ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
কোরআনের কিছু আয়াত যা আমায় চিন্তায় ফেলে যখনই পড়তে শুরু করি উপলব্ধি করি পবিত্র কোরআনে দুইটি কোরআনের কথা বলা হয়েছে। আমরা শুধুই পড়ি কেউকি চিন্তা করেছেন এই আয়াতে গুলিতে কি বলা হয়েছে? কিছু আয়াত তুলে ধরছি সূরার নাম্বার এবং আয়াত সহ যেগুলি দ্বারা আমি বার বার চিন্তিত হই।
৫৬:৭৭-৮০# “নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে লাওহ মাহফুজে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। এটা বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।”
৮০:১৩# “ওটা সম্মানিত কিতাবে (লাওহ মাহফুজে) লিপিবদ্ধ।”
৮৫:২১-২২# “বরং এটা মহান কোরআন, লাওহ মাহফুযে লিপিবদ্ধ।”
উপরোক্ত আয়াতগুলিতে যে কোরআনের কথা বলা হয়েছে সেটা কি আমাদের যে প্রচলিত কোরআন আছে? যে কোরআন কিছু টাকার বিনিময়ে সকলেই কিনে নিজ ঘরে নিতে পারে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে। এই সহজ লভ্য কাগজের কিতাব (কোরআনের) কথা যে বলা হয় নাই সেটা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি। কারণ অনেক এমন দোকানদার আছে বিক্রির সময় হয়তো অজুও থাকে না। কিন্তু বিনা ওযুতেও ধরলে এই কোরআন তো বাধা দেয় না। আর উপরোক্ত আয়াতে যে কোরআনের কথা বলা হয়েছে সেখানে আল্লাহ বলেছেন পুত-পবিত্র ব্যতীতগন ছাড়া ঐ কোরআন কেউ স্পর্শ করতে পারেন না।
এই আয়াতগুলিতে আমার বিশাল খটকা থেকেই যায় সব সময়ই।
সে সাথে কলেমা নিয়েও লাগে বিশাল এক খটকা। কারণ এই কলেমা তাইয়্যিব ছাড়া যে কেউ মুসলমানই হতে পারে না। এমন কি রাছুল সা. এক হাদিসে বলেছেন। “মান কানা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ ইয়াকীনান ফাদাকালাল জান্নাতা”। এই কলেমা যে ইয়াকীনের সাথে পাঠ করবে তাকে তুমি জান্নাতের সু-সংবাদ দাও।
একটা খুবই সাধারন বিচার ভাল মন্দ নির্ভুল বিচারের জন্য সর্ব-সময়েই ভাল এবং মন্দ (পবিত্র/অপবিত্র) দুইটা সামনা সামনি থাকা বা একত্রে দরকার হয়। এটাতে সকলেই আশা করি একমত হবেন। এবার কলেমা সংক্রান্ত আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করছি। এখানে পবিত্র কোরআনে সূরা ইব্রাহিমের ২৫-২৭ আয়াত দেখার অনুরোধ করছি এবং আমি নিম্নে আয়াতগুলি উল্লেখ করে দিচ্ছি।যদি কোন বিধর্মী এই আয়াত কোন মুসলমান মানুষের কাছে জানতে চায় তবে কিভাবে তা বুঝানো যায়।
১৪:২৪# “তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা বর্ণনা করেছেনঃ পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মত। তার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উত্থিত।”
১৪:২৫# “সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন-যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।”
১৪:২৬# “এবং নোংরা বাক্যের উদাহরণ হলো নোংরা বৃক্ষ। একে মাটির উপর থেকে উপড়ে নেয়া হয়েছে। এর কোন স্থিতি নেই।”
আমরা ভাল করেই জানি ২৪ নং আয়াতে কালেমাতান “তাইয়্যিবাতান” এর কথা অর্থাৎ পবিত্র বা উত্তম কালেমার (বৃক্ষ) কথা বলা হয়েছে সে কলেমার বাক্য বা বানীটি হচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ”। এটি হচ্ছে উত্তম (বৃক্ষ) বাক্য এতে আমার কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু ২৬ নং আয়াতে কালেমাতান খাবিছাতান যে নোংড়া (বৃক্ষ) বাক্যটির কথা বলা হয়েছে সে বাক্যটি কোন বাক্য। আর ২৪ নং আয়াত এবং ২৬ নং আয়াতে দুইটি আলাদা কলেমা বুঝা যায়। কেউ যদি এক সাথে দুইটি কলেমা দেখে ভাল মন্দ নিজ জ্ঞানে বিচার করে মানতে চায় সেটার কি ব্যবস্থা আমাদের শরিয়তের দৃষ্টি কোন থেকে জানার আগ্রহ রাখি।
এবার আশা যাক মুসলমানদের জন্য অতি আবশ্যক আল্লাহ এবং রাছুল সা. এর হুকুম পালনীয় নামাজ সেটার সম্পর্কে কিছু আলোচনা। পবিত্র কোরআনের প্রতিটি আয়াতই মুসলমানের জন্য মান্যবর। হোউক না একটি আয়াত একাধিক বার এসেছে কোরআনে অথবা মাত্র একবার। যে আয়াতটা একবারই এসেছে সেটাকে কম মানলে কি চলবে? মোটেই নয়। অন্য সব আয়াতের মত মর্যাদা দিয়েই মানতে হবে। যদিও সালাত কায়েম করার ব্যপারে মোট ৮২টি আয়াতে এসেছে। তথাপি কয়েকটি আয়াত আমি নিম্নে উল্লেখ করছি আপনাদের সুবিধার জন্য।
সূরা মায়িদা-৫:৬# “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।”
সূরা মায়িদার আয়াতটিতে দেখা যাচ্ছে নামাযে দাড়ানোর জন্য দাড়ানো শর্ত এবং সে সাথে নামাযে দাড়ানোর পূর্বে ওযু গোশলের কিছু নিয়মাবলী। তা আমরা সকলেই পালন করি যথা সম্ভব। কিন্তু চিন্তায় ফেলে নিচের আয়াতগুলি। ভাল করে লক্ষ করলেই আপনাদের চোখেও পড়বে।
সূরা মারিয়াম-
১৯:২৬#“যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।”
১৯:২৭#“অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।”
১৯:২৮# “হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।”
১৯:২৯# “অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?”
১৯:৩০# “সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।”
১৯:৩১# “আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।”
১৯:৩১ নং আয়াতটি যখনই পড়ি তখনই চিন্তা আসে আল্লাহ একদিনের নবজাতক কিভাবে সালাত আদায় করবেন যাকে কিনা এখনও সঠিকভাবে পরিষ্কার করাও হয় নাই। আমরা সকলেই জানি একটি সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার ৪০ দিন পর্যন্ত জন্মদানকারী মাতা এবং সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া শিশুটি অপবিত্রই থাকে তবে এটা কোন সালাতের কথা বলা হয়েছে। যে সালাত ওযু গোশল পাক নাপাক এর কোন প্রশ্ন নাই। আর এই আয়াতের ব্যপারে তো কোন সন্দেহ করা যাবে না কারণ আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন কোরআন সত্য সহ নাজিল করা হয়েছে এবং এতে কোন বক্রতা নাই। নিশ্চয়ই এই সালাত ভিন্ন কোন উপায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। যাদের কাছে এই সালাতের জ্ঞান আছে তাদের কাছে গিয়েই শিক্ষতে হবে আল্লাহ তাই বলেছেন পবিত্র কোরআনেও।
২১:৭#“তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।”
১৬:৪৩#“অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে।”
কাজেই এই সালাত জানার জন্য এমন লোক খুজে নেওয়া জরুরী। না হয় আল্লাহর একটি আদেশ অপূর্ণই রয়ে যাবে আর আপনার সালাত কোনদিনই কায়েম হবে না। আর আল্লাহর আদেশ অপূর্ণ রেখে হাশরের ময়দানে কি করে দাড়ানো যাবে তিঁনার সামনে? আর কার সাথেই বা দাড়াবেন? আল্লাহ যে শর্ত দিয়ে রেখেছেন সূরা বনি ইস্রাইলের ৭১ নং আয়াতে।১৭:৭১# “আমি প্রত্যেককে তার নেতা সহ আহবান করবো।”
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
