ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
ইসলামে মুত’আ শব্দটি ক্ষনস্থায়ী চুক্তিকে বুঝায়। কিন্তু এই প্রথা রাছুল সা. যুদ্ধের ময়দানের যারা মাসের পর মাস থাকতেন তাদের স্ত্রীদের সাথে দেখা হতো না তাদের জন্য মুতা জায়েজ করেছিলেন খাইবারের যুদ্ধে। এমনকি ঠিক তিন দিনের দিন রাছুল সা. সেটাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবৈধ ঘোষনা করেন। যা সহিহ হাদিস শরীফে পাওয়া যায়। নিম্নে মুত’আ সম্পর্কিত হাদিসগুলি আপনাদের বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি। সূরা নিসার ২৪ নং আয়াতের দোহাই দিয়ে নোংড়ামী করতে চান সেখানে কি বলা আছে?
৪:২৪#“এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।”
এই আয়াতেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা বলা আছে। যারা এটা করবেন মুসলিম আইন অনুযায়ী তাকে তালাকও দিতে হবে। তালাকের সম্পূর্ণ বিধি বিধান মেনেই। এখন কোন ধর্ম যুদ্ধ আছে সেখানে মুত’আ যায়েজ করার পায়তারা করেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে প্রকাশ্যে যে কাজ করে জনসমক্ষে বলতে দিধা হবে সে কাজ ইসলামের জন্য সঠিক হতে পারে না। এমনকি শিয়া মাজহাব এর ভাইদেরও বলছি যদি মুতা করে এসে ঘরের স্ত্রীর কাছে লজ্জায় বলতে না পারেন সেটা অবশ্যই মন্দ কাজ। তবে কেন মুত’আ নামক মন্দ কাজের পক্ষে কথা বলবেন? আপনি যে বোনের সাথে মুতআ করছেন সে বোনের স্বামী বা ভাই তো আপনার স্ত্রী বা বোনের কাছে তার মনের বাসনা জানাতে পারে। মুতাকারীর বোন যদি মুতা করতে যায় সেটাকি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে? কাজেই নোংড়ীর জায়গা ইসলামে নাই এটাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে নোংড়ী ছাড়ার চিন্তা করুন। আর মন্দ কাজে না যাওয়ার জন্যও তো আল্লাহ আয়াত নাজিল করেছেন। সূরা বনিইস্রাইলের ৩২ নং আয়াতে সে আয়াতে। সে আয়াত যখন সামনে আসে তখন ইবলিশ আপনাদের চোখে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। তাই আপনারা ওটা দেখতে পান না। আয়াতটা উল্লেখ করছি।
وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً
আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।
Nor come nigh to adultery: for it is a shameful (deed) and an evil, opening the road (to other evils).-১৭:৩২
এই আয়াত যারা অদেখা করে তাদেরকে বিবেকহীন বললে কি ভুল হবে? আর বিবেকহী প্রাণী পশুর সমান সেটা সকলেই মানেন আমার কিছুই বলার নাই।
৫:৫# তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়।}} যারা মুতআ করেন তারা এই আয়াতের কথা নজরে পড়ে না। এই আয়াত মেনেই কি মুত’আ পালন করে? আর আপনি যে নারীর সাথে মুতআ করছেন তাকে কি আপনি সতী-সাধ্বী মনে করতে পারে?
ইবনে মাজহা ১৯৬২-৬৩ নং হাদীসে উল্লেখ আছে “হযরত ওমরের খেলাফত কালে এক ভাষনে ওমর রা. বলেন রাছুল সা. আমাদের মাত্র তিন দিনের জন্য মুত’আ বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন এরপর রাছুল সা. আবার বলেন আমি তোমাদের মুত’আ অনুমতি দিয়েছিলাম। এখন জেনে নাও যে, আল্লাহ কিয়ামত পযর্ন্ত মুত’আ হারাম করেছেন।” এই নিষেধ রাছুল সা. এর আমল থেকেই নিষেধ ছিল। এই হাদিসগুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরার কারণ হচ্ছে কিছু তরিকত পন্থী বিপথগামী মানুষ হযরত আলী রা’কে দিয়ে হযরত ওমরের বোনের মুত’আ করিয়ে তাকে দিয়ে নিষেধ করায়। হযরত আলী রা’কে দিয়ে অবৈধ কাজ করানো যাতে নিজেরা এই সুযোগ নিতে পারার সুযোগটা ছাড়তে চায় না। শিয়া’রা তো মুত’আকে যায়েজ করে রেখেছে পুরুষদের জন্য। কিন্তু তাদের কোন বোন যদি মুত’আ করে বেড়ায় সেখানে কিন্তু তাদের ঘোড় আপত্তি। শিয়া মাজহাবের দোষ দিয়ে কি করবো?
সুন্নি এক বুজুর্গ উনার পুস্তকে উল্লেখ করেছেন সেখান থেকে হুবুহু উদৃত করছিঃ- “(কোন এক সন্ধ্যায় মাগরিবের সময় হজরত ওমরের শাসন কালে হজরত আলী মজজিদ হইতে নামাজ পড়িয়া বাহির হইতেছিলেন এমন সময় দেখিতে পান যে পাশের রাস্তায় একজন স্ত্রীলোক দাঁড়াইয়া আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন সে কে এবং কি চায়? বোরখাধারী উত্তর করিল সে ওমরের ভগ্নি। হজরত জিজ্ঞাসা করিলেন কি চায়? উত্তরে তিনি বলিলেন, আজকের এ রাত তাহার সহিত মুতা করিয়া থাকিতে চায়। হজরত আলী বলিলেন, তোমায় মোতা করার দেনমোহর আমার নাই।
ওমরের ভগ্নি না মানিয়া উত্তর করিল যে, আমি তাহা জানি না আমাকে মুতা করিতেই হইবে। অগত্যা হযরত আলী তাহার গায়ের চাদর দিয়া মোহর আদায় করিয়া লইয়া গেলেন। রাত্রি ভোর হওয়ার পূর্বেই সে বাড়ীর দিকে চলিয়া গেল। তাহার বাড়ীর প্রবেশ পথে হযরত ওমরের সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইল। ওমর জিজ্ঞাসা করিলেন সে কোথায় গিয়াছিল? উত্তর করিল যে আজকের রাত্রি আলীর সাথে মুতা করিয়া রাত কাটাইয়াছি। তিনি আর কিছু না বলিয়া দরবারের দিকে চলিয়া গেলেন। দরবারে পৌছিয়াই সকলকে সম্বোধন করিয়া কড়া ভাষায় ঘোষনা করিলেন যে আজ হইতে মুতা করিতে পারিবে না। সেই হইতে আজ পর্যন্ত সুন্নি সমাজে ইহার প্রচলন নাই।)
মারফতের কিছু বিপথগামী লোকও এটাকে বৈধ করার পিছনে লেগে আছে তাদের কুরুচিপূর্ণ ইচ্ছা পুরনের আশায়। তারা মারেফতের ফকির এবং সুফি পরিচয় দানকারী অনেকে আছে যারা মুত’আ যায়েজ করে। মারফতের বাদশাকে রাছুস সা. বিরোধী আদপ বিহীন বানাতেও তাদের দিধা হয় না! কি করার আছে তবে আমার আহব্বান শিক্ষিত ভক্তদের কাছে তারা যেন বিবেচনা করে নবীর ওসিয়তকৃত তাদের মওলা আলীকে অযুক্তিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন না করেন।
মুসলিম শরীফ: ৩২৯৯ ও ৪৮৫১ নং ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া (রহ.) বর্ণনা করিয়াছেন–আলী ইবনে আবু তালিব রা. বলেন যে, খায়বার যুদ্ধের দিন হুযুর পাক সা. নারীদিগকে মোতয়া বিবাহ করা এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া নিষেধ করিয়াছেন।
৩৩০১# আবুবকর ইবনে আবী শায়বাহ ইবনে নুমাইর ইবনে হরব (রহ.) বর্ণনা করিয়াছেন—আলী (রা.) বলিয়াছেন যে, হুজুর পাক সা. খায়বার যুদ্ধের সময় মোতয়া এবং গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষেধ ঘোষনা করিয়াছেন।
৩৩০২# মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রহ.) বর্ণনা করিয়াছেন–আলী (রা.) বলিয়াছেন। তিনি শুনিতে পাইলেন যে, ইবনে আব্বাস (রা.) স্ত্রীলোকদের সাথে মোতআ বিবাহের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শর করিয়াছেন। আলী (রা.) বলিলেন, থাম হে ইবনে আব্বাস। কারণ হুজুর পাক সা. খায়বারের যুদ্ধের সময় মোতয়া এবং গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষেধ ঘোষনা করিয়াছেন।
৩৩০৩ # আবু তাহের এবং হারমালাহ (রহ.)বর্ণনা করিয়াছেন- ইবনে আব্বানকে লক্ষ্য করিয়া আলী (রা.) বলিয়াছেন যে হুজুর পাক সা. খায়বারের যুদ্ধের দিন মোতয়া এবং গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষেধ ঘোষনা করিয়াছেন।
এই হাদিসগুলি পড়ার পরও যদি কেউ বলে মুত’আ যায়েজ; তবে আমার আর কি করার থাকতে পারে। নবী সা. এবং মারফতের বাদশা মওলা আলীর কাছে ফরিয়াদ জানিয়ে তাদের অবমাননা কারীদের বিচারের আশায় রইলাম। অন্য তরিকতে যে যাই বলুক উয়ায়ছী তরিকতের মধ্যেও যদি কেউ বলে মওলা আলীকে নবী সা. এর হুকুম বিরোধী বানাতে চায় বা চেয়েছে তাদের মধ্যে পূর্ণতার অভাব রয়েছে বলে আমি মনে করতে দিধা করবো না।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
