ভূমিকম্পে যারা নিহত হয়েছে তাদের সম্পর্কে এক বিজ্ঞজন জানতে চেয়েছিলেন মরার পর তাদের অবস্থান কোথায় হবে? জান্নাতে নাকি জাহান্নামে?
এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞ এক আলেম সাহেব ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নাস্তিক কাফের বানিয়ে জাহান্নামে স্থান করে দিয়ে দিলেন।
আমি আমার মতামত বলার আগে একটা গল্প দিয়েই আলোচনা শুরু করলাম।
একজন শিক্ষক ছাত্রকে উপকার করার জন্য বললেন তুমি যদি ইন্টাভিউ দেওয়ার সময় গরুর রচনাটা বলতে পারিশ তবে তোকে ভর্তি করে নেওয়া হবে। পরিক্ষার আগের দিন শিক্ষক সেই ছেলেকে বলছে গরুর রচনা নয়। কুমিরের রচনা ধরবে ইন্টাভিউতে। ছাত্র বলছে স্যার আপনার কথায় কষ্ট করে গরুর রচনা শিখলাম। এখন কুমিরের রচনা। ঠিক আছে স্যার আমি চেষ্টা করবো। পরের দিন ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় শিক্ষকগন বলছেন তুমি কুমিরের রচনা বল।
ছাত্র: শুরু করল: গরুর চারটা পা, ২টা কান।
শিক্ষক: তোমাকে কুমিরের রচনা বলতে বলেছি।
ছাত্র: স্যার বলতেছি। গরু ঘাস খায়…..
শিক্ষক: তুমি বার বার গরুর কথা বলছো।
ছাত্র: স্যার আপনি তো আমারে শেষ করতেই দিতেছেন না। আমি গরুরে মোটা তাজা কইরা টাইনা পানিতে নামাইয়া কুমির দিয়া শেষে খাওয়াইয়া দিমু তখন আপনি আর গরু পাইবেন না। সামনে শুধু কুমিরই দেখবেন।
যারা ধর্মান্ধ তাদের ইবাদতের উদ্দেশ্য শুধু জাহান্নাম এবং জান্নাত কাজেই। বিবেক এবং চিন্তাশক্তি তাদের কোন কাজেই আসে না। ঐ ছাত্র যেমন গরু ছাড়া জানে না। তথা কথিত আলেম সাহেবগন জাহান্নাম আর জান্নাত ছাড়া কিছুই চিনে না। জান্নাত তাদের নিজের জন্য বরাদ্দ রাইখা সকলরেই জাহান্নামেই পাঠাতে চায়।
রাছুল সা. এর হাদিস কোন ব্যক্তি বিশেষ বা কোন জাতির জন্য নয়। রাছুল সা. যাই বলেছেন তাঁর সকল উম্মতের জন্যই। উম্মত বলতে শুধু মানুষ নয়ই নয় কোরআন অনুযায়ী। আয়াত ৬:৩৮। যাই হোউক আমাদের আলোচনাটা যেহেতু মানুষের মধ্যে রাখছি।
কোরআনের একটি আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিতে বলতেই হয়। ৪২:৩০# তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
আমি একটি হাদিস কোট করছি আপনি চিন্তা করে দেখবেন আপনার উত্তর মিলবে আশা রাখি। মনে রাখতে হবে এই হাদিসে হিন্দু মুসলিমে কোন বিভেদ রাখে নাই।
{ “মান কুতেলা জুলমান ফাহুয়া শহীদ।”
যাকে জুলুম করে হত্যা করা হয় সে শহীদ }।
আমি এটা বুঝি কোন শহীদের স্থান জাহান্নামে হতে পারে না। কারণ আল্লা জুলুম করেই এই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। বিধর্মীদের মধ্যে এমন লোক পাওয়া যাবে। যারা কোন দিন অন্যের ক্ষতি করে নাই। তাহেল তাদের জাহান্নাম কিভাবে মানুষ নির্ধারন করতে পারে। আল্লা কোরআনে এমন কারোও কথা নাম বলেন নাই। যারা জান্নাত বাসি। মানুষে ভোটে জান্নাত পাওয়ার কোন উপায় নাই আল্লার দরবারে। রাছুল সা. আরো একটা হাদিস বলছি। সেটা বলেছেন।
আল্লা বলেন।
“মুমিনু এন্দাল্লাহ কাফেরু এন্দান নাস। কাফের এন্দাল্লাহ মুমিনু এন্দান নাস”।
অর্থাৎ-
আল্লাহ কাছে মুমিন মানুষের কাছে কাফের। আল্লার কাছে কাফের মানুষের কাছে মুমিন।
হাদিস দুইটি দিয়ে আলোচনা শেষ করলাম তাদের চিন্তার উপর ভার দিয়ে।
ফকির উয়ায়ছী আত্মশুদ্ধিতেই আত্মতৃপ্তি, স্রষ্টার নৈকট্য লাভেই মুক্তি, ফকির উয়ায়ছী


shundor