ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
সুন্নত পালনের প্রথম পর্ব ০৭-০৪-২০১৫ইং তারিখে। আজ দ্বিতীয় পর্বের লেখার চেষ্টা করছি। আমার লেখা কারো অন্তরে অনুভতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য নয়। সত্য লেখা এবং জানানোর চেষ্টা করছি যে সুন্নতগুলি রাছুল সা. এর সময় প্রচলিত ছিল না। কিন্তু আমরা অধিকাংশই রাছুল সা. এর সুন্নত মেনেই পালন করে যাচ্ছি।
নবীজি জীবিত থাকা কালে উনার সময় হইতে প্রচলিত উয়াক্তিয়া নামাজের আযানে ওমর রা. পরিবর্তন আনলেন। ফজরের আযানে “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” (ঘুম হইতে নামাজ ভাল) সংযোজন করলেন। এই কথাটি যারাই প্রথম শুনেন বিশ্বাস করতে চান না, আমারও বিস্বাশ করতে কষ্ট হয়েছিল প্রথম যেদিন শুনেছিলাম। হাদীস প্রনেতাগন অনেক আগেই লিখেছেন তাদের কিতাবে। হাদীসটি কোথায় আছে কি আছে সেটি আপনাদের বিস্বাশের জন্যই তুলে ধরছি। “মুয়াতা মালিক অধ্যায় নং-৩ রেওয়াত নং-৮ পৃষ্ঠা-১২৫ মালিক (র) বলিয়াছেন,
তাঁহার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, ফজরের নামাজের সংবাদ দেওয়ার জন্য মুয়াযিন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এর নিকট আসিলেন এবং তাঁহাকে নিদ্রিত পাইয়া বলিলেন: “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম” হযরত উমর (রা) শুনিয়া বাক্যটিকে ফজরের আযানে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিলেন।” যদিও কথাটি ভাল কিন্তু মুহাম্মদ (ছ:) এর সময় ফযরের আযানের সময় ছিল না। এমনকি আবু বকরের রা. আমলেও ছিল না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই মনে করেন আযান তো রাছুল সা. এর সুন্নত। কোরআনের ৬৪:১২ আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন “রাসুলের দায়িত্ব শুধু বানী পৌছে দেওয়া”।
বুখারী ৬৩২৩ নং হাদীসে উল্লেখ আছে হুজুর (সা.) বলিয়াছেন, দীনারের এক চতুর্থাংশ মূল্যের সমপরিমান (মাল) চুরির দায়ে হাত কাটা যাইবে।
বুখারী ৬৩২১-৬৩২২ নং এবং অন্য একাধিক হাদীস হযরত আয়েশা (রাদী:) হইতে বনির্ত হাদীস থেকে জানা যায় কুরাইশ বংশের এক মহিলা চুরি করায় সকলে মিলিয়া উসামা ইবনে যায়েদকে দিয়ে নবীজীকে সুপারিশ করায় চুরির শাস্তি রদ করার। ইহাতে হুজুর (সা:) বলেন, তুমি কি আল্লাহ্র দন্ডবিধি সমূহ হইতে একটি দন্ডের ব্যাপারে সুপারিশ করিতেছ এবং এও বললেন আল্লাহ্র কসম যদি আমার {মুহাম্মদ (সা:) এর} কন্যা ফাতেমাও চুরি করে, তবে মুহাম্মদ (সা:) নিশ্চয়ই তাঁহার হাত কর্তন করিবো। উল্লেখ করা প্রয়োজন আল্লাহ্র এতবড় নিষেধ থাকা সত্বেও কোরআনের এই বিধানের তোয়াক্কা না করে এই বিচার পন্থা রদ করেছিল ওমর রা.।
ওমর রা. খেলাফত কালে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় এতে মানুষ কাঠের ভুষি খেয়েও জীবন ধারন করে এবং চুরি করে খেতে বাধ্য হয় তখন চুরির দায়ে হাত কাটা কোরআনের বিধান থাকা সত্ত্বেও এই বিচার ব্যবস্থা রদ করেন এই বলে যে, আমি কসাই হয়ে যাবো।
কোরআন ৫ নং সূরা মায়িদা ৩৮ নং আয়াত (“যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহ পক্ষ থেকে হুশিয়ারী।”) এবং ৫ নং সূরা মায়িদার ৪৪ নং আয়াতে (“যেসব লোক আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফের।”)
আল কোরআন ৩৩ নং সূরার ৩৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফয়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিন নারীর নিজেদের কোন ব্যাপারে অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকবে না। কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।”
বুখারী হাদিস নং-১৮৭০# ‘নবীপত্নী আয়েশা রা. হইতে বর্ণিত। হুজুর সা. একদা রমজানের রাত্রের মধ্য ভাগে বাহির হইয়া মসজিদে নামায পড়িলেন এবং লোকগনও তাঁহার পিছনে নামায পড়িল। পরে ভোর হইলে লোক জন ইহার আলোচনা করিল। দ্বিতীয় দিন নবীজি মসজিদে নামায পড়িলে তিঁনার পিছনে অধিক মানুষ জামাতে শরিক হইল। তৃতীয় রাত্রিতেও রাছুল সা. নামায দাড়াইলে আরোও অধিক মানুষে জামাতে নামায পড়িল। তারপর চতুর্থ রাত্রে এত লোক হইল যে মসজিদে তাহার যায়গা হইল না। রাছুল সা. ফজরের নামায পড়তে আসিলেন তাঁহার নামায শেষে হইলে লোকগন নবী সা. এর দিকে ফিরিয়া দাঁড়াইলেন। তিঁনি খুতবা পড়িলেন। তারপর বলিলেন, তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট কিছুই গোপন নাই। তবে আমি ভয় করিতেছি তোমাদের উপর ইহা (তারাবী) ফরয হইয়া যায় নাকি! আর তোমরা তাহা আদায় করিতে অক্ষম হইয়া পড়িবে। অত:পর নবী সা. ওফাত পর্যন্ত এই বিষয়টি এই অবস্থায়ই রহিয়া গেল।’ এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায় রাছুল সা. মধ্যরাত্রে বের হয়ে মাত্র তিনদিন নামায পড়েছেন। মধ্য রাত্র বলতে এশার নামায এর সাথে তারাবী আমি বুঝতে বা মানতে পারি না। মধ্য রাত্রে তাহাজ্জুদ বলেই ধরে নেওয়া যায়। আর তাহাজ্জুদের নফল নামাযেই সবচেয়ে উত্তম ইবাদত আল্লাহকে পাওয়ার।
রাছুল সা. এর ওফাতের পর প্রথম খলিফার সময়ও তারাবীর কোন নীতিমালা হয় নাই নতুন ভাবে। কিন্তু ২য় খলিফার তাগিত অনুভব করলেন এবং এটা নতুন করে চালু করলেন। সেটা পাওয়া যায় বুখারী শরীফের হাদিস থেকে। আমি আপনাদের পড়ে দেখা এবং চিন্তা করার জন্য তুলে ধরছি। হাদিস নং-১৮৬৯ # ‘আবু হোরায়রা রা. হইতে বর্ণিত। হুজুর সা. বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রাত্রে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় নামাযে দাঁড়াবে তাহার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করিয়া দেওয়া হয়। ইবনে শেহাব বলেন, অত:পর হুজুর সা. ওফাত করিলেন এবং হুকুম এই অবস্থায়ই রহিয়া গেল। তারপর ১ম খলিফার খেলাফত আমল এবং ২য় খলিফার আমলের প্রথম ভাগ এই অবস্থায়ই কাটিয়া গেল। সকলেই ইচ্ছামতই তারাবী পড়িত।
ইবনে শেহাব ওরওয়াহ ইবনে জোবায়ের হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী বলিয়াছেন, আমি রমজানের একরাত্রে ওমর ইবনে খাত্তাবের সাথে মসজিদের দিকে বাহির হইলাম। দেখিলাম, বিভিন্ন অবস্থায় বহু লোক, কেহ একা একা নামায পড়িতেছে, কোথাও বা এক ব্যক্তি পড়িতেছে আর কিছু লোকও তাহার সাথে জামাত পড়িতেছে। তখন ওমর রা. বলিলেন, আমার মনে হয় ইহাদের সকলকে একজন কারীর সঙ্গে জামাতভূক্ত করিয়া দিলে সর্বাপেক্ষা ভালো হইবে। অত:পর তিনি তাহাই করার মনস্থ করিলেন এবং তাহাদিগকে উবাই ইবনে কা’ব রা. এর পিছনে জামাতভূক্ত করিয়া দিলেন। ইহার পর আমি দ্বিতীয় রাত্রে আবার তাহার (ওমর) সহিত নামাযে বাহির হইলাম। দেখিলাম, লোকগন তাহাদের ইমামের সহিত নামায পড়িতেছে। ওমর রা. বলিলেন, ইহা উত্তম বেদয়াত।’
আযানে মধ্যে সংযোজন, রমজানের তারাবীর জামাত এবং চুরির শাস্তি কমানোর বিধানগুলি মহা প্রতাপশালী খমতাধর ২য় খলিফা ওমর রা. থেকেই শুরু হয়েছে।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
