আল্লার ঘর মসজিদের জন্য দান আদায় করছেন তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায় শতকরা ৫০-৭৫% ভাগ তারা চাদা সংগ্রহকারীগন রেখে বাকীটুকু মসজিদে জমা দেয়। তাও যতটুকুর জন্য বৈধ ভাবে রশিদ দেওয়া হয় দানকারীকে। আমার প্রশ্ন মসজিদ আল্লাহর ঘর এই কথাটা কতটুকু সত্য? দেখুন আল্লাহ পবিত্র কোরআনে কি বলেছেন সূরা আল ইমরানের ৯৬নং আয়াতে। ৩:৯৬# “নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।” এই আয়াতটি ছাড়া অধিকাংশ মানুষগনেরই জানা আল্লার একটি নাম আল্লাহু আকবর অর্থাৎ আল্লা সবচেয়ে বড় এই নামটি প্রতি আযানের সময়ই উচ্চারিত হয়। আল্লার আকৃতি যেহেতু সবচেয়ে বড় এবং আল্লা অসীম তবে ছাদ সর্বস্য মসজিদ আল্লার ঘর হতে পারে কি? আল্লা বলেছেন কাবা ঘরটাই মানুষের জন্য যে ঘরটি নবী দ্বারা নির্মিত। আর পাড়া মহল্লার মসজিদ অধিকাংশই অবৈধ টাকার মালিকগন দ্বারাই নির্মিত। সে ঘরকে আল্লাহর ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন বিজ্ঞ আলেমগন। এটা নিয়ে আলোচনা করলে মানুষ আমাকে মন্দ বলবে। আমরা কখনোই কি সত্যের মুখোমুখি হবো না; কেউ কি বলবে না সত্য। বললেই তার মাথায় বাড়ি দেওয়ার প্রবনতা কি নামধারী মুসলমানদের যাবে না? যদি বাড়ি দিতেই হয় কেন দেওয়া হয়না সত্য গোপনকারীদের? আপনাদের কাছে এই সব সত্য গোপনকারীরা লেবাসের খাতিরে এই দুনিয়া ক্ষমা পেলেও আল্লাহর দরবারে এদের ক্ষমা নেই। আল্লাহ কোরআনে পরিষ্কার বলেছে এই সব সত্য গোপনকারীদের কথা। ২:১৭৪# “নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।” এবং আল্লাহ নবীকে বলছেন সূরা শুরার ২৩ নং আয়াতে ৪২:২৩# “হে নবী আপনী বলুন, আমি আমার দাওয়াতের বিনিময়ে আত্নীয়ের ভালবাসা ব্যতীত অন্য কোন বিনিময় গ্রহন করবো না।”
উক্ত আয়াতগুলি কি বিজ্ঞ আলেম সাহেবগন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে গোপন করছেন না? আল্লাহ অবশ্যই রাছুল সা. অবগত করেছিলেন আমাদের মধ্যে বিজ্ঞ আলেমদের ব্যপারে এই জন্যই রাছুল সা. এক হাদিসে বলেছিলেন সেটি আমি নিম্নে উল্লেখ করছি। পড়ে দয়া করে চিন্তা করবেন এবং এই বিভ্রান্ত বিজ্ঞ লোকদের সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার দ্বায়ীত্ত্ব আপনারও। সত্য সবসময়ই তিক্ত তবে ফলটা বড় মিষ্ট।
‘বুশেক আঁইইয়া’তি আ‘লান্নাছি জামানুল লা ইয়াবকা ফিল ইসলামি ইল্লা ইছমুহু ওয়ালা ইয়াবকা ফিল্ কুরআনি আল্লা রাছমুহু মাছাজ্বিদুহুম আ’মিরাতুঁউ ওয়া হুয়া খারাবুম মিনাল হুদা উ’লামাউহুম শাররু মান্ তাহ্তা আদীমিছ ছামায়ি মিন্ ইনদিহিম্ তাখরুজুল ফিতনাতু ওয়া ফীহিম তাউদু’।
অর্থ: শীঘ্রই মানুষের উপর এক জামানা (সময়) আসবে যখন নাম ব্যতীত ইসলামের আর কিছুই বাকী থাকবে না, এবং কুরআনের রীত-রছুম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। মসজিদ সমূহ আবাদ হবে কিন্তু আবাদকারীরা হবে হেদায়াত শূন্য (বিপথগামী) তাদের আলেমগন হবে আকাশের নীচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি, তাদের নিকট থেকে ফেৎনা ফাছাদ সৃষ্টি হবে এবং তাদের মধ্যে উহা ফিরে যাবে।
এই বিষয়টা লেখায় কেউ যদি মনে করেন আমি মসজিদে দান করা বিরোধীতা করছি সেটা আপনাদের সঠিক হবে না। আমি বেশী বেশী দান করতে আহবান জানাচ্ছি যে আপনারা হালাল টাকা দান করুন মানুষের জন্য ইবাদত খানা তৈরী করুন। ক্ষমতাবানগন ব্যয় করুণ সঠিক জেনে বুঝে মিথ্যা কথার উপর ভীত্তি করে নয়।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
