আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / “আল্লা” বিল গায়েব অর্থ যারা অদৃশ্য/ নিরাকার বুঝে তারা আল্লার দিদার পাবে না

“আল্লা” বিল গায়েব অর্থ যারা অদৃশ্য/ নিরাকার বুঝে তারা আল্লার দিদার পাবে না

ফকির উয়ায়ছী:
 
শুরুতেই বলতে চাচ্ছি এই লিখাটা আমি কোরআন পড়ে যা পেয়েছি সে চিন্তা থেকেই উৎগত। ‘বিল গায়েব’ শব্দের প্রকৃত বাংলা অর্থ যা অভিধানে পাওয়া যায় তা হচ্ছে ‘অনুপস্থিত’। আর এই অনুপস্থিত শব্দটির মানে আমি বুঝি এখানে নাই কিন্তু অন্য কোথাও আছে। আমাদের বিজ্ঞ আলেম সাহেবগন বিল গায়েব শব্দের অর্থ বানিয়ে ফেলেছেন নিরাকার এবং অদৃশ্য। আমার অল্পজ্ঞানে বুঝতে পারি একজন প্রকৃত আলেম কোরআন ভাল মত চর্চা ব্যyতীত, তিনারা আলেম হতে পারেন না। আমার মনে যখন খটকা লাগে আলেম সাহেবদের কথা মানবো নাকি? আল্লার কোরআনকে মানবো? আমি অদৃশ্য বলতে বুঝি যেটার কোন অন্তিত্য নাই; কোন দিনও ছিল না। এখানে সেখানে পৃথিবীর আসমান জমিনের কোন জায়গায়তেই নাই। আমি খুব সাধারন ভাবে বুঝি আমাদের দেশে যখন রাত্রে সূর্য গায়েব (অনুপস্থিত) হয়ে যায় তখন অন্য দেশে সেটা উপস্থিত থাকে। হাওয়ায় মিলিয়ে যায় না। এবং চাঁদ যখন দিনে দেখা যায় না সেটাকেও আমরা গায়েব বলি দিনের বেলা। কিন্তু রাত্রে এবং দিনে যথাক্রমে চাঁদ সূর্য উদিত হয় আমাদের সামনে। আর একটি সাধারন কথা বলি আমার বাবা এক সময় ছিলেন এখন নেই (মারা গেছেন) সে এখন চিরতরে অনুপস্থিত কিন্তু তিনি তো এক সময় ছিলেন। ঠিক তেমনি আল্লা কোথাও অনুপস্থিত থাকলে অন্য যায়গায় উপস্থিত থাকারই কথা। যদি বলি আল্লাকে দেখার যোগত্যা আমরা অর্জন করতে পারি নাই। সেটাই মনে হয় উচিত হবে। যদি বলি আল্লা অদৃশ্য সেটা তো মোটেই ঠিক নয়। আল্লা কোরআনে বলেছেন বেশ কয়েকটি আয়াতে যা আমি তুলে ধরছি সকলের চিন্তা করার জন্য। যেমন:-
 
৫৭:৩# তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান। এই আয়াতের সবটুকু যারা মানতে দিধা করবে তাদের কি ঈমান থাকবে?
 
২৯:৫# “যে আল্লাহর সাক্ষাত কামনা করে, আল্লাহর সেই নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে।” (এই আয়াতে নির্ধারিত কাল বলতে যে হাশরের ময়দান তা আল্লা কোথাও বলেন নাই)
 
২৯:২৩# “যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ ও তাঁর সাক্ষাত অস্বীকার করে, তারাই আমার রহমত থেকে নিরাশ হবে এবং তাদের জন্যেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে”।
 
২:২২৩# “আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে”। (সাক্ষাত যে কোথায় হবে সেটা বলেন নাই, এই জগতে না চিনলে পর জগতে চিনবেন কি করে? থাকবো তো অন্ধ)।
 
এই আয়াত গুলি ছাড়াও আল্লা যে, বিদ্যমান তার অনেক প্রমান কোরআনের আয়াতের মধ্যে এবং হাদিসে দেখা যায়। যেমন আল্লা বলেছেন “আল্লাহর চেয়ে উত্তম রং আর কার।”-২:১৩৮। “আদমকে বানাইছেন আল্লাহ নিজ হাতে।”– ৩৮:৭৫। “আল্লাহ্ মানুষের ঘাড়ের শাহ রগের চেয়েও নিকটে।”– ৫০:১৬।
 
বু:খা:৬৫০২ হাদিসে দেখা যায় হাত, পা, কান, চক্ষু আল্লার সবই আছে। তবে কোরানেই আল্লা বলেছেন:
 
৪২:১১# “ কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়।”(তাঁর কোন মেসাল/উপমা নাই)।
 
অধিকাংশ কেমন অবিবেকবান আল্লার কথা না মেনে তথাকথিক আলেমদের কথা মেনে বসে থাকে। যে যাই বলুক; আল্লার নাজিলকৃত এই আয়াতগুলি থাকার পরও কিভাবে আমি মানতে পারি আল্লা নিরাকার। আল্লা কোরআনে কোথায় বলেছেন তিঁনি নিরাকার। আর আল্লা শুধুই হাশরের ময়দানেই দেখা দিবেন এটা কোন আয়াতে বলা আছে? আলেম সাহেবদের এই কথাও যদি মানি তবেও তো সমস্যা আল্লা ‍সূরা বানিইস্রাইলের ৭২ আয়াত “যে ব্যক্তি ইহকালে অন্ধ ছিল সে পরকালেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রান্ত।” কিভাবে আশা করা যায় পরকালে আল্লাকে দেখা যাবে। আমি তো অন্ধই থাকবো। এমনকি সূরা লোকমানে ৩১:৩৩# “হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লা ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লা সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না কর।” আমাকে চিনিয়ে দিবেন কে? সে উপায়ও তো দেখি না। এটা আমার ব্যক্তিগত চিন্তার প্রকাশ কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। দয়া করে চিন্তা করে আপনাদের নিজস্ব জ্ঞান কাজে লাগাবেন। আপনার চোখ, কান, অন্তর পরকালে কোন কাজে আসবে না। ইসলামে অযুক্তি কিছুই নেই আল্লার কোরআনই তার প্রমান। পবিত্র কোরআনে আল্লা দেওয়া এত সব প্রমান থাকা সত্ত্বেও। আমি অন্ধ বিশ্বাসীদের সঙ্গী হয়ে ঘাড় ঠাশা ঈমান আনলে যে সূরা আরাফের ১৭৯ আয়াতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো। ৭:১৭৯# “আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।” আমি উক্ত আয়াতের অধিকারী মোটেও হতে চাই না।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *