আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / মেরাজের প্রচলিত হাদিসটি চিন্তা করে দেখার অনুরোধ

মেরাজের প্রচলিত হাদিসটি চিন্তা করে দেখার অনুরোধ

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

আমরা বড় দুর্বল ঈমানের ভীত মুসলমান আশা করি শুধুই নেকির। চিন্তা করি কোন কাজটা করলে সোয়াব (নেকী) হবে। রাছুল সা. এর দাওয়াত ছিল ঈমানের এখন মুসলমানের মধ্যে ঈমানের দাওয়াত নাই। দাওয়াত হচ্ছে আমলের। এটা করলে ওটা হবে। ওটা করলে সেটা পাবে। এজগতে এটা করলে পর জগতে ওটা পাবে। একটা উদাহরন বলি যেমন মসজিদে শুনা যায় ইহকালে কেউ যদি একটা মসজিদ স্থাপন করে বেহেস্তে তার জন্য একটা ঘর বানানো হবে। তা যদি হয় সামর্থবানদের এ কাজটা করাই উচিৎ। কিন্তু এই হাদিসটা বয়ান করার সাথে সাথে যদি বলা হতো যে মানুষটি একটি মসজিদ নির্মান করবেন সে জন্য তার রোজগারের অর্থ হালাল হওয়া সবচেয়ে জরুরী। আমল করবো অসুবিধা নাই। কিছু সাংঘর্সিক হাদিস যখন চোখে পরে চিন্তা করি কোনটা সঠিক তখন খুবই দিশেহারা হই। বিশেষ করে তখন মনে হয় পূর্ববর্তী নবীদের কথা মানা উচিৎ নাকি সাহাবাদের কথা নাকি খাতেমান নাবীয়্যিন হযরত মুহাম্মদ সা. এর কথা মানা উচিৎ। আমি একবাক্যেই মনে করি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য আমাদের নবীর চেয়ে উত্তম চিন্তা আর কোন নবী বা কোন সাহাবাগনও করতে পারেন না।

মেরাজ সম্পর্কিত খুবই আলোচিত হাদিস বুখারী শরীফে বিদ্যমান। রাছুল সা. মেরাজ থেকে ফিরার সময় মুসা নবীর সাথে সাক্ষাত তথন মুসা নবী আমাদের রাছুল সা.কে  জিজ্ঞাসা করলেন মেরাজ থেকে কি নিয়ে আসলেন। নবী উত্তর করলেন। আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য এক বছরের রোজা এবং ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন। তখন মুসা নবী বললেন আপনার উম্মতরা এটা পালন করতে পারবে না। আপনি আল্লাহর কাছে ফিরে যান এই বোঝা কমিয়ে আনুন। রাসুল সা. আল্লাহর কাছে ফেরৎ গিয়ে বললেন। তারপর আল্লাহ সেটা কমিয়ে ৪০ ওয়াক্ত করে দিলেন। ফিরে এলেন আবার মুসা নবীর সাথে দেখা। পুনরায় মুসা নবী জিজ্ঞাসা করলেন? নবী উত্তরে বললেন নামায ৪০ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। মুসা নবী বললেন আপনার উম্মত ৪০ ওয়াক্ত পারবেন না। আবার জান কমিয়ে আনুন। নবী আবার আল্লাহর কাছে গেলেন। সেখান থেকে ফিরে আবার মুসা নবীকে বললেন আমার নবী সা. নামায ৩০ ওয়াক্ত করে দিলেন। মুসা নবী আবার বললে সেটাও সম্ভব নয় আপনার উম্মতের জন্য। আবার জান কমিয়ে আনুন। এবার নবী সা. ফিরে এসে বললেন ২০ ওয়াক্ত করেছেন আল্লাহ। এবারও মুসা বললেন ২০ ওয়াক্তও পারবে না। আরো কমিয়ে আনুন। নবী সা. আবার গেলেন এবং ফিরে এসে বললেন ১০ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। মুসা নবী আবার বললে ১০ ওয়াক্তও পারবে না আপনি আবারও জান আরোও কমিয়ে আনুন। নবী গেলেন আল্লাহর কাছে আল্লাহ ১০ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত করে দিলেন। ৫ ওয়াক্ত নিয়ে রাছুল সা. যখন এসে মুসা নবীকে জানালেন আল্লাহ ৫ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। মুসা বলল আরো কমিয়ে আনুন তখন আমার নবী সা. নাকি বলেছিলেন; আমার (নবীর) সরম করে। আমি লিখছি ভঙ্গ মন চোখে পানি নিয়ে এটা পড়ে আপনাদেরও ভাল লাগার কথা নয়। বুখারী শরীফের এই হাদিসটিতে আমাদের নবীকে কতটুকু ছোট করা হয়েছে। এই হাদিসটিতে পড়ে মনে হয় রাছুল সা. যদি আর একবার যেতেন বাকী ৫ ওয়াক্ত নামাযও মাফ হয়ে যেত। এই হাদিসটিতে মুসা নবী আমল কমানোর জন্য চেষ্টা করেছেন উম্মতে মুহাম্মদির জন্য। এইবার অন্য হাদিসটির দিকে খেয়াল করে দেখুন আমল বাড়ানোর চেষ্টা।

“আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। এই কথা যে মেনে নিবে তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিবে”। আবু হুরায়রা প্রচারের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হয়েই প্রথমে দেখা হলো ওমর রা. সাথে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন মুহাম্মদের জুতা হাতে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? হুরায়রা ব্যক্ত করলেন রাছুল সা. এর বানী “আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। এই কথা যে মেনে নিবে তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিবে”। এ কথা শুনেই ওমর রা. হুরায়রার বুকে ঘুসি মেরে চিত করে ফেলে দিলেন এবং ধরে নিয়ে আসলেন রাছুল সা. এর কাছে। এসে নবী সা.কে বললেন আপনার কথা শুনলে মানুষ এই কথার উপর ভরসা করে বসে থাকবে অলস হয়ে যাবে মানুষকে আমল করতে দেন।হাদিস-(মুসলিম এবং মেশকাত-৩৫) এই হাদিসটি পড়লে বুঝাযায় যেকোন মুল্যেই আমল টিকিয়ে রাখতে হবে।

আপনাদের বিবেচনার জন্য কোরআনের কয়েকটি আয়াত তুলে ধরবো আপনারা নিজ জ্ঞানে চিন্তা করলেই বঝতে পারবেন কোনটা সঠিক বলে ধরে নেওয়া যায়।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা হুজরাতের ৪৯:২ নং আয়াতে বলেছেন (‘হে মু’মিনগন! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর নিজেদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেই রূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না; এত তোমাদের কর্ম নষ্ট হয়ে যাবে তোমাদের অজান্তে।’)

উপরোক্ত দুইটি হাদিসেই রাছুল সা. এর চেয়ে বেশী উৎসাহী এবং জ্ঞানী হয়েছে একজন নবী এবং একজন সাহাবাকে। একজন নবীকেই বার বার পাঠালেন আমল কমানোর জন্য। আর একজন সাহাবা আমল বাড়ানোর জন্য রাছুল সা. এর বার্তা বহনকারীকে মারতেও দিধা করলেন না। আমার বিচারে যা কিনা মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী বলেই মনে হয়। শুধু তাই নয় এই হাদিসটি যে সত্য হওয়ার ব্যপারে সন্দেহ আছে সেটি হলো “জিব্রাইল আ. যখন প্রথম আসমান দ্বারে টোকা দিলেন তখন উপর থেকে জিজ্ঞাসা করা হলো কে? তখন জিব্রাইর আ. জবাব দিলেন আমি জিব্রাইল। দরজা না খুলেই আসমানের উপর থেকে আবার প্রশ্ন করা হলো তোমার সাথে কে? আবার জিব্রাইল আ. জানালেন আমাদের নবীর কথা। কথাগুরি যে বানোয়াট মনগড়া সেটা খুব সহজেই বুঝা যায়। তার কারণ ১ নং আসমানের উপর থেকে জিজ্ঞাসা যেহেতু করা হয়েছে? তার মানে উপর থেকে দেখতে পারেন নাই! কিন্তু আশ্চর্য্য জিব্রাইল আ. এর সাথে কে আছেন সেটা দেখলেন কি করে? ২ নং আল্লাহ যেহেতু বোড়াক পাঠিয়েছেন তাঁর প্রিয় হাবীব রাহমাতুল্লিল আলামীনের জন্য তবে আমাদের নবীর আগমনের বার্তা কথা আল্লাহ ফেরেস্তাদের জানান নাই! আল্লাহর প্রিয় বন্ধুকে দাড় করিয়ে রাখবেন সেটা বিশ্বাস করতে যে বড় কষ্টই হয়! আর একটি বিষয় এক হাদিসে পাওয়া যায় মুসা নবী বলেছেন আমি নবী না হয়ে মুহাম্মদের উম্মত হতে পারলে বেশী খুশি হতাম। আমার মুরশিদের মুখে শুনা আরও একটি হাদিস উল্লেখ করছি। ওমর রা. একদিন আমাদের নবীর সামনে বসে তৌড়িত কিতাব পাঠ করছিলে। আর বলছিলেন হে মুহাম্মদ তৌড়িত কিতাবে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা আছে যা কিনা আমরা কোরআনে সংযোজন করতে পারি। তখন নবী সা. বলেছিলেন হে ওমর তৌড়িত কিতাব যার উপর নাজিল হয়েছিল সে মুসা যদি জীবিত থাকতো তারও আমার উম্মত হওয়া ছাড়া উপায় থাকতো না। এই কারণে মুসা নবীর নাম দিয়ে এই হাদিসটা বয়ান মধ্যে কোন সততা আছে বলে মনে করি না।

৫৯:৭# রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা

উপরোক্ত হাদিসগুলিতে রাছুল যা বলেছেন কেউ কি তা গ্রহন করেছেন বলে মনে হয়?

৩৪:২৮# আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না

এতবড় কঠিন আয়াত থাকতেও একবাক্যে রাছুল সা. হুকুম মানতে কিভাবে মন সায় দিতে পারে আমার বুঝে আসে না।

৫৩:৩# প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না

এই আয়াতে বুঝা যায় রাছুল সা. নিজ থেকে কিছু বলেন না। রাছুল সা. হুকুম না মানা বা পরামর্শ দেওয়া তো আল্লাহর হুকুমই না মানা এমনকি আল্লাহকেই পরামর্শ দেওয়া। নাউজুবিল্লাহ।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *