ফকির উয়ায়ছী-Fokir:
গত দুইদিন যাবৎ পত্র-পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হচ্ছে যা খুবি ঘৃনীত এবং নেক্কার জনক। জার্মান সরকারের প্রতি এই ঘৃনীত কাজের প্রতিবাদে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভাই বন্ধুদেরকে আহবান জানাচ্ছি। কোন দেশ কখনোও ধর্মের বিধি-বিধানের থেকে উপরে উঠে তাদের নিজস্ব মতামত চাপাতে পারে না। আর চাপাতে চাইলে প্রতিরোধ করা উচিত। কারণ সব দেশেই সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। বিশ্বের আনুমানিক জন সংখ্যা ৬৮০ কোটি। তার মধ্যে মুসলমান ধর্মালম্বীর সংখ্যা আনুমানিক ১৬০ কোটি এবং হিন্দু ধর্মালম্বীর সংখ্যা আনুমানিক ১০০ কোটি। এই দুই ধর্মের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৩৮ শতাংশ। এই দুই ধর্মের কিতাবে সহোদর ভাই বোন বিবাহ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। জার্মানীতে যে এই দুই ধর্মের মানুষ নেই এটা জার্মানীর সরকার বলতে পারবে না।
জার্মানিতে সমাজ অস্বীকৃত যৌন সম্পর্কের বিষয়টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও সে দেশ এথিক্স কাউন্সিলের মতামতের উপর যে অবৈধ চিন্তা বাস্তবায়নের কথা ভাবছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ- ফ্রান্স, স্পেইন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গদের মত। সেটা জার্মানির অপরাধমুলক কর্ম থেকেও জঘন্য এবং ঘৃনীত। আজ এই দেশগুলি আপন ভাই বোন বিবাহের বৈধতা দিচ্ছে। কাল বাবা মারা গেলে অথবা বাবার সাময়িক অনুপস্থিতিতে মাকেও বিয়ে করা বা যৌন সম্পর্ক করার বৈধতা দিয়ে দিবেন এই দেশগুলির কোন একটি। আর একটি দিলেই অন্য দেশগুলি উদাহরন দিতে পারবে সে দেশে মা ছেলে বিবাহের বা যৌন সম্পর্ক করার বৈধতা আছে আমার দেশের জনগনেরও স্বাধীনতা আছে। তারা কেন পারবে না তারাও তো প্রাপ্ত বয়স্ক স্বাধীন। এই দেশগুলির মানুষের তো কোন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা আছেন। আপনাদের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান করছি কিয়ামতের দিকে ধাবিত করবেন না মানব জাতিকে। মানুষের মাঝে এতটুকু স্বাধীনতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত নয় যে মানুষ পশুত্ত্বকেও হার মানায়। এই নোংড়া মস্তিকের মানুষগুলিকে বলতে চাই চিন্তা করতে আপনারা যে দিকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বাধীনতাকে প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে সন্তানের কাছে তার জন্মদাত্রী মাতাও নিরাপদ থাকবে না।
আমাদের মুসলমান ধর্মের কিতাব পবিত্র কোরআনে যা বলা আছে বিবাহ প্রসঙ্গে সেটা তুলে ধরছি আর স্ব স্ব ধর্মের ভাইদের প্রতি আহবান করছি তাদের ধর্ম কিতাবে কি বলা আছে তা প্রর্দশন করে ঐ দেশগুলির বিরুধীতা করুন। যেভাবে সম্ভব এই অবৈধ সিদ্ধান্ত থেকে জার্মানী সরকারকে বিরত করুন এবং সেসব দেশকে আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য করুন। আর এ সকল দেশে গন ভোটের মাধম্যে এই আইন প্রচলিত রাখা যায় কিনা তা নির্ণয় করতে বাধ্য করুন।
মুসলাম ধর্মে কোরআনে বলা আছে বিবাহ সম্পর্কে
৪:২২# যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না।
৪:২৩# তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
জার্মান সরকার বুঝতে পারছে না। তারা এক অপরাধ রোধের চিন্তা মাথায় নিয়ে বড় অপরাধ করার ক্ষেত্র তৈরী করে দিচ্ছেন। বিশ্বের প্রথম হত্যা ক্ষুন হয়েছিল ভাই বোন বিবাহের মধ্যে দিয়েই। আজ সুন্দরী বোনটি এক ভাই বিয়ে করবে তারই অপর এক ভাই এই জাতনা সইতে না পেরে হত্যা করবে। যেমটি ঘটেছিল সৃষ্টির প্রথম মানব আদম আ. এর দুই সন্তানদের মাঝে। এক ভাই হত্যা করেছিল অপর ভাইকে। কাজেই মুসলমানের আল্লাহ, হিন্দুদের ভগবান, খৃষ্ঠানদের যীশু, বৌদ্ধদের ইশ্বরের দোহাই দিয়ে এই আইনের প্রতি পূণর বিবেচনা করার আহবান্। না হয় ধর্মপ্রান মানুষদের প্রতি আহবান প্রয়োজন বোধ প্রান দিয়ে হলেও ঠেকানোর চেষ্টা করা।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী
