আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / ফকির উয়ায়ছী / প্রবন্ধ / আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-১

আল্লা রাছুল এবং পির এক হতে পারে না পর্ব-১

ফকির উয়ায়ছী-Fokir:

আমার এই লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা কোরআনের উপর সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসী এবং চিন্তাশীলদের জন্য। আমার অধিকাংশ লেখাই মারেফত পন্থিদের জন্য এবং সত্য অনুসন্ধানীদের জন্য। আমি আমার লেখার মাধ্যমে মানুষকে অনুসন্ধানী করতে চেষ্টা করি যাতে তারা নিজেদের বিবেকে প্রশ্ন উদয় হয় খোজ করে নিতে পারে সঠিক পথ এবং পাত্র। কেউ কেউ হয়তো ভাবেন আমি জ্ঞান তালাশ করছি। অনেকে উপদেশও দেন। একটা কথা সত্য যে আমি আশা করি সব জান্তা ইবলিশ হওয়ার চেয়ে শিখতে শিখতে মৃত্যু বরণই শ্রেয়। তবে আমার শিক্ষা নেওয়ার জন্য আল্লা এবং রাছুল সা. এর বানী এবং মারেফতের শিক্ষার জন্য আমার মুরশিদ কিবলাজানের শিক্ষার চেয়ে উত্তম শিক্ষা আজ অবদি পাইনি। তিঁনি আল্লা রাছুল সা. বিরোধী এমন শিক্ষা কথনো দেন নাই।

আজকের এই লেখাটি লিখার প্রয়োজনীয়তা অনুবভ করছি অনেকদিন আগে থেকেই। আমি জানি এই লেখাটির গ্রহন যোগ্যতা বেশীর ভাগ মারেফতের অনুসারীদের মধ্যেই পাবে না। কারণ যাদের মন মস্তিষ্ক পূর্বেই পরিপূর্ণ হয়ে আছে আল্লা বিরোধী কর্ম দিয়ে। পরিচালিত হচ্ছে আল্লা রাছুল সা. এর হুকুম বিরোধী পরিচালক দ্বারা। কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা। আমার মনের ভাবনা না ব্যক্ত করলে আমি পরিতৃপ্তির সাথে মরতে পারবো না। আর সন্তুষ্টতার সাথে মরার হুকুম তো আল্লাই দিয়েছেন। না হয় যে তিঁনিও সন্তুষ্ট হবেন না, এমনকি জান্নাতেও দিবেন না। এটা তো কোরআনেরই কথা। আল্লা কোরআনে বলেছেন সূরা ফজর শেষ আয়াতে উল্লেখ করেছেন

৮৯:২৭৩০# “হে প্রশান্ত মন, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট  সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর

আমি জান্নাতের প্রত্যাশী হয়ে সোয়াবের আশায় কিছু করি না। যাই করি লিখি সৃষ্টির কৃতজ্ঞতার থেকে দ্বায়ীত্ত্ব মনে করে। আল্লার এবং আমার সন্তুষ্টির জন্য আজকের লেখাটা। কারণ আল্লার সন্তুষ্টিই যে বেশী জরুরী। বর্ৎমান পির সাহেবগন একটি হাদিস ব্যাখ্যা করেন নিজেদের সপক্ষে মুরিদদের একান্ত আনুগত্য পাওয়ার জন্য। হাদিসটি নিন্মে উল্লেখ করেছি:

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্ তাআলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে। আমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেই। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়া। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি বুখারী: ৬৫০২

এই হাদিসটি মুরিদদের কাছে ব্যাখ্যা করে পির সাহেব আল্লা হয়ে যায়। সেই সমস্ত মুরিদগনের মধ্যে যারা শিক্ষিত তাদের একটু চিন্তা করতে বলবো। আমি সহজ করে বুঝানোর জন্য বলছি আপনারা স্ব স্ব অবস্থান থেকেই চিন্তা করবেন। যেমন কোন কোম্পানীর মালিক অথবা আর্মি জেনারেল তাদের অধিনস্ত বা পিয়নকে বলতেই পারেন। বলতেও দেখেছি তো পিয়ন নয় আমার বন্ধুর মতন। পিয়নকেই যদি বলে তুই তো আমার বন্ধু। এই কথার প্রেক্ষিতে পিয়নও যদি তার উপরস্থ ম্যানেজার বা মেজর পর্যায়ের কারো কাছে গিয়ে বলে আর্মির জেনারেল তো আমার বন্ধু। পরিনতি কি হতে পারে। এই কথাটা শিক্ষিত সে সকল মুরিদদের চিন্তা করতে বলবো যারা উপরোক্ত হাদিস দ্বারা আপনাদের পির সাহেবকে আল্লা ভেবে বসে আছেন তারই সামনে। কেন খেয়াল করছেন না যে আপনার পির আপনাদেরই সামনে বসে আছে কাপড়ে আবৃত হয়ে। বসে আছে কোন স্থানের উপর। ক্ষনে ক্ষনেই কিছু তার প্রয়োজন হচ্ছে আপনারা তাকে বাতাস করছেন না হয় তার দিকে ফ্যান ঘুড়িয়ে এসি হাওয়াটা তার দিকে দিতে চেষ্টা করছেন। এখানে একটি প্রশ্ন আসে আপনারা পিরকে যে আল্লা হিসাবে মেনে নিলেন আপনাদের পাশের দরবারেও যে একটি পির তার মুরিদদের নিয়ে বসেছেন। তারাও যে আপনারই মতন আল্লা মেনে বসেছেন। হায় হায় আল্লার ছড়াছড়ি লেগে যাবে যে (নাউজুবিল্লা) অথচ এক আল্লা সাক্ষ্য যারা না দিবে তারা যে কাফের দলের অন্তরভুক্ত। অনেক দরবারে গিয়ে দেখা যায় পির সাহেব কসম কাটিয়ে বলান মুরিদদেরকে বায়াত করার সময় আমাদের দরবারই উত্তম অন্য কোন দরবারে যাবেন না আপনারা। এটা বলার তো কোন কারণ থাকতে পারে না। পির যদি মুরিদের আল্লাই হবে তবে মুরিদ যদি দিকভ্রান্ত হয়ে যায় কোথাও ধরে আনতে পারবেন। যে সব মুরিদরা পিরকে আল্লা মনে করেন তাদের ঘরে বিপদ আপদ আসে কেন? পির সাহেবের ঘরের কেউ বা পির নিজেই অসুস্থ হবে কেন? এই বিশ্ব ভ্রহ্মান্ডের মালিক যিঁনি তিঁনি তোসামাদ” (নিষ্প্রয়োজন) আপনারা যখন পিরকে আল্লা মানেন তখন আমার প্রভুরসামাদনামটা কি মনে থাকে না। যদি মনে থাকতোসামাদ (নিষ্প্রয়োজননামটা তবে সামনে আরাম আয়েশে উপবিশ্ট কাপড় দ্বারা আবৃত আপনারই মতন একটি জীবকে আল্লা মনে করার কি যুক্তি থাকতে পারে? যে কিনা তার দেওয়লের ওপারে কি ঘটছে বলতে পারে না। আপনারা সত্যিই কি শিক্ষিত? নাকি বায়াত (বিক্রি) হওয়ার সময় চিন্তা শক্তি বিবেকটাকেই আগে বিক্রি করেছেন। আল্লা বলেছেন পবিত্র কোরআনে বলেছেন

৪২:১১# “লাইসা কামিছলিহি শাইউন অর্থৎতাঁর (আল্লার) কোন মেছাল (সাদৃশ্য) নাই আপনারা পির সাহেবের অবর্তমানে তার একখানা ছবি দেখিয়ে মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হবেন। এবং সে ছবি দেখেই মানুষ পির সাহেবকে চিনে নিতে পারবেন। অতএব পির সাহেবের সাদৃশ্য আছে। যারা অন্ধ বিবেকহীন মূর্খ তাদের কথা আলাদা। যারা পুথিগত বিদ্যায় শিক্ষিতরা বসে থাকেন সেসব পিরের সামনে সাদৃশ্য বলতে কি বুঝানো হয় কাকে সাদৃশ্ বলে সেটা যদি না বুঝেন তবে বিদ্যালয়ে পঠন বৃথা ধংশ হয়েছে সে সব বাবা/ মায়ের টাকা যারা অতি আদরে লক্ষ টাকা খরচ করে বিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন। তাকিয়ে দেখুন ভাল করে আপনার মতনই সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গ নিয়ে বসা আছে। আপনি যে জ্ঞান ভান্ডার আছে ভেবে তার কাছে গিয়েছেন সেটা তার কাছে থাকতে পারে না। আর যদি বিদ্যা থেকেও থাকে সে লোক ইবলিশ দ্বারা পরিচালিত বিপথগামী। জাহান্নামের রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই চিন্তা করে দেখবেন। আপনার কাছেও এমন অনেক জ্ঞান আছে সেটা আপনার পিরের কাছে নেই। শিক্ষা দেওয়াই তো ওস্তাদের (পিরের) কাজ। খেয়াল করে দেখবেন পির সাহেবকে আপনারই দেওয়া উপহারটার ব্যবহার শিখিয়ে দিতে হচ্ছে। তখন তো আপনি পির সাহেবের আল্লা হচ্ছেন না। অথচ এটাও তো আপনার জানা বিশেষ শিক্ষা যেটা পিরের সাহেবের কাছে নাই। ভুল ভাবার কোন কারণ নাই যে আমি পির বিরোধী। অবশ্যই পিরের কাছে প্রাপ্য জ্ঞানের জন্য সাধ্য অনুযায়ী মুরিদকে করতেই হবে। এক পির সাহেব তার বইতে লিখেছেন পির ধরাও জীবনের শেষ শেরেক। পিরের কাছে মানুষ কি ভাবে যায় সেটাও চিন্তার বিষয়। বায়াত হওয়ার কথা যে কোরআনে আছে। পির ছাড়া যে বায়াত হওয়া যায় না। পিরের এই কথা যদি মানি। তবে দেখা যাবে আল্লার হুকুমই শেরেক করার নাউজুবিল্লা। আল্লা এই কথা বলতে পারে না। যারা এমন কথা বলে মানে তারা আমার আল্লা বিরোধী।

অথচ আল্লা কোরআনে বলেছেন সূরা নিসা :৪৮#“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল” এই প্রসঙ্গে আগামী পর্বে লিখবো আশা রাখি। এই পোষ্টটির একটু দীর্ঘ হবে। চলবে……….

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

পুনরজন্ম নয় পুনুরুত্থান আল্লা বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য

ফকির উয়ায়ছী: এই তামাম বিশ্বের একক অধিপতি মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকে আবার পুনরুজ্জীবন দান …

4 comments

  1. এই বাইনচোদ তুই কে আর তুই কেন উল্টা হাদিস ভুল ব্যাখ্যা মানুষ কে দেছ?। তোর উপর আল্লাহর গজব অনিবার্য তাই সময় আছে এখনো জলদি তওবা করে এই ব্লগ বন্ধ কর। তা না হলে এই খুব দ্রুত বিপদ আপদের সন্মুখিন হবি।

  2. বাবা
    আপনার এই বিশেষ মুল্যবান বক্তব্যের খন্ডটি ভক্ত পক্ষের বয়ান বলে মনে হ’ল, আশা করি পরব’তি খন্ড গুলোতে আপনার অত্যন্ত গভীর আধ্যত্তবাদের বিষয়ে আমাদের জানাবেন। আপনার এহেন অমুল্য জ্ঞান এবং দোয়া প্রাপ্তির প্রত্যাশায় রইলাম।

    বাবা কেমন আছেন? আমি অধন এতিমের ও এতিম। এ জগতে অনেকের নিকট আপনজন হলেও আমি কাঊকে আপন করে নিতে পারি নাই। আমার খাসিলতের এ কোন দশা, যে খানে যাই সুধার আশে তথায় গড়ল ঘটে।

    • সা্লাম বাবাজান,

      আমি বড় দু:খিত অনেক দিন পর আপনার উত্তর লিখছি। আমি পর্ব সাধ্য অনুযায়ী লিখেছি। যদি পড়ে থাকেন জানাবেন।

      —–ফকির উয়ায়ছী

    • https://www.facebook.com/fokir.n.uws
      বাবাজান এটা আমার আইডি আলোচনার জন্য আপনার ইচ্ছা একান্ত কাম্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *