আজঃ [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
Home / অন্যান্য বিষয়াদী / ইফার সঠিক ফতোয়া দানকারীদের জানাই সাধুবাদ এবং কৃতজ্ঞতা

ইফার সঠিক ফতোয়া দানকারীদের জানাই সাধুবাদ এবং কৃতজ্ঞতা

ইফার সঠিক ফতোয়া দানকারীদের জন্য সাধুবাদ এবং কৃতজ্ঞতাফকির উয়ায়ছী:

চেয়ারে বসে নামায আদায় যায়েজ নয় ইসলামী ফাউন্ডেশন এই ফতোয়া দিয়েছে দেরীতে হলেও ইচ্ছা ছিল তাদের সাধুবাদ দেওয়ার জন্য। কিন্তু সময় মত না দিতে পাওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দু:খ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নাই। ইসলামী ফাউন্ডেশন আজ সঠিক ফতোয়া দেওয়ার পরও চাপের মুখে সে ফতোয়া অস্বীকার করলেও আল্লার দরবারে এই ফতোয়াকারীদের ফতোয়া কবুল হয়েই থাকবে অন্তত্য ফতোয়াকারীরা যদি মেনে চলেন। আমার মুরশিদ কিবলাজান কাশেফুল আছরার হযরত শাহ সৈয়দ বজলুর রহমান জুলকারনাইন উয়ায়ছী তিঁনার “আকীমুস সালাত ওয়াতুজ যাকাত কিতাবে” দৃঢ় ভাবেই উল্লেখ করেছেন আজ থেকে প্রায় পাচ বৎসর আগেই। যে চেয়ারে বসে নামায আদায় সঠিক নয়। সেমতে ইফা’র সেই ফতায়াদানকারী আলেম সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা সহ সাধুবাদ জানাই সত্য প্রকাশের জন্য। আপনারা হয়তো ক্ষমতাবানদের চাপে পরে মানুষের আমল যেন ব্যহত না হয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যাদের ঈমানের নাই ঠিক তাদের আমলে কি যায় আসবে? লোক দেখানো ঈবাদতকারীগন আপনাদের বিরোধীতা করে জিতে যেতে পারলেও দুনিয়াতে কিন্তু আল্লা তাদের জন্য রেখেছেন হোয়াইল দোজখ। একটি কথা মনে করিয়ে দিতে হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামায যিঁনি এনেছেন মেরাজ থেকে আল্লার অনুমোদন নিয়ে তিঁনি এই নামাজ এনেছেন তিঁনিই এর সর্বাঙ্গীক আইন কানুন নির্ধারন করেছেন। এর আহকাম-আরকান সব তিনিই এনেছেন। তিঁনিত একেক জনের নিকট এক এক রকম বর্ননা করেন নাই। এমনকি পবিত্র কোরআনেও নামাযের মধ্যে একবার রুকু দুইবার সেজদা করার কথা উল্লেখ নাই। আপনারা কোন অবস্থাতেই সংকোচ বোধ করবেন না যে আপনাদের সম্মানহানী হয়েছে আপনারা হারেননি বরং সত্য আজ হেরে গেছে। সত্য প্রকাশের পরও। আল্লা কোরআনে বলেছেন ২:৪২#“তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না”। দেরীতে হলেও আপনী (ফতোয়াদানকারী) সত্য প্রকাশ করেছেন।

দুনিয়ার বিচারে বিপথগামীরা দলে ভারী হবে বলেই পবিত্র কোরআনে আল্লা উল্লেখ করেছেন সূরা আনাম আয়াত। ৬:১১৬# “আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে”

চেয়ারে বসে নামায আদায় বৈধ নয় ফতোয়াদানকারী আলেম সাহেব চাইলে কোরআনের অনেক কিছুই এই ফতোয়ার পক্ষে বলতে পারতেন। তিনি হয়তো পরে বলতেন তার আগেই তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে! পবিত্র কোরআনে ৪:১০৩ নং আয়াতটি উল্লেখ করছি পড়ে চিন্তা করার জন্য।

৪:১০৩#“অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে”

উক্ত আয়াতটিতে দাড়িয়ে, বসে এবং শায়িত অবস্থায় যে সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াতটি ভাল করে পড়লেই দেখা যায়। আয়াতের শুরুতেই বলা হয়েছে “তোমরা যখন নামায সম্পন্ন কর” তারপর দাড়িয়ে, বসে এবং শায়িত সালাত কায়েম করার কথা বলা হয়েছে। কায়েমী সালাত আর ওয়াক্তিয়া সালাত এক জিনিষ নয়। সেটাও কোরআনে খুব স্পষ্ট করেই বলা আছে। ওয়াক্তিয়া সালাতের প্রথম শর্তই হচ্ছে নামায দাড়িয়ে পড়তে হবে। সূরা মায়িদার ৬ নং আয়াতে উল্লেখ আছে।

ইবাদতের নিদর্শন মেনে আল্লার হুকুম পালন করতে হয়। নামাযে দাড়ানো ভয় এবং সম্মানের, রুকু করা নিচু হয়ে সন্মান প্রদর্শন করা আর সেজদা হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে সমর্পন করা বিশ্বপ্রতিপালকের কাছে।

নামাযে ভিতরে এবং বাইরে আরও ১৩টি ফরজ আছে তা অবশ্যই পালণীয় একটি বাদ দিলেও নামায সঠিক হওয়ার কোন কারণ নাই। যেমন আহকাম:

১) জায়গা পাক। ২) কাপড় পাক। ৩) শরীর পাক। ৪) ছতর ঢাকা। ৫) কেবলামুখী হওয়া। ৬) সময় মত নামাজ পড়া।

আরকানঃ ১) নিয়ত করা। ২) তাকবীর তাহরীমা বলা। ৩) দাড়াইয়া নামাজ পড়া। ৪) রুকু করা। ৫) সিজদা করা। ৬) শেষ বৈঠক। ৭) দুই দিকে সালাম ফিরাইয়া নামাজ শেষ করা। নামাযের ভিতরের আরকান নং-২,৪ এবং ৫ কি করে চেয়ারে বসে আদায় হয় যখন? যেহেতু আপনি নামাযের নিয়তে উল্লেখ করেছেন “এক্কতেদায়িতু বিহাযাল ইমাম”। নিয়ত তো করলে ঠিকই কোথায় পালন করছেন? ঈমাম যখন দাড়ায়, রুকু করে এবং সেজদা দেয় আপনি তো চেয়ারে বসে করতে পারছেন না। নামাজের শুরুর এই নিয়তটাই তো মিথ্যা হয়ে যায়। নামায হবে কি করে। বর্তমানে নাযায নামক ইবাদতটি হয়ে গেছে পুরাপুড়ি লোক দেখানো। এক ব্যক্তির তারই গাড়িতে যাচ্ছি আর সে লোক গাড়ি চালাচ্ছে। আমি তার সাথে কথা বলছি ভদ্রলোকের মিসেস আমাকে বলছে তিনি নামায পড়ছে গাড়ি চালাতে চালাতে। আমি হতবাক হয়ে গেলাম শুনে আর মনে মনে ভাবছি নামাযে দাড়ানোর সময় জায়নামাজে দাড়িয়ে যে দোয়াটা পড়তে হয়। সেটাতে নিজেই আল্লার কাছে স্বীকারোক্তি আমরা দেই। ‘হে আল্লা নামাযে আপনাকে ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করলে আমি মুশরিক হবো’। অথচ এই লোক যে গাড়ির চালাতে চালাতে অন্য গাড়িতে ঠোকা লাগে কিনা চিন্তাতেই ব্রেকে পা দিয়ে আছে এমনকি ব্রেকও করতে হচ্ছে। হাস্যকর লাগে বলতে পারলাম না নামায শেষ করে আয়নাটা দেখুন মুশরিক (কাফের) দেখতে কেমন? আল্লার হুকুম তো মানতেই হবে যদি আল্লার ক্ষমা যারা আশা করে। আল্লা বলেছেন  ২:৪৩#“আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত (নতশিরে) হয়।”

একটি কথা উল্লেখ করা অতি জরুরী যখন মানুষ নামাযের আল্লাকে সেজদার যখন চেয়ারে বসে তখন তাদের পা দুটি কেবলা মুখী হইয়া থাকে। যেহেতু সেজদার সময় কিছু নিয়ম মেনেই সেজদা দিতে হয় শরীরের আটটি অঙ্গ মাটির সাথে দুই পায়ের বুড়া আঙ্গুল, দুই হাটু, দুই হাতের তালু, নাক এবং কপাল। আমার বিশ্বাস এই জন্যই আল্লা বলেছেন ৯৬:১৯# “আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন” সঠিক হুকুম পালন না করে আল্লাকে সিজদা দিলে আল্লা গ্রহন করবেন কেন? আর আল্লা যদি সেজদা গ্রহন না করেন তবে তো প্রতিটি সেজদাই শেরেকি সেজদাই হবে। কারণ সূরা নযম এর ৬২ আয়াতে আল্লার হুকুম “আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর”

নামায নামক আমলটাকে এমন করে ছেড়েছেন আমলকারীগন যাদের ঈমানই শক্ত হয়েছে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ বর্তমান জামানায় ঈমানের দাওয়াত কাউকে দিতে দেখা যায় না দাওয়াত দেওয়া হয় শুধু আমলের। আল্লা যত নবী পাঠিয়েছেন প্রত্যেকেই ঈমান আনার দাওয়াতই দিয়েছেন। আর আমলের দাওয়াত শুরু হয়েছে সাহাবাদের থেকে।

নামায কামেয় সম্পর্কে দেখা যায় রাস্তা বের হলেই সব ধরনের গাড়ি পিছনে পোষ্টারে বা বড় বড় হরফে লেখা নামায কায়েম কর। কায়েম শব্দটার সঠিক ব্যবহার কি হচ্ছে এটা আমার মনের প্রশ্ন? জানা দরকার কায়েম অর্থটি তারপর জানা দরকার কিভাবে কায়েম হবে?

কায়েম শব্দটি অভিধানিক বাংলা অর্থ হচ্ছে- অবিরত, প্রতিষ্ঠিত, খাড়া, এবং সর্বদা। আপনি আরবী হইতে বাংলা অভিধানটি ‍খুললেই আমার সাথে দ্বিমত করার কোন সুযোগ পাবেন না। আমাদের আলেম সাহেবগন মাদ্রসার শিশুদের ছোট বেলা থেকে শিক্ষা দিয়ে আসছেন ৫ ওয়াক্ত নামায জামাতের সহিত পড়াই হলো কায়েম করা। নিজে পড়া এবং সবাইকে নিয়ে জামাতে পরার নামই কায়েম করা। হাঁয়রে কপাল! আল্লাহ পবিত্র কোরআনের একাধিক বারই বলেছেন যার যার বোঝা তাকেই বহন করতে হবে। তবে জামাতে নামায আদায় করলেই কায়েম হবে কি করে? কায়েম শব্দটি যেহেতু অবিরত সেহেতু আপনার নামাযের সাথে তো আমার নামায শুরুও হয় না শেষও হয় না। যে ওয়াক্তে আমি বাড়িতে বা অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকি তবে তো আপনাদের নামায কায়েম হয় না। যেহেতু আমাকে সামিল করতে পারেন নাই। আর যার যার কায়েমী নামায যদি তার তার হয় তবেই সেটা কায়েম করা সম্ভব। কারণ আল্লাহ বলেছেন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সালাত(উপাশনা/স্মরণ) কায়েম করতে ১৯:৩১ আয়াত। আমরা একসাথে জন্মাইও না মরবোও না। আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই কায়েম যার যার তার তার যেমন আল্লা কোরআনে বলেছেন যার যার বুঝা তাকেই বহন করতে হবে।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা মরিয়াম এর ১৯:৩১ নং আয়াতে সালাত কায়েম (অবিরতভাবে, নির্বিছিন্ন, বিরতিহীন) করতে বলেছেন জন্ম হইতে মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। কই আমরা তা করছি? মনে করেন কেউ এশার নামায আদায় করতে লাগে ১৫,২০,২৫ মিনিট বৃদ্ধ মানুষের বেশীর মধ্যে ৩০ মিনিট তাহলে কিভাবে সমতা হয়। আমি সাধারন ভাবে আলোচনার মাধ্যমে কায়েম শব্দটি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে চাই।

১/ একটি শিশু মাতৃগর্ভে ৯ মাস ১০দিন কায়েম থাকার পর ভুমিষ্ট হয়। শিশুটি কিন্তু সব সময়ের জন্যই মায়ের পেটেই থাকে সে কিন্তু মাঝে মাঝে বের হয় না বাচ্চাটি স্থায়ী সেখানে। ২/ তিন দিন ধরে অবিরত বৃষ্টি হচ্ছে। ৩/ পাচ বছর স্থায়ীভাবে আমার ভাই বিদেশে আছে। ৪/ সরকারী অফিস টাইম সকাল ৯টা হতে ৫টা এই সময়টুকু সরকারী চাকুরীজীবিদের জন্য কায়েমী সময়। সরকারী কর্মচারীদের জন্য ঐ অফিস সময়টা অন্য কোন কাজ করা বৈধ নয় পিয়ন থেকে শুরু করে উর্ধতন কর্মকর্তা পর্যন্ত। আর আল্লা মানুষের জন্য কায়েমী সময় বেধে দিয়েছেন কোরআনের আয়াত অনুযায়ী ১৯:৩১ নং আয়াতে আল্লার কায়েমী সময়টা হচ্ছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। কাজেই চিন্তা করে দেখার অনুরোধ রইলো নামাযীগনদের প্রতি আর ইফার প্রতিও অনুরোধ রইল যেটা সঠিক সেটাই বহাল করে দেশের সমস্ত মসজিদগুলিকে খবর পৌচ্ছে দেওয়া রমযান শুররি আগেই। মনে রাখা জরুরী ধর্মে কোন জবদস্তি নেই এটাই আল্লার হুকুম।

About Fokir Owaisi

আরও দেখুন

রাছুল সা. এর প্রকৃত উম্মতদের সতর্ক জন্য পর্ব-৭ শেষ

ফকির উয়ায়ছী: উম্মতে মুহাম্মদির জন্য ব্যক্তি বিশেষের কথা কতটুকু মুল্যায়িত হতে পারে? সেটাই জ্ঞানীগনদের বিবেচনা …

2 comments

  1. Thanks a lot for post this type of post. i have known very well about salat. It help us to our next way of life. Again thanks for sharing with us…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *