আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / কোরআন হাদিস মতে খারেজি পূর্বতন এবং বর্তমান কাদের বলা যায়। পর্ব-২

কোরআন হাদিস মতে খারেজি পূর্বতন এবং বর্তমান কাদের বলা যায়। পর্ব-২

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

প্রথম পর্বে পূর্বতন খারেজিদের কথাই উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি। এই পর্বে বর্তমান খারেজিদের সম্পর্কে তুলে ধরতে চেষ্টা করবো আপনারা নিজজ্ঞান দিয়ে বিচার করবেন।

শুরু করার আগেই কিছু আয়াত তুলে ধরছি পবিত্র কোরআন থেকে যাতে আল্লার হুকুম আছে রাছুল সা.কে মেনে চলার জন্য।

৮:২০#“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।”

২৪:৫২#“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য।”

৩:৩২#“আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।”

৩৩:৫৭#“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।”

২৪:৬৩#“রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।”

৩৩:৩৬#“ আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।”

৩:৩১#“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।”

৩৩:৭০# “যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।”

উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আল্লার হুকুম যেটা সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু বর্তমান খারেজিদের প্রচারনা চলে মাইক দিয়ে মিডিয়াতে আমার আল্লা এবং রাছুল সা. এর অনুসারীর দল সংখ্যায় এতই কম যা কিনা গননাতেই আসে না। আল্লার কথা কোরআনে আর রাছুল সা. কথা হাদিসেই সীমাবন্ধ কেউ যদি বলে তবেই তা প্রকাশ পায়। কিন্তু বর্তমান আলেম সাহেবগন বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে এমন সব নতুন কথা উৎভাবন করছেন এবং মানুষের মাঝে প্রচার করছেন আর সেটার প্রচারনা এতই বেশী আল্লার রাছুল সা. হুকুম মানা কথা সেটা চাপা পরে যাচ্ছে। কিছু আলেম মিডিয়াতে এমনও বলছেন। মসজিদে আল্লার নামের সাথে রাছুল সা. নাম থাকাও বেদাৎ। কলেমা তাইয়্যিব সম্পর্কে বলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” মুহামাদ্দুর রাছুলুল্লাহ এক সাথে বলাও নাকি বেদাৎ। এই সব আলেমদের কথা শুনে কি বলবো সেটাই ভেবে পাই না। এরা নাকি আবার বেহেস্তে যাওয়ার পথ দেখাবেন? কথাবার্তায় মনে হয় তারা আল্লা মনোনীত ঠিকাদার আর বেহেস্তের টিকেট তাদেরই হাতে। আর তাদের অনুসারীরাও এদের কথা শুনেই নাকি বেহেস্তে যাবেন। হায় আল্লা এই সব খারেজি নেতার কথা শুনে যারা নিজ বিবেক কোন কাজে লাগাবে না তাদের জাহান্নামের বুকিং তো এখান থেকেই রেডি হয়েই আছে। আমি নাদান বুঝি কম কোনটা হাদিস কোনটা্ ইতিহাস বুঝার জ্ঞানই নাই। তবে একটি বিষয় আলোচনা করলে সকলেই মোটামুটি বুঝতে পারবেন চিন্তা করবেন যদি শুনে না থাকেন আপনার পাশে কোন বিজ্ঞজনকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন আশা রাখি। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় আদম আ. থেকে শুরু করে সব নবীগনই আরশে মুয়াল্লায় দেখেছেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহামাদ্দুর রাছুলুল্লাহ”। যে সকল আলেমগন এই কথা বলেন আল্লার নামে সাথে রাছুল সা. নাম পড়লে বেদাৎ আল্লার নামে সাথে রাছুল সা. এর লিখলে বেদাৎ তাদের কাছে জানতে চাই আরশে মুয়াল্লায় এই কলেমা লিখা ছিল এই বেদাতের জন্ম কে দিয়েছিলেন? যদি আসমানী লিখা হয়ে থাকে আল্লা ফেরেস্তা নবীকুলের জন্য লিখে থাকেন এই বেদাৎ জন্ম দিয়ে থাকেন এই বেদাত তবে আমি সে বেদাৎ করবোই। আর সে সাথে আল্লার কাছে ফরিয়াদ জানাবো সে সকল আলেমদের কথা যেন আমাদের কানে না পৌচ্ছায় সে ব্যবস্থা করে দাও। অথবা সে আলেমদের চোখ, মুখ সীল মহর করো যাতে মানুষকে বিপথগামী করতে না পারে। আল্লা যাকে রহমত সরূপ প্রেরণ করেছেন তাঁর সম্পর্কে কটু কথা মেনে নেওয়া বড় কষ্টের।

২১:১০৭#“আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।”

৩৩:৫৬#“আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর। ”

খারেজির দল বর্তমানে ব্যপক প্রচার করে চলছেন মিলাদ কিয়ামে করা বেদাৎ। আল্লার রহমতের উপর ৩৩:৫৬ আয়াতে আল্লা নিজেই তাঁর নবীর জন্য দোয়া সালাম জানান। তারপর আসে কিয়ামের কথা কিয়াম শব্দটা বাংলা উচ্চারণই তো দাড়ানো। যে আলেম সাহেব যখন ওয়াজ করেন রাস্তা বন্ধ করে সেখানে পুলিশের কনস্টেবল গিয়েও যদি দাড়ায় আলেম সাহেব নিজে উঠে দাড়িয়েই সালাম দিবেন। সম্মানীত ব্যক্তিকে বসে সালাম দেওয়া আদবের আচরনের মধ্যে পরে না। আর মিলাদে যাকে আমরা সালাম পেশ করছি তিঁনাকে খুশি না করতে পারলে তো বেহেস্তের দরজাই দেখতে পাবো না। আবার বেহেস্ত, বেহেস্তি ফল, হুর! সে আশায় গুড়ে বালি কাজেই চিন্তা করার অনুরোধ রাখছি। একটা প্রশ্ন আমার মনে; আমরা যদি দাড়িয়ে রাছুল সা.কে সালাম জানালেই বেদাৎ হয় তবে মসজিদের মিম্বরের প্রথম দুই সিড়ি ছেড়ে তিন নাম্বারে দাড়িয়ে খুতবা দেওয়া হয় কেন? উপরের সিড়ি দুটি ছাড়া হয় কার কার জন্য? সেটা কি বেদাৎ নয়? সেটা তো বেদাতের চেয়েও বেশী।

বেহেস্তের পথ পাবেন কি করে; আল্লার হুকুম না মেনে। সূরা ফাহতে কি বলেছেন সেটার দিকে দৃষ্টি দিবেন। মুসলমান নামধারী অধিকাংশের ঘরেই কোরআন আছে আমার লেখার প্রতি আস্থা না এনে ঘরের কোরআন খানি খুলুন যদি অশরীরিজীব থেকে কিছু সময়ের জন্য নিস্তার পান।

৪৮:১০#“যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।” } এই আয়াতটা পালনে বাধা দেওয়ার জন্য ওলি আউলিয়া পির ফকিরদের বেদাতী বানিয়ে ছেড়েছেন এমনকি ওয়াজের শুরুতেই ওলি আউলিয়াদের ব্যপারে গীবত দিয়েই তাদের ওয়াজ মাহফিল শুরু করেন। তবে এই ব্যপারে আমি আল্লার হুকুমের বাইরে যেতে বলছি না যতটুকুর জন্য ওলি আউলিয়া নামক ওলিল আমরদের কাছে যেতে হবে সেটাও আল্লা কোরআনে পরিষ্কার করেই উল্লেখ করেছেন। সূরা নিসার আয়াত ৫৯।

৪:৫৯# “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।”} উক্ত আয়াতটিতে আল্লা বলেছেন ‍উলিল আমর হুকুমের অধিকারীকে কিভাবে মানতে হবে এবং কতটুকু মানা যাবে। হুকুমের অধিকারী যদি আল্লা এবং রাছুল সা. এর পথ থেকে বিচুত হয়ে আল্লা রাছুলের চেয়ে বড় হয়ে বসতে চায় বা অনুসরকারীরা উলিল আমর হুকুমের অধিকারীকে আল্লা এবং রাছুলের হুকুমের চেয়ে বড় জ্ঞান করে তবে তার ইমান থাকবে না। আল্লার হুকুম অনুযায়ী হুকুমের অধিকারীকে ততটুকুই মানতে হবে। আল্লা উক্ত আয়াতে বলেছেন আল্লাকে মান এবং রাছুল সা.কে মান এবং তোমাদের মধ্যে হুকুমের অধিকারীকে মান। যদি মতভেদ হয় আল্লা এবং রাছুল সা. এর দিকে প্রত্যাবর্তিত হতে। কাজেই আল্লার হুকুমের বাইরে গিয়ে বিপথগামী ব্যক্তির অনুসরন করারও খারেজিদের দলে অন্তর্ভূক্ত হওয়ারই সামিল। সূরা নিসার ৪:৫৯ আয়াত এবং ৪৮:১০ আয়াতের বলেই কিছু কিছু পির এবং তাদের অনুসারীরা পিরের মাঝেই আল্লা এবং রাছুল দেখেন। এমনকি পিরকেই আল্লা মনে করে পিরের ধ্যান করেন। অধিকাংশ মারেফত পন্থিরা এই কাজ করলওে কোরআনের আয়াত পড়ে চিন্তা করার অনুরোধ করবো। আমি আব্দুল্লাহ (আল্লার দাশ) যদি আমারই মতন আর এক আব্দুল্লাহ (আল্লার দাশ)-র চেহারা ধ্যান করি। তবে তো শেরেকই হবে। আল্লার হুকুম না মানাও তো খারেজিদের দলের অন্তর্ভূক্তই হওয়া। আল্লা বলেছেন আয়াতে ৪২:১১# “লাইসা কামিছলিহি শাইউন” অর্থৎ-তাঁর (আল্লার) কোন মেছাল (সাদৃশ্য) নাই। একবার চিন্তা করার অনুরোধ করছি পির সাহেব কি আমারই মতন খাওয়া থেকে শুরু করে অন্য সব কাজ করছেন না? এমনই শরীকির গঠন অঙ্গ প্রত্যঙ্গতে কোন সাদৃস্য নাই? যদি কোন সাদৃস্য না চোখে পরে দেখেন আপনার আমার মতনই দুইটা হাত, পা, চোখ, কান ইত্যাদি সবই আছে। কাজেই এই শেরেককারীগনও আল্লার রাছুল সা. এর পথ থেকে খারিজ বলেই বিশ্বাস করি। খারেজি যে পির এবং অনুসারীদের মধ্যে নেই সেটা আমি মানতে নারাজ। রাছুল সা. হুকুম না মাজার জন্যই যেহেতু খারেজি হয় তবে আল্লা এবং রাছুল সা. উভয়ের হুকুম না মানা তো শুধু খারেজি নয় মুনাফেক কাফেরের কাজ। কাজেই নিজ জ্ঞান বিচার অতি জরুরী সঠিক ইসলাম জানার জন্য। আল্লার ওয়াদা ৭:১৭৯#“আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।” এই প্রসঙ্গে বুখারী হাদিসে বর্ণিত আছে প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন জাহান্নামী। এই হিসাব সমস্ত মানবকুলের জন্যই প্রযোজ্য।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *